15/03/2026
একদা রাসূলুল্লাহ ﷺ হযরত ওমর (রা.)-কে সাথে নিয়ে নাবত নামক বাজারের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন। এমতাবস্থায় একজন নারী তাঁর সামনে এসে আরজি পেশ করলেন, "হে আল্লাহর রাসূল! আমি আমার স্বামীর সাথে ঘরে এমনভাবে থাকি যেন আমরা দুজনই নারী (অর্থাৎ তাদের মধ্যে কোনো দাম্পত্য সম্পর্ক বা ভালোবাসা নেই)।
অথচ আমি একজন মুসলিম নারী হিসেবে সেটাই কামনা করি যা অন্য মুসলিম নারীরা কামনা করে।"
নবীজী ﷺ বললেন, "তাকে (স্বামীকে) আমার কাছে নিয়ে এসো।"
লোকটি আসলে নবীজী ﷺ তাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার স্ত্রী যা বলছে সে বিষয়ে তোমার বক্তব্য কী?"
লোকটি কসম খেয়ে বলল, "হে আল্লাহর রাসূল! যিনি আপনাকে সত্যসহ পাঠিয়েছেন তাঁর কসম, তাঁর সাথে মিলিত হওয়ার পর আমার মাথার গোসলের পানি এখনো শুকায়নি (অর্থাৎ আমি তো তাকে সময় দিই)।"
তখন স্ত্রী বললেন, "হে আল্লাহর রাসূল! মাসে কি একবার মিলনই যথেষ্ট?" নবীজী ﷺ মহিলাকে জিজ্ঞেস করলেন, "তুমি কি তাকে ঘৃণা করো?" মহিলা বললেন, "হ্যাঁ, যিনি আপনাকে সম্মানিত করেছেন তাঁর কসম (আমি তাকে ঘৃণা করি )।"
নবীজী ﷺ বললেন, "তোমাদের দুজনের মাথা আমার কাছাকাছি করো।" এরপর তিনি তাদের দুজনের কপাল তাঁর পবিত্র চেহারার কাছে রাখলেন এবং দোয়া করলেন:
"হে আল্লাহ! তাদের দুজনের মধ্যে মিল মহব্বত সৃষ্টি করে দিন এবং একজনকে অন্যজনের কাছে প্রিয় করে দিন।"
এর কয়েকদিন পর নবীজী ﷺ পুনরায় সেই পথ দিয়ে যাচ্ছিলেন। দেখলেন সেই নারীটি তাঁর স্বামীর চামড়ার ব্যবসার কাজে সাহায্য করার জন্য ঘাড়ে করে চামড়া বহন করছেন। নবীজী ﷺ ওমর (রা.)-কে বললেন, "হে ওমর! এটি কি সেই নারী নয়, যে সেদিন অভিযোগ করেছিল?"
নারীটি নবীজীর কণ্ঠস্বর শুনে চামড়া ফেলে দৌড়ে এসে নবীজীর পা মোবারক চুম্বন করতে লাগলেন। নবীজী ﷺ জিজ্ঞেস করলেন, "তোমার ও তোমার স্বামীর এখন কী অবস্থা?"
নারীটি আবেগাপ্লুত হয়ে বললেন,
"যিনি আপনাকে সম্মানিত করেছেন তাঁর কসম! এখন দুনিয়াতে আমার সন্তান ও পিতা-মাতার চেয়েও আমার স্বামী আমার কাছে বেশি প্রিয়!"
এই দৃশ্য দেখে নবীজী ﷺ বললেন, "আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আমি আল্লাহর রাসূল।" হযরত ওমর (রা.)-ও বলে উঠলেন, "আমিও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আপনি আল্লাহর রাসূল।"
সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
© Salman Farsi
সূত্র: দালাইলুন নবুওয়্যাহ