17/04/2026
গিফট
গিফট পেতে কার না ভালো লাগে, আমার একটু বেশিই ভালো লাগে। আমি দিতে অভ্যস্ত। গিফট যত ছোট বা বড়ই হোক না কেন, আমার কাছে মানুষের ভালোবাসাটাই ম্যাটার করে। আমি লাইফে গুছিয়ে গিফট খুব কম পেয়েছি, না পেলেই চলে। তার উপর সারপ্রাইজ গিফট আমার ছোট বোন ছাড়া কারো থেকে পাইনি ।।
আমি সুপারশপে ক্যাশিয়ার হিসেবে কাজ করি। মানুষের সাথে ভালো ব্যবহার, হাসিমুখে কথা বলাটাই আমার কাজ। আমি আমার লাইফে অনেক ছোট কাজও খুব মন দিয়ে করেছি। আব্বু বলতো, কোনো কাজই ছোট না। আর ট্রেনিং দিয়েছে আমার সেকেন্ড ফাদার—আমার মামা, যার ঋণ আমি কখনোই শোধ করতে পারবো না, চাইও না।
এই গিফটটা দিয়েছে আমার একজন র্যান্ডম কাস্টমার, যে দুই কি তিনবার আমার সাথে কথা বলেছে। জাস্ট র্যান্ডমলি আমি শুধু হাসিমুখে তার ব্যাগ প্যাক করে দিয়েছি, যেটা আমার কাজ। উনি আমাকে বললেন, “I want to gift you a small thing, do you accept?” আমি একদম শকড—এই মহিলা কি বলছে! আমার সুপারভাইজারকে রিকোয়েস্ট করে আমার নামে এই ৮০ ডলারের প্যানটা দিয়ে গেছে। যেখানে আমার সুপারশপ Coles কখনো কোনো টিপস বা গিফট এক্সেপ্ট করে না, সেখানে এই ৩ সপ্তাহে আমার টিপস ৪০ ডলারের বেশি। আমার সুপারভাইজার বলেছে, Coles-এর সার্ভিস ইতিহাসে তার ১০+ বছরে এমনটা দেখেনি।
এটাই আমার অ্যাচিভমেন্ট। আমার কাছে সাকসেস মানে মানুষের ভালোবাসা। বাংলাদেশে আমি রেসপেক্ট আর ভালোবাসা কামিয়ে এসেছি—পিয়ন থেকে শুরু করে CEO, সবার ভালোবাসা আর্ন করেছি।
নতুন দেশ নিয়ে যদিও নার্ভাস ছিলাম, কিন্তু হ্যাঁ, আমি কখনো হোপ ছাড়িনি, ছাড়বো না। আমার Director of Operations ছিলেন একজন, উনি যদিও বেশিদিন ছিলেন না—ডেঙ্গুতে মারা গেছেন। উনি একবার বলেছিলেন, “Esha, আপনার হাসি দিয়েই আপনি সবকিছুর মোকাবিলা করতে পারবেন। আপনার সাফল্য আসবেই, কারণ অনেক কঠিন পরিস্থিতিতেও হাসিমুখে প্রোবলেম ফেস করার পাওয়ার সবার থাকে না।”
বাবার মতো সবার দোয়া নিয়ে বাঁচতে চাই, মামার মতো ফাইটার হতে চাই—এতটুকুই তো জীবন।
আজকে আমি অনেক খুশি। সবাই আমার জন্য দোয়া করবেন, যেন আল্লাহ আমাকে এতটুকু তৌফিক দেন যাতে আমি আমার পরিবারের সবার হাসির কারণ হতে পারি। 🤍