27/08/2025
যমযমের পানির বরকত
হযরত মাওলানা জা'ফর আহমদ উসমানী রহ. বলেন— “আমার প্রথম হজ্বে আমি যমযমের পানি পান করেছিলাম দ্বীন ও দুনিয়ার বহু বিষয় হাসিল করার উদ্দেশ্যে এবং এর অধিকাংশই ফল লাভ করি। এরপর দ্বিতীয় হজ্বে আবারও কিছু উদ্দেশ্যে যমযম পান করেছিলাম, তার অনেকগুলোতেই সফল হয়েছি। তৃতীয় হজ্বে পান করেছি কিছু উদ্দেশ্যে, যা আমি আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তাআলার কাছে আশা করি তিনি আমাকে তা দান করেছেন।
আমার জিহ্বায় একটি গুরুতর তোতলামি (জড়তা) ছিল, যা আমাকে মাদ্রাসায় পাঠদান এবং মিম্বারে খুতবা প্রদানে বাধাগ্রস্ত করত। কিন্তু প্রথম হজ্বে যমযমের পানি পান করার পর আমি আর এ প্রতিবন্ধকতায় ভুগিনি। বরং আমি অনুভব করলাম যে, আমার মধ্যে পাঠদান ও খুতবা প্রদানের সামর্থ্য এসেছে।
তারপর আমার স্বদেশে ফিরে আসার দুই মাস পর আমাকে মাজাহিরুল উলূম সাহারানপুরের শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হলো। সেখানে আমি সাত বছরেরও বেশি সময় ধরে পাঠদান করি। আমার পাঠদান সাধারণ ছাত্রদের কাছে যেমন প্রিয় হয়েছিল, তেমনি বিশেষভাবে মাদ্রাসার নাযেম হযরত মাওলানা খলীল রহ. এর নিকটেও প্রিয় হয়েছিল।
এরপর আল্লাহ তাআলা তাঁর অনুগ্রহ ও করুণায় আমাকে পূর্ণ দক্ষতা দান করেছেন খুতবা, ওয়াজ ও নসীহতের ক্ষেত্রে। শ্রোতাদের অন্তরে তিনি আমার জন্য গ্রহণযোগ্যতা রেখেছেন। আল্লাহরই জন্য সমস্ত প্রশংসা, যেভাবে তিনি এর হকদার। আর দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক তাঁর নবী, আমাদের নেতা মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের পরিবার ও সাহাবাগণের ওপর।”
(এ'লাউস সুনান ১০/৪৬৪)