26/07/2026
ভুলতা-নরসিংদী ১৩২ কেভি লাইনের মেরামত চলমান,
স্বাভাবিক হতে আরও ৪ দিন
চাহিদার বিপরীতে মিলছে মাত্র ৪১ শতাংশ বিদ্যুৎ,
মোঃ জয়নাল আবেদীন
লোডশেডিং অব্যাহত থাকার আশঙ্কা ভুলতা-নরসিংদী ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইনের ক্ষতিগ্রস্ত অংশে জরুরি মেরামত কাজ চলমান থাকায় নরসিংদীসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে আরও চার দিন সময় লাগবে বলে জানিয়েছে পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষ। এতে করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, নরসিংদী এবং আশপাশের পল্লী বিদ্যুৎ গ্রাহকদের নির্ধারিত সময়ের বাইরে অতিরিক্ত লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি অব্যাহত থাকতে পারে। জানা গেছে, গত ২৩ জুলাই ২০২৬ রাত ১২টা ১০ মিনিটে ভুলতা-নরসিংদী ১৩২ কেভি সঞ্চালন লাইনের Y ফেজের কন্ডাক্টর ছিঁড়ে যায়। এতে বিদ্যুৎ সঞ্চালন ব্যাহত হলে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে জরুরি ভিত্তিতে মেরামত কার্যক্রম হাতে নেয় পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষ। রোববার (২৬ জুলাই) সকাল থেকে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানে ৫ স্প্যান কন্ডাক্টর পরিবর্তনের কাজ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, কাজটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও কারিগরি হওয়ায় এটি সম্পন্ন করতে আরও প্রায় চার দিন সময় লাগবে। কাজ শেষ হওয়ার পরীক্ষামূলকভাবে লাইন চালু করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হবে। এদিকে বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ না রাখতে বিকল্পভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া গ্রিড উপকেন্দ্র থেকে নরসিংদী গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ অব্যাহত রাখা হয়েছে। তবে এই বিকল্প ব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় চাহিদার তুলনায় অনেক কম বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বর্তমানে নরসিংদী গ্রিডের মোট বিদ্যুৎ চাহিদা ২১৫ মেগাওয়াট। কিন্তু বিকল্প উৎস থেকে সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৯০ মেগাওয়াট, যা মোট চাহিদার প্রায় ৪১ শতাংশ। ফলে বিদ্যুতের ঘাটতি মোকাবেলায় বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোড ব্যবস্থাপনা ও লোডশেডিং করতে হচ্ছে। এ বিষয়ে নরসিংদী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর জেনারেল ম্যানেজার জানিয়েছেন, পাওয়ার গ্রিডের মেরামত কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ সীমিত থাকবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গ্রাহকদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, মেরামত কাজ শেষ হলে ধাপে ধাপে পূর্ণ সক্ষমতায় বিদ্যুৎ সরবরাহ পুনরায় চালু করা হবে। এদিকে দীর্ঘ সময় ধরে বিদ্যুৎ সংকটের কারণে আবাসিক গ্রাহকদের পাশাপাশি শিল্প-কারখানা, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, সেচ কার্যক্রম এবং ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও দুর্ভোগে পড়েছেন। বিশেষ করে প্রচণ্ড গরমে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বেড়েছে।
পাওয়ার গ্রিড কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ সম্পন্ন করতে প্রকৌশলী ও কারিগরি কর্মীরা দিন-রাত নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছেন। নির্ধারিত সময়ের আগেই মেরামত কাজ শেষ করার সর্বোচ্চ চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ সরবরাহও আগের মতো স্বাভাবিক হয়ে আসবে।