রাদিয়া ইসলাম ঊষা Radiya islam usha

রাদিয়া ইসলাম ঊষা Radiya islam usha আমি কোনো পেশাগত লেখিকা নই। আমার ভালো লাগে নিজের কল্পনা গুলোকে বাস্তব রুপ দিতে। তাই লেখালেখির এই ক্ষুদ্র প্রয়াস..!☺️

🐧রাদিয়া ইসলাম ঊষা 🐧

19/08/2026

কোনো এক অভাগী যে কি না বাস্তবে এগুলা সহ্য করছে। অথচ যদি তা গল্প হতো তাহলে জীবন টাই বদলে যেতো তার। 😓😅

কি ব্যাপার পাখিরা আপনারা গল্পে কোনো রেসপন্স দিচ্ছেন না যে? গল্প কি ভালো লাগছে না আপনাদের?
#অবেলায়_আপনি
#রাদিয়া_ইসলাম_ঊষা
#গল্প_ফ্যাক্ট #ফরইউ

( এখানে অনেক অস্বাভাবিক ভাষার ব্যবহার করা হয়েছে। যা সাধরন শুদ্ধ ভাষা নয়। বরং গ্রামের ভাষা। তাই কেউ দৃষ্টিকুটোর নজর থেকে ...
17/08/2026

( এখানে অনেক অস্বাভাবিক ভাষার ব্যবহার করা হয়েছে। যা সাধরন শুদ্ধ ভাষা নয়। বরং গ্রামের ভাষা। তাই কেউ দৃষ্টিকুটোর নজর থেকে দেখবেন না।)

ফজরের আজান হতেই বিছানা ছেড়ে উঠে আসে সুনাইরাহ৷ সারারাত এক বিন্দু ও ঘুম হয় নি তার। কারন টা অনেক জটিল। আজ সে তার পরিবারের সব মায়া ত্যাগ করে একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ বাসা থেকে পালিয়ে যাবে সে। এখানে সে থাকতে পারবে না৷ দমবন্ধ কর একটা পরিস্থিতি। যেখানে সে নিজের পরিবারের কাছে নিজের ভাইদের কাছে নিরাপদ নয়, সেখানে থাকার কোনো মানে হয় না। সবার কাছেই নিজের পরিবার আশ্রয়স্থল। নিজের পরিবারের কাছে থাকলে নিজেকে নিরাপদ মনে হয়। অথচ সেখানে তার পরিবারই তার উপর কালো নজর দিয়েছে। সে বুঝে উঠে না কেনো তার সাথে এমন হয়? সে মাত্রা অতিরিক্ত সুন্দর বলে নাকি তাদের নজরই খারাপ? সেই ১১ বছর বয়সে একবার তার সৎ ভাইয়ের খারাপ স্পর্শের ভুক্তভুগি হয় তাতে। সে রাতে সে এই ছোট্ট বয়সেই বুঝে ফেলেছিলো যে তার সৎ ভাই তার সাথে ভালো কিছু করবে না। বাড়িতে আর কেউই ছিলো না তখন সে এবং তার সেই সৎ ভাই ছাড়া। সৎ মা ও ছিলো পাড়ার মহিলাদের সাথে খতমে। গ্রামে একটা প্রচলন রয়েছে কেউ মারা গেলে কিংবা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে মহিলাদের নিয়ে তাসবিহ পড়েন। দোয়া দুরুদ হয়। সুনাইরাহ এর সৎ মা ও সেদিন গিয়েছিলেন। অন্যান্য সময় সুনাইরাহ ও সাথে যেতো। কিন্তু সেরাত ঘুমের জন্য সাথে যায় নি সে। আর সে রাতই হলো তার জন্য বিভীষিকাময় হয়ে উঠে। তারপর এগারো বছরের ছোট্ট সুনাইরাহ ঘুমের ভান করে থাকায় একটু নিস্তার পেয়েছিলো। তার সৎ ভাই সেদিন থাকে অনেক করে ডেকেছিলো কিন্তু সুনাইরাহ এর সাড়া না পাওয়ায় এবং ওই মুহূর্তে সুনাইরাহ এর সৎ মা চলে আসায় সুনাইরাহ কে নিজের বিছানায় রেখে ফয়সাল ( সুনাইরাহ এর সৎ ভাই) দরজা খুলে দেয়। দু রুমের একটা টিন সেট ঘর ছিলো তাদের। এক রুমে সুনাইরাহ এর বড় সৎ ভাই ফরওয়াদ তার স্ত্রী কে নিয়ে থাকতেন। কিন্তু সে বিদেশ ছিলো। তাই ফরওয়াদ এর স্ত্রী রুপা তার দু ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে থাকতেন। আর পাশের রুম টাতে থাকতেন সুনাইরাহ এর সৎ মা পারভীন বেগম৷ সুনাইরাহ, সুনাইরাহ এর আপন ছোট ভাই সারওয়ার ও সুনাইরাহ এর সৎ ভাই ফয়সাল।
সুনাইরাহ এর বাবা মুলত দু বিয়ে করেন। সুনাইরাহর মা দ্বিতীয়। সুনাইরাহ এর বাবা ফজলুর রশীদ ছিলেন সেকালের বিত্তবান লোক। জায়গায় জমি ছিলো অঢেল। বড় স্ত্রী রুপা বেগমের গর্ভে পরপর তিনটা ছেলে হয়। কিন্তু কোনো মেয়ে না হওয়ায় তিনি বিয়ে করেন সুনাইরাহ এর মা সায়মা বেগম কে। বিয়ের পর শুরু হয় সায়মা বেগমের উপর নির্যাতন । রুপা বেগম তার তিন সন্তান মিলে অত্যাচার করতো সায়মা কে। সায়মার বয়স আর কতো মাত্র তেরো বছর। সৎ মা টাকার লোভে এই তিন সন্তানের জনকের কাছে বিয়ে দিয়ে দেন। সায়মার মা মারা যাওয়ার পর সায়মার ছয় বোন ছাড়া কোনো ভাই না থাকায় সায়মার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। কিন্তু সেই মা আসার পরই শুরু সায়মাদের বোনদের উপর অত্যাচার। তখন সাময়ার বড় বোনের বিয়ে টা মাত্র হয়েছিলো। সায়মার বড় দু বোন৷ সেই হিসেবে সৎ মায়ের অত্যাচার থেকে বিয়ে হওয়ার পর শুরু হয় আরো অত্যাচার। শুধু রুপা বেগম এবং তার সন্তানরাই অত্যাচার করে ক্ষান্ত হতো না বরং সুনাইরাহ এর ফুফু রা ও অত্যাচার করতো সমানতালে। ফজলুর রশীদের ছয় বোন এবং তিনি একাই ছিলেন। সেই হিসেবে ফজলুর রশীদের প্রায় পাঁচ বোনই অত্যাচার করতো সায়মার উপর। শুধু একজন মাঝে মাঝে লুকিয়ে দেখে যেতো সায়মা কে। এই অত্যাচারের কিছুই ঘুনাক্ষরে ও জানতে পারতেন না ফজলুর রশীদ। তিনি সবসময় শহরের গঞ্জে থাকতেন। এজন্য এসবের কিছুই আচ করতে পারেন নি তিনি৷ এতো অত্যাচারের মাঝে ও মুখ বুঝে পড়ে থাকতো এক মুঠো ভাতের জন্য। কারন তার যে বাড়িতে ও অত্যাচারিত হওয়া লাগতো। ভাত পেতো না।
সে হিসাবে এ বাড়িতে এক মুঠো ভাত তো পায় এটাই অনেক। ফজলুর রশীদ গঞ্জে যাওয়ার আগে গ্রামের বাজার থেকে দু হাত ভর্তি বাজার সাদাই করে দিয়ে যেতেন দু স্ত্রী কেই। এই অত্যাচারের মাঝেই সায়মার কুল আলো করে একটি ছেলে হয়৷ আলো নাকি ঠিক অন্ধকার ঠিক বলতে পারবে না সে। কারন পরপর তিন ছেলের জন্য ই ফজলুর রশীদ দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তবে সন্তান হওয়ার পর কোনো অত্যাচার হয় নি সায়মার উপর। এতে যেনো আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে রুপা। সাইবান ( সুনাইরাহ এর বড় ভাই) এর জন্মের পাঁচ বছর পর সুনাইরাহের জন্ম হয়৷ পুরো মহল্লায় মিষ্টি খাওয়ান ভদ্র লোক। উনার খুশি দেখে কে। কিন্তু সুনাইরাহ এর বাবা ও ভালো মানুষ ছিলেন না তেমন। কত রাত মেয়েকে কুলে নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে মাঝরাতে নিজের বোনের বাড়িতে গিয়ে উঠতো সায়মা।
সেই দিন গুলি কতই না ভয়াবহ ছিলো। ধীরে ধীরে সুনাইরাহ বেড়ে উঠে। কিন্তু ওইযে যার বিভীষিকা লাগে তার সবদিক দিয়েই লাগে। সুনাইরাহ এর যখন বয়স পাঁচ ঠিক তখনি সুনাইরাহ এর আরেকটি ভাই হয়। তখন সুনাইরাহ বা ওর ভাই কেউই তেমন বুঝতো না। যার ফলে মায়ের সাথে হওয়া অন্যায়ের প্রতিবাদ কখনো করতে পারেনি সে। তাইবানের ( সুনাইরাহ এর ছোট ভাই) যখন ১৪ মাস বয়স তখন সায়মা বেগম সেই অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে সন্তানদের নিয়ে চলে যান। কিন্তু ওইযে যাদের টাকা আছে তারা বৃহত পাপকে ও সহজে ঢেকে ফেলতে পারে। এমনই হলো সায়মার সাথে। টাকার বিনিময়ে মামলা মোকদ্দমা করে তিন সন্তান কে চিনিয়ে আনেন ফজলুর রশীদ। সেদিন সায়মার কিছুই করার ছিলো না। কেবল ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে থেকে অশ্রু বিসর্জন দেওয়া ছাড়া। কিইবা করবে সে? তার তো এতো টাকা নেই। যার জন্য নিজের নাড়ী ছেড়া ধনদের ও নিজের কাছে রাখতে পারেন নি। সেই জুলুমকারী দের সাথে তিনি সেদিন পারেন নি। সেদিনের পর থেকে ফজলুর রশীদ নিজেই তিন সন্তান কে রান্না করে খাওয়াতেন। কিন্তু তাইবানের যখন তিন বছর বয়স তখন মারা যান ফজলুর রশীদ। এ যেনো ঘোর অমানিশা নেমে আসে সুনাইরাহ দের উপর। এদিকে তার সৎ মা এবং ভাইরা রটিয়ে দেয় যে সায়মা বেগম কে নাকি ফজলুর রশীদ তা*লা*ক দিয়েছেন। কিন্তু সায়মা বেগম বারবার বলেছেন তাকে তালাক দেওয়া হয় নি। কিন্তু কে শুনে কার কথা। তার সেই হৃদয় বিধারক কান্না, সেই অশ্রুসিক্ত আকুতি মিনতি কারো মনেনদাগ কাটেনি। কেউ সায়মা বেগম কে সেদিন ফজলুর রশীদের জন্য ইদ্দত টা অব্দি পালন করতে দেওয়া হয়নি। ছোট্ট সুনাইরাহ সেদিন মাকে ছাড়তেই চাইছিলো না। কিন্তু সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে সায়মা বেগম তাদের কে তাদের বাবার বাড়িতেই রেখে যান। এখানে থাকলে অন্তত দু মুঠো খেতে পারবে৷ যুবক হলে নিজের হক নিজে বুঝে নিতে পারবে। এখন যদি নিজের সাথে নিয়ে যায় তাহলে তার সন্তানরা তাদের হক থেকে বঞ্চিত হবে।
আর উনি একজন মহিলা হয়ে তিনটা সন্তান নিয়ে যাবেনই বা কোথায়?
যার জন্য একরকম বাধ্য হয়েই তিনি সন্তানদের সেই নরপিশাচ দের কাছে রেখে যান। সাইবান যদি ও অল্প অল্প সবকিছুই বুঝতো তখন। তবে সে সেই যুবক ভাইদের সাথে কিছুই করে পেরে উঠতে পারতো না।

দিন যায় রাত আসে। কালের ঘুর্নায়মানে সুনাইরাহ রা একটু বড় হয়। তবে সেই বড় হওয়া অন্যান্য চার-পাঁচ টা বাচ্চাদের মতো ছিলো না। ফজলুর রশীদের জায়গা জমি বেশি থাকায় সেখানে ফয়সাল কৃষি কাজ করতো। সে ছিলো তীক্ষ্ণ বুদ্ধি সম্পন্ন। পড়া লেখা ও ছিলো। তখন ফরওয়াদ এবং তার মেঝু ভাই ফারদিন ছিলো বাহিরে। বিদেশের মাটিতে। যার ফলে পুরো বাড়ির দেখাশুনার দায়িত্ব এসে বর্তায় ফয়সালের উপর। সে কৃষি করে সেই শাক সব্জি সুনাইরাহ এবং সাইবান কে দিয়ে গ্রামের বাজারে পাঠাতো বিক্রির জন্য। সারাদিন ভাই বোন দুজন মিলে বিক্রি করো টাকা পাই টু পাই হিসেব করে ফয়সাল কে দিতো। পাঁচ টাকা থেকে দু টাকার একটু হেরফের হলেই শুরু হতো তাদের কে মার। সেই মারের জন্য দুজনই ফুপিয়ে কাদতো। তাছাড়া আর কিছু ই করার ছিলো না। সাইবান সুনাইরাহ ছিলো অনেক মেধাবী। সেজন্য তারা পড়ালেখায় ও ভালো ছিলো। সবাই অনেক কদর করতো তাদের মেধাবী হওয়ার কারনে। সায়মা বেগম তখন পেটের তারনায় পাড়ি জমান দুর বিদেশ নামক দেশে। কিন্তু তার এই বিদেশ যাওয়াকে ও ফয়সাল রা কটু চোখে দেখে। এবং খারাপ মন্তব্য করে। সায়মা নাকি বে*শ্যা। বে*শ্যাগিরি করার জন্য বাহিরে গিয়েছে। কিন্তু কেউ কি জানতো নিজ বাবা বাড়ি হীন, স্বামী বিহিন সে কিভাবে খেতো। কিভাবে চলতো? কেউ কোনো কিছু না জেনেই এতো কিছু বলতো। সব নিরবে সহ্য করে নিতো সায়মা।
হঠাৎ একদিন মায়ের সাথে দেখা করার জন্য সুনাইরাহ চলে যায় তার দুঃসম্পর্কের এক নানুর বাসায়। যিনি সায়মা বেগমের খালা। তখন সবে মাত্র দেশে আসেন সায়মা। নিজের মেয়েকে আগলে নিয়ে সে কি কান্না কেদেছিলেন তিনি। কখন যে বেলা গড়িয়ে গিয়েছে তা সুনাইরাহ কিংবা সায়মা কেউই বুঝতে পারে নি। যখন সায়মা বেগমের মস্তিষ্ক সচল হয় তখন তিনি মেয়ে কে অতি যত্নে সুধান...

" আম্মু এখন বাড়ি চলে যাও। নয়তো তোমার ভাইয়া তোমাকে মারবে.!
কিন্তু ছোট্ট সুনাইরাহ তখন মায়ের কাছ থেকে আসতে নারাজ। কত করে বুঝিয়েছেন তারপর ও বুঝেনি মেয়েটা। সে বারবার বলছিলো...

" আমি তোমার কাছে থাকমু আম্মা। আমারে তোমার কাছে রাহো। আমি তোমার কাছ থাইকা কোথাও যামু না। "

অগত্যা সায়মা বেগম কে হার মানতে হয় মেয়ের কাছে। সেই রাত টা মেয়েকে নিজের কাছে রেখে দেন তিনি। পরেরদিন সকাল বেলা যখন সুনাইরাহ কে খাইয়ে দাইয়ে পরিপাটি করে সায়মা বেগমের খালার সাথে বাড়ি পাটান তখন ফয়সাল হুংকার ছেড়ে বলে উঠে....

" এই মা*গির ফুরি রে কেলায় নিয়া আইছে এই বাড়িতে? কোনো বে*শ্যার ফুরির এই বাড়িত জায়গা ওইতো না । যেদিকে আইছে হেইদিকে সোজা চলে যাওক। নয়তো মাইরা লা*শ ফালাবো এখন৷ "

সায়মা বেগমের খালা তখন নিরুপায় হয়ে সুনাইরাহ কে নিয়ে চলে যান সায়মা বেগমের কাছে। সেদিন সুনাইরাহ এর দু চোখ কেবল ছোট ভাই তাইবান কে খুজছিলো কিন্তু কোথাও তাকে একনজর দেখতে পায় নি সে। তারপর ভাইকে না দেখেই চলে যায় সুনাইরাহ।
তাইবান খেলা শেষে বাড়ি ফিরে যখন বোন কে দেখতে না পায় তখন সেই কি কান্না। সেই ছোট্ট তাইবান কে তখন ফয়সাল মেরে মেরে আধমরা করে ফেলেছিলো। তার অপরাধ সে কেনো সুনাইরাহ এর জন্য কান্না করবে?

To be continue.....

⚠️⚠️ ( অনেকদিন পর গল্প দিলাম। আসলে আমি পারিবারিক কিছু সমস্যার জন্য গল্পটা দিতে পারিনি। অনেক অপেক্ষা করিয়েছি আপনাদের সে জন্য দুঃখিত। জানি না কেমন লাগবে আপনাদের কাছে। তবে অবশ্যই মন্তব্য করে যাবেন কেমন হয়েছে। আপনাদের মন্তব্য ই আমাকে আগামি পার্ট দিতে সাহস যোগাবে। কোনো ভুল থাকলে ক্ষমার দৃষ্টিতে দেখবেন।
❌❌কপি করা নিষেধ ❌❌) 🚫

#রাদিয়া_ইসলাম_ঊষা
#অবেলায়_আপনি
#পার্ট_৩

17/08/2026

ফজরের আজান হতেই বিছানা ছেড়ে উঠে আসে সুনাইরাহ৷ সারারাত এক বিন্দু ও ঘুম হয় নি তার। কারন টা অনেক জটিল। আজ সে তার পরিবারের সব মায়া ত্যাগ করে একটা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়েছে৷ বাসা থেকে পালিয়ে যাবে সে। এখানে সে থাকতে পারবে না৷ দমবন্ধ কর একটা পরিস্থিতি। যেখানে সে নিজের পরিবারের কাছে নিজের ভাইদের কাছে নিরাপদ নয়, সেখানে থাকার কোনো মানে হয় না। সবার কাছেই নিজের পরিবার আশ্রয়স্থল। নিজের পরিবারের কাছে থাকলে নিজেকে নিরাপদ নমনে হয়। অথচ সেখানে তার পরিবারই তার উপর কালো নজর দিয়েছে। সে বুঝে উঠে না কেনো তার সাথে এমন হয়? সে মাত্রা অতিরিক্ত সুন্দর বলে নাকি তাদের নজরই খারাপ? সেই ১১ বছর বয়সে একবার তার সৎ ভাইয়ের খারাপ স্পর্শের ভুক্তভুগি হয় তাতে। সে রাতে সে এই ছোট্ট বয়সেই বুঝে ফেলেছিলো যে তার সৎ ভাই তার সাথে ভালো কিছু করবে না। বাড়িতে আর কেউই ছিলো না তখন সে এবং তার সেই সৎ ভাই ছাড়া। সৎ মা ও ছিলো পাড়ার মহিলাদের সাথে খতমে। গ্রামে একটা প্রচলন রয়েছে কেউ মারা গেলে কিংবা কোনো সমস্যার সম্মুখীন হলে মহিলাদের নিয়ে তাসবিহ পড়েন। দোয়া দুরুদ হয়। সুনাইরাহ এর সৎ মা ও সেদিন গিয়েছিলেন। অন্যান্য সময় সুনাইরাহ ও সাথে যেতো। কিন্তু সেরাত ঘুমের জন্য সাথে যায় নি সে। আর সে রাতই হলো তার জন্য বিভীষিকাময় হয়ে উঠে। তারপর এগারো বছরের ছোট্ট সুনাইরাহ ঘুমের ভান করে থাকায় একটু নিস্তার পেয়েছিলো। তার সৎ ভাই সেদিন থাকে অনেক করে ডেকেছিলো কিন্তু সুনাইরাহ এর সাড়া না পাওয়ায় এবং ওই মুহূর্তে সুনাইরাহ এর সৎ মা চলে আসায় সুনাইরাহ কে নিজের বিছানায় রেখে ফয়সাল ( সুনাইরাহ এর সৎ ভাই) দরজা খুলে দেয়। দু রুমের একটা টিন সেট ঘর ছিলো তাদের। এক রুমে সুনাইরাহ এর বড় সৎ ভাই ফরওয়াদ তার স্ত্রী কে নিয়ে থাকতেন। কিন্তু সে বিদেশ ছিলো। তাই ফরওয়াদ এর স্ত্রী রুপা তার দু ছেলে ও এক মেয়ে নিয়ে থাকতেন। আর পাশের রুম টাতে থাকতেন সুনাইরাহ এর সৎ মা পারভীন বেগম৷ সুনাইরাহ, সুনাইরাহ এর আপন ছোট ভাই সারওয়ার ও সুনাইরাহ এর সৎ ভাই ফয়সাল।
সুনাইরাহ এর বাবা মুলত দু বিয়ে করেন। সুনাইরাহর মা দ্বিতীয়। সুনাইরাহ এর বাবা ফজলুর রশীদ ছিলেন সেকালের বিত্তবান লোক। জায়গায় জমি ছিলো অঢেল। বড় স্ত্রী রুপা বেগমের গর্ভে পরপর তিনটা ছেলে হয়। কিন্তু কোনো মেয়ে না হওয়ায় তিনি বিয়ে করেন সুনাইরাহ এর মা সায়মা বেগম কে। বিয়ের পর শুরু হয় সায়মা বেগমের উপর নির্যাতন । রুপা বেগম তার তিন সন্তান মিলে অত্যাচার করতো সায়মা কে। সায়মার বয়স আর কতো মাত্র তেরো বছর। সৎ মা টাকার লোভে এই তিন সন্তানের জনকের কাছে বিয়ে দিয়ে দেন। সায়মার মা মারা যাওয়ার পর সায়মার ছয় বোন ছাড়া কোনো ভাই না থাকায় সায়মার বাবা দ্বিতীয় বিয়ে করেন। কিন্তু সেই মা আসার পরই শুরু সায়মাদের বোনদের উপর অত্যাচার। তখন সাময়ার বড় বোনের বিয়ে টা মাত্র হয়েছিলো। সায়মার বড় দু বোন৷ সেই হিসেবে সৎ মায়ের অত্যাচার থেকে বিয়ে হওয়ার পর শুরু হয় আরো অত্যাচার। শুধু রুপা বেগম এবং তার সন্তানরাই অত্যাচার করে ক্ষান্ত হতো না বরং সুনাইরাহ এর ফুফু রা ও অত্যাচার করতো সমানতালে। ফজলুর রশীদের ছয় বোন এবং তিনি একাই ছিলেন। সেই হিসেবে ফজলুর রশীদের প্রায় পাঁচ বোনই অত্যাচার করতো সায়মার উপর। শুধু একজন মাঝে মাঝে লুকিয়ে দেখে যেতো সায়মা কে। এই অত্যাচারের কিছুই ঘুনাক্ষরে ও জানতে পারতেন না ফজলুর রহমান। তিনি সবসময় শহরের গঞ্জে থাকতেন। এজন্য এসবের কিছুই আচ করতে পারেন নি তিনি৷ এতো অত্যাচারের মাঝে ও মুখ বুঝে পড়ে থাকতো এক মুঠো ভাতের জন্য। কারন তার যে বাড়িতে ও অত্যাচারিত হওয়া লাগতো। ভাত পেতো না।
সে হিসাবে এ বাড়িতে এক মুঠো ভাত তো পায় এটাই অনেক। ফজলুর রশীদ গঞ্জে যাওয়ার আগে গ্রামের বাজার থেকে দু হাত ভর্তি বাজার সাদাই করে দিয়ে যেতেন দু স্ত্রী কেই। এই অত্যাচারের মাঝেই সায়মার কুল আলো করে একটি ছেলে হয়৷ আলো নাকি ঠিক অন্ধকার ঠিক বলতে পারবে না সে। কারন পরপর তিন ছেলের জন্য ই ফজলুর রশীদ দ্বিতীয় বিয়ে করেন। তবে সন্তান হওয়ার পর কোনো অত্যাচার হয় নি সায়মার উপর। এতে যেনো আরো ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে রুপা। সাইদুর ( সুনাইরাহ এর বড় ভাই) এর জন্মের পাঁচ বছর পর সুনাইরাহের জন্ম হয়৷ পুরো মহল্লায় মিষ্টি খাওয়ান ভদ্র লোক। উনার খুশি দেখে কে। কিন্তু সুনাইরাহ এর বাবা ও ভালো মানুষ ছিলেন না তেমন। কত রাত মেয়েকে কুলে নিয়ে বৃষ্টির মধ্যে মাঝরাতে নিজের বোনের বাড়িতে গিয়ে উঠতো সায়মা।

#অবেলায়_আপনি
#রাদিয়া_ইসলাম_ঊষা
#স্পয়লার

( আজ রাত দুটো হলে ও পুরো গল্প পাবেন ইনশাআল্লাহ । পারিবারিক কিছু সমস্যা এবং আমার একটি যৌথ সংকলন বইয়ের কাজ চলার জন্য আপনাদের কথা দিয়ে ও কথা রাখতে পারিনি। এজন্য আমি সত্যি ই দুঃখিত৷ আশা করি বুঝবেন আমার সমস্যা টা। যাইহোক এটা স্পয়লার। গল্প আসবে রাতে ইনশাআল্লাহ। আর যদি বানান বা কোনো ভুল হয় ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার অনুরোধ রইলো। )

13/08/2026

#স্পয়লার
ভাবি জানেন? যখন ছোট ভাবি প্রথম শুনে সে প্রেগন্যান্ট তখন সে কোনো কাজ করতো না৷ সবসময় ঘুমিয়ে থাকতো৷ একবার এই বিষয়ে কথা উঠলে সে বলে যে
আমার এই অবস্থা বলে আমি কোনো কাজ করতে পারি না। যখন তোমার সময় আসবে তখন বুঝবা।
অথচ এখন আমি ও প্রেগন্যান্ট আমার তিন মাস রানিং । আর তার সাত মাস চলে। ওইদিন সবাই মিলে নুডলস বানিয়ে খাওয়ার পর কয়েকটা বাসন রয়েছিলো ধোয়ার বাকি। সে আমাকে বললেই পারতো যে এগুলা একটু ধুয়ে নাও। অথচ সে কি বলে জানেন? বলে যে এগুলা কি কেউ ধুতে পারতো না?
তো এই বিষয় নিয়া ঘরে একটা ঝামেলা তৈরি হয়। তখন সে বলে আমার ভারি শরীর। কিছু করলে কষ্ট হয়। তখন আমার শাশুড়ী বলেন যে তুই মাতিস না। ওর সময় আইবো না? আর কত দিন তখন বুঝবো নে? একটা বিষয় দেখেছেন ভাবি, সে প্রথম প্রেগন্যান্ট হওয়ার পর বলছিলো তার কষ্ট হয় অথচ এখন আমি তার জায়গায় আমার কষ্ট হয় না 😅
এখন সে ভারি শরীর নিয়ে কাজ করতে পারে না। অথচ আমার করতে হয়। যখন তার বাচ্চা হয়ে যাবে তখন আমার ডেলিভারির সময় এগিয়ে আসবে তখন সে বলবে সে বাচ্চা নিয়ে পারে না। তখন আমার কি কিছু করার আছে? আমি কিছু বলি না বলে কি আমার উপর এই অবিচার ভাবি? আমি মাথা নিয়ে দাড়াতে পারি না মাথা ঘুরিয়ে উঠে। কিছু মুখে নিতে পারি না বমি আসে। অথচ সে বমি করলেই গিয়ে ঘুমিয়ে থাকে। যত কাজই থাকুক সে ঘুমিয়ে থাকে আর সব কাজ আমার করা লাগে। কই আমি বমি করলে তো গিয়ে ঘুমিয়ে থাকি না? তারপর ও আমার শাশুড়ী সব কিছুতে আমার দোষই খুজে পান 😅 কারন একটাই আমি পালিয়ে আসা মেয়ে অথচ আমি কিন্তু উনার খালাতো বোনের মেয়ে।

#অবেলায়_আপনি
#রাদিয়া_ইসলাম_ঊষা #গল্প_ফ্যাক্ট

10/08/2026

জাওরা ফ্রেন্ড সার্কেল 🤣🤣

#অবেলায়_আপনি #রাদিয়া_ইসলাম_ঊষা
#গল্প_ফ্যাক্ট #উপন্যাস

09/08/2026

#স্পয়লার
আস্তে আস্তে তুই আমার অতিত, বর্তমান, ভবিষ্যৎ সব জেনে যাবি। এতো তাড়াহুরো করার কি দরকার জান। এখন তুই এই ফরাবি নেওয়াজের। তুই ফারাবি নেওয়াজের পায়ের নখ থেকে মাথার চুল অব্দি সব জেনে যাবি।
আমি ধৈর্য ধরেছি। তোর বিয়ের পর ও আল্লাহর কাছে চাওয়া থেকে বিরত থাকিনি। তাই আমার আল্লাহ আমাকে "তোকে" একটা বাচ্চা সহ দিয়েছেন। ভাবা যায় আল্লাহ আমাকে এই ১৭ বছরের ধৈর্যের ফল হিসাবে কত কিছু দিয়েছেন। এতো সুখ আমি কোথায় রাখি বল?
#অবেলায়_আপনি #রাদিয়া_ইসলাম_ঊষা
#উপন্যাস #গল্প_ফ্যাক্ট

 #অবেলায়_আপনি (আমি আগেই আপনাদের জানিয়ে দিচ্ছি গল্পে এমন অনেক কথা লিখা হয়েছে যেগুলা সাহিত্যের বাইরে। অর্থাৎ শুদ্ধ ভাষা নয়...
08/08/2026

#অবেলায়_আপনি

(আমি আগেই আপনাদের জানিয়ে দিচ্ছি গল্পে এমন অনেক কথা লিখা হয়েছে যেগুলা সাহিত্যের বাইরে। অর্থাৎ শুদ্ধ ভাষা নয়। আর সেটা ওই গ্রামের আঞ্চলিক ভাষা। তাই কেউ ভাষা নিয়ে কটুক্তি করবেন না দয়া করে৷)

ওপেন দ্য ডোর, ফারাবি। মেইট, প্লিজ ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড মি। হাউ মাচ লংগার অ্যাম আই সাপোজড টু স্ট্যান্ড আউটসাইড? প্লিজ, জাস্ট ওপেন দ্য ডোর।
(Open the door, Farabi. Mate, please try to understand me. How much longer am I supposed to stand outside? Please, just open the door.)

গত দেড় ঘন্টা যাবৎ ডেকে যাচ্ছে ফাহাদ। অথচ ফারাবি দরজা খোলার কোনো নামই নিচ্ছে না। এভাবে আর কতক্ষণ দাড়িয়ে থাকবে বেচারা। অথচ আজ ফারাবির একটা কনসার্ট রয়েছে। কনসার্ট শুরু হওয়ার আর মাত্র ২৫ মিনিট সময় আছে। ভোর সকালে রাইডিং থেকে এসে সেই যে এপার্টমেন্টে ডুকেছিলো আর বের হয়নি ফারাবি। অগত্যা ফাহাদ গিয়ে বসে ড্রয়িং রুমে সোফায়। গুনে গুনে তেরো মিনিট পর ফারাবি বেড়িয়ে আসে। ফারাবিকে দেখেই বিরক্তিকর নিঃশ্বাস ছাড়ে ফাহাদ। ঠিকিই তো একদম কনসার্টের জন্য রেডি হয়ে বের হয়েছে। তাহলে তার ডাকে এতোক্ষণ সাড়া না দেওয়ার কারন কি.? অবশ্য একটু পর আর বিষয় নিয়ে মাথা ঘামালো না ফাহাদ। কারন সে জানে ফারাবি এমনই। হাজার বললে ও তার থেকে কোনো কথার জবাব নেওয়া যাবে না। যদি সে বলে তাহলে ভিন্ন ব্যাপার।
ফারাবি নিচে নেমে দু কাপ কফি নিয়ে এসে এক কাপ এগিয়ে দেয় ফাহাদ এর দিকে। ফাহাদ হাত বাড়িয়ে নিতে নিতে বলে..
(এখানে তারা কথা বার্তা ইংলেন্ডের ভাষা অর্থাৎ ইংরেজি তে বলবে৷ তবে আপনাদের সুবিধার জন্য আমি কেবল বাংলাই দিবো।)
"দোস্ত আর ১০ মিনিট পর তোর কনসার্ট এখন প্লিজ চল.?
ফারাবি ফাহাদের কথা কান না দিয়ে সে পুরোটা কফি শেষ করে। তারপর কফির কাপ টা কিচেনে ধুয়ে রাখতে রাখতে বলে..
" কাপ ভালো ভাবে ধুয়ে রাখবি। যদি একটু ও ময়লা থাকে তাহলে তোর ব্রিটিশ দাদাকে দিয়ে পরিষ্কার করাবো বলে দিলাম "
তারপর এপার্টমেন্টের বাইরের দিকে যেতে যেতে বলে
"এক মিনিটের ভিতর বাইরে আসবি। নয়তো আমি গেলাম"।
ফাহাদ তব্দা খেয়ে যায়। সালা নিজে এগারো ঘন্টা ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করে এখন আমাকে হুমকি দিচ্ছে। কত বড় জাওরা হলে এমন করতে পারে। না না আজকেই আন্টি কে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করতে হবে যে ওটাকে কোথা থেকে কুড়িয়ে এনেছিলো। নিজের চিন্তা ভাবনা কে আপাতত দূরে সরিয়ে দিয়ে ফাহাদ দৌড় লাগালো কিচেনের দিকে। কাপটাকে ধুয়ে জায়গা মতো রেখে বেড়িয়ে যায় এপার্টমেন্ট থেকে। গাড়ির কাছে এসেই দেখে ফারাবি বাইক নিয়ে চলে গিয়েছে। মাত্র দু সেকেন্ড লেইট করেছে সে তাই বলে চলে যাবে.? আর সে যে সেই দেড় ঘন্টা যাবৎ আমাকে অপেক্ষা করালো তার বেলা.? সালা হারামি তোকে দেখে নিবো। মনে মনে ফারাবি কে গালি দিতে দিতে গিয়ে বসে নিজের প্রাইভেট গাড়িতে।

দশ মিনিটের মাথায় কনসার্টে এসে দাড়ায় ফারাবি। তাকে দেখেই ইংলেন্ডি একজন মেয়ে এগিয়ে এসে বলে..

"হ্যালো, স্যার। এভরিওয়ান ইজ ওয়েটিং ফর ইউ। প্লিজ কাম অ্যাজ সুন অ্যাজ ইউ ক্যান।"

ফারাবি মেয়েটির কথায় কর্নপাত না করে এগিয়ে যায় সামনে। সেখানে দেখা যায় তার আরো দু ফ্রেন্ড রামিম এবং ফয়েজ আগে থেকেই উপস্থিত। ফারাবি কে দেখে তারা এগিয়ে আসতে চাইলে শুনা যায় ফারাবির নাম। ফারাবি নেওয়াজ ইজ কামিং বলার সাথে সাথেই শুনা যায় হাজারো কন্ঠস্বর এবং হাত তালির আওয়াজ। চারদিকের সবাই "ফারাবি" "ফারাবি" বলে চেঁচাচ্ছে। পুরো কনসার্টের সবাই ফারাবি বলতে উন্মাদ। ছেলে মেয়ে সবাই। ফারাবি কে অনেক কনসার্টের ইনভাইটেশন দেওয়া হয়। তবে ফারাবি সব গুলাতে যায় না। তার মন যখন যেটাতে যেতে শায় দেয় সেটাতে যাবে।
যাইহোক ফারাবি গিটার হাতে এগিয়ে আসে কনসার্টের মন্সে। সাথে সাথেই চারদিকে ফারাবি নামের চিৎকার আর উল্লাস শুনা যায়। ফারাবি গিটারে দু মিনিট ঠুং ঠাং শব্দ উঠিয়ে গেয়ে উঠে.....


Abhi mujh mein kahin
Baaqi thodi si hai zindagi
Jagi dhadkan nayi
Jaana zinda honn main toh abhi
Kuch aisi lagan iss lamhe mein hai
Ye lamha kahaan the mera

এতোটুকু গেয়ে একটু থামে ফারাবি। তারপর একটু উচ্চস্বরে আবার গেয়ে উঠে....

Ab hai saamne
Issey chhoo loon zaraa
Mar jaaoon ya jee loon zaraa
Khushiyaan choon loon
Yaa ro loo'n zaraa
Mar jaaoon ya jee loon zaraa
................

পুরোটা গান শেষ করে ফারাবি৷ শেষ হতেই চারদিক থেকে করতালির আওয়াজ ভেসে আসে। সবাই উৎসাহের সাথে বলতে থাকে " এগেইন" এগেইন " তবে ফারাবি আর গাইলো না। গানের মাঝখানে এসে দাড়িয়েছিলো ফাহাদ৷ সেই ফাহাদের হাতে গিটার টা দিয়ে সে নেমে যায় মন্স থেকে৷ এতে প্রত্যেকবারের মতো করে এবারো সবাই আশাহত হয়। গত দু বছর যাবৎ এমন করেই আসছে ফারাবি। তাকে হাজার বার বললে ও সে একই মন্সে দু গান আজ অব্দি গায় নি। ফাহাদ সহ রামিম ও ফয়েজ ছোট্ট করো একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নেমে আসে তারাও।

_______________________

নিজের দেড় বছর বয়সের মেয়ে নুরায়া কে মাত্রই ভাত খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে আসলো সুনাইরাহ। মেয়েকে ভাত খাওয়ানোর জন্য শাশুড়ী কে বলেছিলো এক টুকরো মাছ ভাজি করার কথা। শাশুড়ী তখন বলে..

" আমরা কিতা আমরার পুলাপান রে বড় করছি না? ওতো গদগদ করে মাছের বিড়ান দে কেনে খাওয়ানি লাগবো। "
এই কথা শুনে সুনাইরাহ আর টু শব্দটি ও করে নাই৷ চলে আসে তরকারি থেকে দু টকরো আলু নিয়ে৷ সেটা দিয়েই ভাত মাখিয়ে খাওয়ায় তার নাড়ি ছেঁড়া ধন কে। মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে সুনাইরাহ বলে

" আমাকে ক্ষমা করে দিস মা। আমি তোকে জন্ম দিয়েছি ঠিকি তবে ভালো মন্দ কিছু খাওয়ানোর সাধ্য আমার নাই৷ আমি চাইলেই পারতাম তোকে সুন্দর একটা ভবিষ্যৎ দিতে। কিন্তু তোর বাবা নামক এক কাপুরষ কে বিয়ে করেছি আমি।
যে নিজের মায়ের উপরে একটা শব্দ ও উচ্চারণ করতে পারেন না। এখন মনে হচ্ছে তোর মা যত খাবার খেয়েছে যত আহ্লাদিত ভাবে বড় হয়েছে । আগে যদি জানতাম তোকে জন্ম দিলে কিছুই পাবো না তখন সেগুলো জমিয়ে আমি তোর জন্য রেখে দিতাম আম্মু। "

বলতে বলতে কয়েক ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পরে সুনাইরাহ এর গাল ভেয়ে। তারপর হাটা ধরে শাশুড়ির ঘরের উদ্দেশ্যে।
সুনাইরাহ এর স্বামী রা ছয় ভাইবোন। প্রথমে এক বোন তারপর ভাই। তারপর এক বোন তারপর সুনাইরাহ এর স্বামী এবং এক ভাই জমজ। তারপর এক বোন। দু বোনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বড় ভাই ও বিয়ে করে সে তার বউ এবং দু ছেলেকে নিয়ে আলাদা সংসার৷ সুনাইরাহ এর বিয়ের দু মাস পর তার দেবর কে ও বিয়ে করায়। তবে সুনাইরাহ বিয়ে করে পালিয়ে। তার বিয়ে পালিয়ে হওয়ার কারনে যে কত কিছুতে তাকে কথা শুনানো হয় তা একমাত্র সেই জানে। অথচ ছোট বউ হাজার ভুল করলে ও তাদের চোখে পড়ে না। কারন একটাই তাকে তারা পছন্দ করে এনেছে। আর সুনাইরাহ চুন থেকে পান খসলেই শুরু হয় কথার ফুয়ারা। অথচ তার কিন্তু দুধে আলতা গায়ের বরন। শিক্ষিত, সেলাই কাজ সহ আরো অনেক কাজই পারে সে। সব কিছু করে ও কোনো মূল্য সে পায় না। এজন্যই হয়তো বলা হয়
~মেয়েদের গায়ের রং সুন্দর হওয়ার চেয়ে
ভাগ্য সুন্দর হওয়া জরুরি ~

(গল্প ছোট হওয়ায় আমি দুঃখিত। আর কেউ কপি করবেন না। কপি করা নিষেধ ❌❌ এই পার্টে ৪০০+ রিয়েক্ট কমেন্ট না আসলে ৩য় পার্ট দিচ্ছি না। কারন এভাবে এতো কষ্ট করে গল্প লিখে যখন সবাই পড়ে চলে যায় রিয়েক্ট দেয় না কমেন্ট করে না তখন যে কত খারাপ লাগে তা একমাত্র লেখিকারাই জানে।)

08/08/2026

১৭ বছরের সাধনার পর পাওয়া গেলে এতো খুশি কোথায় রাখবে ফারাবি..?

পাখিরা গল্প দিয়েছি অথচ কোনো রেসপন্স নাই। সবাই পড়ে চলে যান কোনো রকম মন্তব্য জানাননা কেমন হয়েছে। এমন হলে আমি গল্প কেমন করে দেই বলুন তো?
ভাবছিলাম আজ ২য় পার্ট দিবো অথচ আপনাদের অবস্থা আর গল্পের রিয়েক্ট কমেন্ট দেখলে মন চায় সব রেখে উগান্ডা চলে যাই।

#অবেলায়_আপনি #রাদিয়া_ইসলাম_ঊষা
#উপন্যাস_প্রেমি #গল্প_ফ্যাক্ট

Address

Habiganj
Baniyachong

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when রাদিয়া ইসলাম ঊষা Radiya islam usha posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share