08/08/2026
#অবেলায়_আপনি
(আমি আগেই আপনাদের জানিয়ে দিচ্ছি গল্পে এমন অনেক কথা লিখা হয়েছে যেগুলা সাহিত্যের বাইরে। অর্থাৎ শুদ্ধ ভাষা নয়। আর সেটা ওই গ্রামের আঞ্চলিক ভাষা। তাই কেউ ভাষা নিয়ে কটুক্তি করবেন না দয়া করে৷)
ওপেন দ্য ডোর, ফারাবি। মেইট, প্লিজ ট্রাই টু আন্ডারস্ট্যান্ড মি। হাউ মাচ লংগার অ্যাম আই সাপোজড টু স্ট্যান্ড আউটসাইড? প্লিজ, জাস্ট ওপেন দ্য ডোর।
(Open the door, Farabi. Mate, please try to understand me. How much longer am I supposed to stand outside? Please, just open the door.)
গত দেড় ঘন্টা যাবৎ ডেকে যাচ্ছে ফাহাদ। অথচ ফারাবি দরজা খোলার কোনো নামই নিচ্ছে না। এভাবে আর কতক্ষণ দাড়িয়ে থাকবে বেচারা। অথচ আজ ফারাবির একটা কনসার্ট রয়েছে। কনসার্ট শুরু হওয়ার আর মাত্র ২৫ মিনিট সময় আছে। ভোর সকালে রাইডিং থেকে এসে সেই যে এপার্টমেন্টে ডুকেছিলো আর বের হয়নি ফারাবি। অগত্যা ফাহাদ গিয়ে বসে ড্রয়িং রুমে সোফায়। গুনে গুনে তেরো মিনিট পর ফারাবি বেড়িয়ে আসে। ফারাবিকে দেখেই বিরক্তিকর নিঃশ্বাস ছাড়ে ফাহাদ। ঠিকিই তো একদম কনসার্টের জন্য রেডি হয়ে বের হয়েছে। তাহলে তার ডাকে এতোক্ষণ সাড়া না দেওয়ার কারন কি.? অবশ্য একটু পর আর বিষয় নিয়ে মাথা ঘামালো না ফাহাদ। কারন সে জানে ফারাবি এমনই। হাজার বললে ও তার থেকে কোনো কথার জবাব নেওয়া যাবে না। যদি সে বলে তাহলে ভিন্ন ব্যাপার।
ফারাবি নিচে নেমে দু কাপ কফি নিয়ে এসে এক কাপ এগিয়ে দেয় ফাহাদ এর দিকে। ফাহাদ হাত বাড়িয়ে নিতে নিতে বলে..
(এখানে তারা কথা বার্তা ইংলেন্ডের ভাষা অর্থাৎ ইংরেজি তে বলবে৷ তবে আপনাদের সুবিধার জন্য আমি কেবল বাংলাই দিবো।)
"দোস্ত আর ১০ মিনিট পর তোর কনসার্ট এখন প্লিজ চল.?
ফারাবি ফাহাদের কথা কান না দিয়ে সে পুরোটা কফি শেষ করে। তারপর কফির কাপ টা কিচেনে ধুয়ে রাখতে রাখতে বলে..
" কাপ ভালো ভাবে ধুয়ে রাখবি। যদি একটু ও ময়লা থাকে তাহলে তোর ব্রিটিশ দাদাকে দিয়ে পরিষ্কার করাবো বলে দিলাম "
তারপর এপার্টমেন্টের বাইরের দিকে যেতে যেতে বলে
"এক মিনিটের ভিতর বাইরে আসবি। নয়তো আমি গেলাম"।
ফাহাদ তব্দা খেয়ে যায়। সালা নিজে এগারো ঘন্টা ঘুমিয়ে সময় নষ্ট করে এখন আমাকে হুমকি দিচ্ছে। কত বড় জাওরা হলে এমন করতে পারে। না না আজকেই আন্টি কে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করতে হবে যে ওটাকে কোথা থেকে কুড়িয়ে এনেছিলো। নিজের চিন্তা ভাবনা কে আপাতত দূরে সরিয়ে দিয়ে ফাহাদ দৌড় লাগালো কিচেনের দিকে। কাপটাকে ধুয়ে জায়গা মতো রেখে বেড়িয়ে যায় এপার্টমেন্ট থেকে। গাড়ির কাছে এসেই দেখে ফারাবি বাইক নিয়ে চলে গিয়েছে। মাত্র দু সেকেন্ড লেইট করেছে সে তাই বলে চলে যাবে.? আর সে যে সেই দেড় ঘন্টা যাবৎ আমাকে অপেক্ষা করালো তার বেলা.? সালা হারামি তোকে দেখে নিবো। মনে মনে ফারাবি কে গালি দিতে দিতে গিয়ে বসে নিজের প্রাইভেট গাড়িতে।
দশ মিনিটের মাথায় কনসার্টে এসে দাড়ায় ফারাবি। তাকে দেখেই ইংলেন্ডি একজন মেয়ে এগিয়ে এসে বলে..
"হ্যালো, স্যার। এভরিওয়ান ইজ ওয়েটিং ফর ইউ। প্লিজ কাম অ্যাজ সুন অ্যাজ ইউ ক্যান।"
ফারাবি মেয়েটির কথায় কর্নপাত না করে এগিয়ে যায় সামনে। সেখানে দেখা যায় তার আরো দু ফ্রেন্ড রামিম এবং ফয়েজ আগে থেকেই উপস্থিত। ফারাবি কে দেখে তারা এগিয়ে আসতে চাইলে শুনা যায় ফারাবির নাম। ফারাবি নেওয়াজ ইজ কামিং বলার সাথে সাথেই শুনা যায় হাজারো কন্ঠস্বর এবং হাত তালির আওয়াজ। চারদিকের সবাই "ফারাবি" "ফারাবি" বলে চেঁচাচ্ছে। পুরো কনসার্টের সবাই ফারাবি বলতে উন্মাদ। ছেলে মেয়ে সবাই। ফারাবি কে অনেক কনসার্টের ইনভাইটেশন দেওয়া হয়। তবে ফারাবি সব গুলাতে যায় না। তার মন যখন যেটাতে যেতে শায় দেয় সেটাতে যাবে।
যাইহোক ফারাবি গিটার হাতে এগিয়ে আসে কনসার্টের মন্সে। সাথে সাথেই চারদিকে ফারাবি নামের চিৎকার আর উল্লাস শুনা যায়। ফারাবি গিটারে দু মিনিট ঠুং ঠাং শব্দ উঠিয়ে গেয়ে উঠে.....
Abhi mujh mein kahin
Baaqi thodi si hai zindagi
Jagi dhadkan nayi
Jaana zinda honn main toh abhi
Kuch aisi lagan iss lamhe mein hai
Ye lamha kahaan the mera
এতোটুকু গেয়ে একটু থামে ফারাবি। তারপর একটু উচ্চস্বরে আবার গেয়ে উঠে....
Ab hai saamne
Issey chhoo loon zaraa
Mar jaaoon ya jee loon zaraa
Khushiyaan choon loon
Yaa ro loo'n zaraa
Mar jaaoon ya jee loon zaraa
................
পুরোটা গান শেষ করে ফারাবি৷ শেষ হতেই চারদিক থেকে করতালির আওয়াজ ভেসে আসে। সবাই উৎসাহের সাথে বলতে থাকে " এগেইন" এগেইন " তবে ফারাবি আর গাইলো না। গানের মাঝখানে এসে দাড়িয়েছিলো ফাহাদ৷ সেই ফাহাদের হাতে গিটার টা দিয়ে সে নেমে যায় মন্স থেকে৷ এতে প্রত্যেকবারের মতো করে এবারো সবাই আশাহত হয়। গত দু বছর যাবৎ এমন করেই আসছে ফারাবি। তাকে হাজার বার বললে ও সে একই মন্সে দু গান আজ অব্দি গায় নি। ফাহাদ সহ রামিম ও ফয়েজ ছোট্ট করো একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে নেমে আসে তারাও।
_______________________
নিজের দেড় বছর বয়সের মেয়ে নুরায়া কে মাত্রই ভাত খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে আসলো সুনাইরাহ। মেয়েকে ভাত খাওয়ানোর জন্য শাশুড়ী কে বলেছিলো এক টুকরো মাছ ভাজি করার কথা। শাশুড়ী তখন বলে..
" আমরা কিতা আমরার পুলাপান রে বড় করছি না? ওতো গদগদ করে মাছের বিড়ান দে কেনে খাওয়ানি লাগবো। "
এই কথা শুনে সুনাইরাহ আর টু শব্দটি ও করে নাই৷ চলে আসে তরকারি থেকে দু টকরো আলু নিয়ে৷ সেটা দিয়েই ভাত মাখিয়ে খাওয়ায় তার নাড়ি ছেঁড়া ধন কে। মেয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে সুনাইরাহ বলে
" আমাকে ক্ষমা করে দিস মা। আমি তোকে জন্ম দিয়েছি ঠিকি তবে ভালো মন্দ কিছু খাওয়ানোর সাধ্য আমার নাই৷ আমি চাইলেই পারতাম তোকে সুন্দর একটা ভবিষ্যৎ দিতে। কিন্তু তোর বাবা নামক এক কাপুরষ কে বিয়ে করেছি আমি।
যে নিজের মায়ের উপরে একটা শব্দ ও উচ্চারণ করতে পারেন না। এখন মনে হচ্ছে তোর মা যত খাবার খেয়েছে যত আহ্লাদিত ভাবে বড় হয়েছে । আগে যদি জানতাম তোকে জন্ম দিলে কিছুই পাবো না তখন সেগুলো জমিয়ে আমি তোর জন্য রেখে দিতাম আম্মু। "
বলতে বলতে কয়েক ফোটা অশ্রু গড়িয়ে পরে সুনাইরাহ এর গাল ভেয়ে। তারপর হাটা ধরে শাশুড়ির ঘরের উদ্দেশ্যে।
সুনাইরাহ এর স্বামী রা ছয় ভাইবোন। প্রথমে এক বোন তারপর ভাই। তারপর এক বোন তারপর সুনাইরাহ এর স্বামী এবং এক ভাই জমজ। তারপর এক বোন। দু বোনের বিয়ে হয়ে গিয়েছে। বড় ভাই ও বিয়ে করে সে তার বউ এবং দু ছেলেকে নিয়ে আলাদা সংসার৷ সুনাইরাহ এর বিয়ের দু মাস পর তার দেবর কে ও বিয়ে করায়। তবে সুনাইরাহ বিয়ে করে পালিয়ে। তার বিয়ে পালিয়ে হওয়ার কারনে যে কত কিছুতে তাকে কথা শুনানো হয় তা একমাত্র সেই জানে। অথচ ছোট বউ হাজার ভুল করলে ও তাদের চোখে পড়ে না। কারন একটাই তাকে তারা পছন্দ করে এনেছে। আর সুনাইরাহ চুন থেকে পান খসলেই শুরু হয় কথার ফুয়ারা। অথচ তার কিন্তু দুধে আলতা গায়ের বরন। শিক্ষিত, সেলাই কাজ সহ আরো অনেক কাজই পারে সে। সব কিছু করে ও কোনো মূল্য সে পায় না। এজন্যই হয়তো বলা হয়
~মেয়েদের গায়ের রং সুন্দর হওয়ার চেয়ে
ভাগ্য সুন্দর হওয়া জরুরি ~
(গল্প ছোট হওয়ায় আমি দুঃখিত। আর কেউ কপি করবেন না। কপি করা নিষেধ ❌❌ এই পার্টে ৪০০+ রিয়েক্ট কমেন্ট না আসলে ৩য় পার্ট দিচ্ছি না। কারন এভাবে এতো কষ্ট করে গল্প লিখে যখন সবাই পড়ে চলে যায় রিয়েক্ট দেয় না কমেন্ট করে না তখন যে কত খারাপ লাগে তা একমাত্র লেখিকারাই জানে।)