15/04/2026
#পেঙ্গুইন
#রাদিয়া_ইসলাম_ঊষা
#কাজিন_রিলেটিভ_রাজনৈতিক_রোমান্টিক
❎❎ অনুমতি ছাড়া কপি করা নিষেধ ❎❎
(৩)
সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠেই নামাজ পড়ে নিলাম। তারপর নিচে নেমে দেখি পুরো বাড়ি একদম ঝকঝক করছে৷ যদি ও আম্মু সব সময় বাড়িকে পরিষ্কার রাখেন। একদমই ময়লা লাগতে দেন না। তখন রান্না ঘরে যাই কফি আনার জন্য। গিয়েই দেখি রান্না ঘরে আমার ফুপ্পিরা রান্না করছেন। আম্মুকে বললাম...
"আম্মু কফি দাও না এককাপ। মাথা ব্যাথা করছে অনেক"
আম্মু: আমি পারবো না রে মা.! তুই নিজেই বানিয়ে নে। জানিস তো ছেলেটা কত দিন আসছে। আমি আজ ওর পছন্দের সব খাবার রান্না করবো।
আমি: (অবাক হয়ে) কি বললা আম্মু কে আসবে..?
আর তোমার কাছে আমাদের থেকে কে না কে আসলো তার মূল্য বেশি.? আম্মু সত্যি করে বলতো.? আমি কি তোমারি মেয়ে.?
আম্মু: না তুই আমার সৎ মেয়ে। যা এখান থেকে।
আমি: তা আম্মু কে আসছে বললা যে ছেলেটা অনেক দিন পরে আসছে? আমি জানি ভাইয়া বাড়িতে থাকে সবসময়। তাহলে অনেকদিন পর হলো কেমন করে। তাহলে কি আম্মু তোমার অন্য একটি ছেলে আছে..? আমরা জানি না.?
আমি এখনি গিয়ে ভাইয়া কে বলছি.! ভাইয়াআআআআআআআ
আম্মু আমাকে একটি ধমক দিয়ে বলে উঠলেন
" ফাজিল মেয়ে। আমি বলেছি তোকে আমার অন্য একটি ছেলে আছে। আমি না গতকাল তোকে বললাম তা.....
এটুকু বলতেই আম্মু কে ফুপ্পি ডাক দিলেন আর আম্মু ও চলে গেলেন। নামটা আর শুনা হলো না।
আমি ও দাড়ালাম না কফি নিয়ে রোমে চলে আসলাম। কে না কে আসলো তাতে আমার কি।
আসলে দেখে নিবো। এখন এতো মাথা ঘামিয়ে লাভ নাই। কফিটা খেতে খেতে ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখি ৮ টা বেজে গেছে।
আমি ঘড়ি থেকে চোখ সরিয়ে রেডি হয়ে নিলাম৷ কোচিং এ যাওয়ার জন্য। হঠাৎই ফোনটা কেপে উঠলো৷ হাতে নিয়ে দেখি মিমু কল দিয়েছে। আমি কলটা রিসিভ করে বললাম...
"কিরে কি হয়েছে বল। এতো সকাল কল দিলি কেনো.?
" মিমু: এতো সকাল মানে.? মানে রাদূ তোর কি কোনো তান্ডব জ্ঞান নেই৷ আজ টেস্ট পরিক্ষা কোচিং এর৷ সাথে কলেজে ও আজ একটা স্পেশাল ক্লাস আছে। একজন নতুন স্যার আসবেন।
আমি: কোচিং এ টেস্ট পরিক্ষা আছে বুঝলাম বাট স্পেশাল ক্লাসের কথা তো আমি জানি না.?
মিমু: তুই কেমন করে জানবি.? তুই তো উরু উরু মন নিয়ে চলিস। তাছাড়া আমি ও জানতাম না ফাহিম আমাকে বলেছে।
আমি : ওহ
মিমু: তোর রেখে রেডি হ ধলা বিলাই।
আমি: বিশ্বের এক নাম্বার কানি আমি রেডি। আসছি তুই দাড়া দূ মিনিট।
মিমু: ওকে আয়
আমাদের পৌরনীতি স্যার মানে আমার ভাইয়া বলছে আমরা যেহেতু মেডিকেল নিয়ে পড়ছি তাই আমাদের মাঝে মাঝে দূ একটা ক্লাস হবে। তাই বলে কলেজ শুরু হওয়ার সাথে সাথেই তা ভাবিনি। যাইহোক আমার ভাবা না ভাবা নিয়ে কলেজের কোনো প্রয়োজন নেই। তাই আমি আমার আজাইরা চিন্তা বাদ দিয়ে রাস্তার পাশে এসে একটি অটোরিকশায় উঠলাম।
মিমু বসা।
দূজন রওনা দিলাম কোচিং এর উদ্দেশ্য।
সময় মতো পৌঁছে যাই কোচিং এ।
নয়টা বাজতে আরো পনেরো মিনিট বাকি। আমি পরিক্ষা দিয়ে বাইরে এসে অপেক্ষা করছি মিমুর জন্য ।
তিন মিনিটের মাথায় মিমু ও চলে আসলো। দূজনই হাটা ধরলাম কলেজের জন্য। সাড়ে নয়টায় ক্লাস।
কোচিং থেকে কলেজে যেতে সময় লাগে প্রায় পনেরো থেকে বিশ মিনিট। যদি হেটে যাওয়া হয়।
আর অটোতে গেলে দশ মিনিট ও লাগে না।
দূজনই হাটছি। কারন অনেক সময় আছে। সকাল বেলা ভালো লাগে হাটতে। হঠাৎ আমাদের সামনে একটি ছেলে এসে দাঁড়ালো। আকস্মিক দাঁড়ানোতে আমি ভরকে যাই।
তখনি মিমু ছেলেটিকে জিজ্ঞেস করলো কি চাই..?
ছেলেটি বললো আমার ঊষার সাথে দরকার আছে। তুমি একটু সাইটে যাও।
আমার নাম শুনে আমি ছেলেটির দিকে তাকাই। আরে উনি তো আমার সিনিয়র ভাইয়া ফাহাদ।
উনার আমার সাথে কি দরকার.?
আমি উনার দিকে তাকিয়ে বললাম...
" আমার সাথে কিসের দরকার ভাইয়া। আর মিমু সাইটে যাবে কেনো.?
যা বলার মিমুর সামনেই বলুন। ও কোথাও যাবে না.!
বলেই আমি হাত বেঁধে দাড়ালাম।
মিমু বললো..
'' থাক না রাদূ.! আমি বরং সাইটে যাই। ভাইয়া কি বলেন তুই শুন কেমন.?
" আমি বললাম
নাহ তুই এখানেই থাকবি। উনি যা বলার তোর সামনেই বলুক প্রবলেম কি.?
এতে ফাহাদ ভাইয়া বিপাকে পড়ে যান। তারপর কাচুমাচু করে পিছন থেকে হাত এনে সামনে ধরেন। হাতে প্রায় দশ বারোটা তাজা লাল গোলাপ।
তারপর উনি বলে উঠলেন...
"ঊষা আমি তোমাকে সেই প্রথমদিন দেখেই ভালোবেসে ফেলি। প্লিজ আমাকে না করো না প্লিজ। "
আমি তো পড়লাম মহা ফাসাদে.? না মানে ভাই বুঝালম না সবাই আমাকেই কেনো ভালোবাসতে হইবো পৃথিবীতে কি আর কোনো মানুষ নাই.?
স্ট্রেইন্জ.?
" আমি বললাম
দেখেন ভাইয়া আজকে আমার কলেজে ক্লাস আছে। প্লিজ যেতে দিন। তাছাড়া আমি অনেক ছোট। এখনো বয়স হয়নি এগুলার৷ প্লিজ ডোন্ট মাইন্ড।
বলেই হাটা ধরলাম। মিমু আমার কথা শুনে হাসতে হাসতে গড়াগড়ি খাওয়ার পর্যায়ে।
ওদিকে ফাহাদ বলে উঠলো
মায়াপরি বলে কি.? সে নাকি এখনো ছোট.?
যাই হোক মায়াপরি আমি তোমাকে আমার করেই ছাড়বো। তুমি দেখে নিও।
_________________
দূজনই ক্লাসে বসে আছি। মিমু বসে বই পড়ছে৷ এই মেয়ে সারাদিন বই৷ আমি আলসেমির জন্যই পড়ি না। আমার ভালো লাগে না তাই আমি খাওয়ায় মনোযোগ দিলাম।
হঠাৎ ক্লাসে সালামের আওয়াজে বুঝলাম যে আমাদের স্পেশাল স্যার এসে গেছেন।
তাই আমি আর স্যারের দিকে না তাকিয়ে খাওয়া শেষ করায় লাগলাম।
হঠাৎ কেউ বলে উঠলো....
""স্টুডেন্টস ফোকাস দ্যা বোর্ড এন্ড এই যে গুলুমুলু গাল ওয়ালি এক মনে খেতে থাকা ব্যাক্তি এটা কি খাওয়ার ক্লাস। জাস্ট আউট অফ মাই ক্লাস। ফাস্ট..!
স্টুপিট.!""