29/04/2026
ভয়াল ২৯ এপ্রিল—১৯৯১
একটি তারিখ, কিন্তু উপকূলবাসীর হৃদয়ে তা এক গভীর ক্ষত, এক অমোচনীয় শোকের নাম। ১৯৯১ সালের এই দিনে কক্সবাজার-চট্টগ্রাম উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় ম্যারি এন। কুতুবদিয়া সহ সমগ্র কক্সবাজার- চট্টগ্রাম উপকূলজুড়ে নিয়ে এসেছিল মৃত্যুর কালো ছায়া। সরকারি হিসাবে এতে ১ লক্ষ ৩৮ হাজার ৮৬৬ জন মানুষ নিহত বা নিখোজ হন(কুতুবদিয়ায় প্রায় ২০ হাজার),গৃহহীন হয় প্রায় ১ কোটি মানুষ এবং ২০০০ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছিল।সেই রাত ছিল না কোনো সাধারণ রাত—ছিল প্রলয়ের রাত, যেখানে বাতাসের গর্জন যেন মৃত্যুর বার্তা বহন করছিল, আর উত্তাল সাগর যেন গ্রাস করতে চাইছিল সবকিছু।
ঝড়ের সেই ভয়াল মুহূর্তে মানুষ ছুটছিল আশ্রয়ের খোঁজে, কিন্তু প্রকৃতির নির্মমতায় হারিয়ে যাচ্ছিল হাজারো স্বপ্ন, হাজারো জীবন। মা তার সন্তানকে বুকে জড়িয়ে শেষবারের মতো বাঁচানোর চেষ্টা করছিল, বাবা অসহায়ের মতো তাকিয়ে দেখছিল নিজের ঘরবাড়ি সাগরের জলে ভেসে যেতে। মুহূর্তের মধ্যেই প্রাণবন্ত জনপদ পরিণত হয়েছিল এক নিঃস্তব্ধ মৃত্যুপুরীতে।
সকালের আলো ফোটার পর যে দৃশ্য ধরা দিয়েছিল, তা ছিল হৃদয়বিদারক। চারদিকে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা নিথর দেহ, ভাঙা ঘরের কাঠামো, মৃত পশুপাখির স্তূপ—সবকিছু মিলিয়ে যেন এক ভয়ংকর দুঃস্বপ্ন। কান্নার শব্দে ভারী হয়ে উঠেছিল বাতাস, কিন্তু সেই কান্না শোনার মতো কেউ ছিল না। যারা বেঁচে ছিলেন, তারা যেন বেঁচে থেকেও মৃত—হারানোর বেদনায় নিঃশব্দ, স্তব্ধ।
কুতুবদিয়া তখন শুধুই একটি দ্বীপ ছিল না, ছিল এক বেদনার প্রতিচ্ছবি। অনেকেই ভেবেছিলেন—এখানে আর কখনো জীবন ফিরবে না। তবুও কিছু মানুষ, বুকভরা কষ্ট আর চোখভরা অশ্রু নিয়ে, ধ্বংসস্তূপের মাঝেই খুঁজে নিয়েছিল বেঁচে থাকার নতুন অর্থ। তারা আবার ঘর বানিয়েছে, আবার স্বপ্ন দেখেছে—কিন্তু সেই রাতের স্মৃতি আজও তাদের হৃদয়ে কাঁটার মতো বিঁধে আছে।
৩৫ বছর পেরিয়ে গেলেও, সেই শোকের ভার এখনো কমেনি। প্রতিটি ২৯ এপ্রিল এলে উপকূলের মানুষ যেন আবার ফিরে যায় সেই কালরাতে। বাতাসের সামান্য শব্দেও তাদের মনে জেগে ওঠে আতঙ্ক, সাগরের ঢেউয়ে তারা শুনতে পায় সেই দিনের কান্না।
এই দিনটি শুধু স্মরণ করার জন্য নয়—এটি একটি সতর্কবার্তা। প্রকৃতির সঙ্গে লড়াই করে টিকে থাকতে হলে অবহেলা নয়, প্রয়োজন প্রস্তুতি; প্রতিশ্রুতি নয়, প্রয়োজন বাস্তব পদক্ষেপ। কারণ ইতিহাস বারবার বলে—অবহেলা করলে প্রকৃতি ক্ষমা করে না।
ভয়াল ২৯ এপ্রিল আমাদের শেখায়—জীবন ক