26/07/2026
আজকে আপনাদের মাঝে ছোট্ট একটা গল্প শেয়ার করতে আসলাম।
আমার মেয়ে মারিয়া তখন ক্লাস ফোরে পড়ে।
আমিও সেম স্কুলের শিক্ষক।
ও একদিন স্কুল থেকে বাসায় এসে কোন এক কথা প্রসঙ্গে আমাকে বলছে?
আম্মু জানো : আজকে ..... ম্যামের ক্লাস ছিল।
উনি কি সাজটাই না সেজেছে। কেমন যেন লাগছে। শিক্ষকরা এইভাবে সাজে।
উনাকে তো বুঝতে হবে উনাকে সাজটা মানাইছে কিনা উনার সাথে যাচ্ছে কিনা।
আমাদের ক্লাসের অন্যান্য মেয়েরা হাসাহাসি করল।
ম্যাম কে নিয়ে তারা অনেক বাজে বাজে কথা বলেছে।
ঠিকই তো বলেছে।
মেয়ের গল্প শুনে খানিকটা চুপ হয়ে গেলাম, কারণ আমার মেয়ে তার যে ম্যাম এর সম্পর্কে বলছে উনি আমার কলিগ।
আমি উনাকে খুব ভালো করে চিনি, তার যোগ্যতা সম্পর্কে জানি,তার পোশাক এবং সাজসজ্জা সম্পর্কে জানি। এখানে এমন কিছুই হয় নাই যে বাচ্চারা সেটা নিয়ে সমালোচনা করবে।
আমি খানিকটা হতভম্ভ হয়ে গেলাম যে ক্লাস ফোরের বাচ্চারা টিচারদের ড্রেসাপ গেটাপ নিয়ে নিজেদের মধ্যে সমালোচনা করে।
আমি তো আমার বাচ্চাকে এই মেন্টালিটি তে তৈরি করতে চাই না।
তখন ওর কাছ থেকে নাম শুনতে চাইলাম কারা কারা মিলিয়ে এই সমালোচনাটি করেছে।
সে নাম বলল
আমি আজও সেই বাচ্চাদের কিচ্ছু বলিনি।
তারপর আমার মেয়েকে বললাম মা আমার বাড়িতে কোন শিক্ষককে নিয়ে কোন সমালোচনা আমি করিনি।
তুমি তোমার বান্ধবীদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে তোমার শিক্ষকের নামে এটা বলতে পারো না।
তুমি যে ম্যামের কথা বলছো উনি একজন
stylist lady. এটা ওনার ভালোলাগা।
কিন্তু তুমি যার সমালোচনা করছো উনি
প্রথমত তোমার শিক্ষক
দ্বিতীয়ত তোমরা ক্লাস ফোরের স্টুডেন্টরা যাকে নিয়ে সমালোচনা করেছো তার যোগ্যতার কাছে তোমরা জিরো।
কিভাবে পারলে একজন শিক্ষককে নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য করা এই বয়সে। অন্য বাচ্চাদের বাসায় আমার মনে হয় এই শিক্ষককে নিয়ে এই ধরনের মন্তব্য করা হয়। এই ছোট ছোট বাচ্চাগুলো তাদের অভিভাবকের কাছ থেকে শুনেছে না হলে এগুলো মাথায় আসবে কেন?
উনি কিভাবে চলবে এটা উনার সিদ্ধান্ত।
তুমি যদি মনে করো পৃথিবীর সমস্ত মানুষ তোমার মতই হবে তোমার যেগুলা পছন্দ হবে সবার সেগুলো পছন্দ হতে হবে বিষয়টা তো এরকম হতে পারে না।
একটা মানুষ সম্পর্কে সমালোচনা করার আগে ভেবে নিও তার সমালোচনা করার যোগ্যতা তোমার আছে কিনা।
চলার পথে সব মানুষকেই ভালো লাগতে হবে বিষয়টা এমন না। কিন্তু যাকে ভালো লাগবে না তাকে নিয়ে সমালোচনা করবে, হাসাহাসি করবে, এই শিক্ষার আমার দরকার নাই।
বড় মানসিকতার পরিচয় হলো সকল মেন্টালিটির মানুষকে রেস্পেক্ট করা।
যার যার ব্যক্তি জীবন তার তার পছন্দ।
এই ধরনের সমালোচনার সাথে কখনো নিজেকে মিলাবে না।
এটা ছিল মেয়েকে বলা আমার কথা।
আমি কোন অভিভাবকের মনে কষ্ট দেয়ার জন্য বলি নাই। সব অভিভাবক একরকম না।
অভিভাবকদের কাছে আমার একটা মেসেজ
বাচ্চার স্কুলের গল্প শুনলে বুঝতে পারবেন বাচ্চারা কাদের সাথে মিশছে।
কারণ যাদের সাথে মিশবে মনে অজান্তেই তাদের মত মেন্টালিটি তৈরি হয়ে যাবে।
আর তাদের মাথায় যদি এই ন্যারো মেন্টালিটি সেটাপ হয়ে যায় তাহলে ব্রড মাইন্ডের মানুষ সে কখনোই হতে পারবেনা।
post