30/01/2026
আসিফ মাহমুদ গতকাল কুমিল্লায় এনসিপির পক্ষে ভোটের প্রচারণায় গিয়েই বিএনপি ও তারেক রহমানকে বাজেভাবে আক্রমণ করে বক্তৃতা দিয়েছেন।
তারেক রহমান কটাক্ষ করে বলেন, ‘আগে বাসের ভেতর থেকে নামুন। বাংলাদেশের অলিগলি চিনুন। যে ফ্যামিলি কার্ড দিবেন, ওইটার জন্য কত টাকা চাঁদা দেওয়া লাগবে, সেটা বলেন।'
এই আসিফ মাহমুদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিল করার শেষদিনের আগের দিন পর্যন্ত জোর চেষ্টা চালিয়ে গেছেন ঢাকা-১০, এ আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিতে। অনেকে নেতার ধরনা দিছেন, বিএনপিতে যোগ দিয়ে দলের প্রতি পুর্ণ আনুগত্য প্রদর্শন করে চলবেন বলেও শক্ত প্রতিশ্রুতি দিছেন।
শেষ সময়ে এসে বিএনপির শীর্ষ অনেক নেতার মন গলে। ২৮ ডিসেম্বর স্থায়ী কমিটির মিটিংয়ে দলের অনেক সদস্য কনসিডার করার পক্ষে মত দেন। তারেক রহমান মিটিংয়ে সিদ্ধান্ত না জানিয়ে বলেন, রাতটা অপেক্ষা করেন। আমরা কাল দিনে সিদ্ধান্ত নিই।
পরে দিন সকালবেলা সালাহউদ্দিন আহমেদসহ নেতাদের মধ্যে আরও যারা এই যোগাযোগ প্রক্রিয়ায় ছিলেন, তাদের জানানো হয়, আপাতত প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে না। তবে দলে যোগ দিতে চাইলে সাধুবাদ। দলের সঙ্গে কাজ করুক, ভবিষ্যতে অনেক কিছুতে যুক্ত হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
এই সিদ্ধান্ত জানানোর পর থেকেই তার হাতে আর কোনো অপশন ছিল না, কোনো দলের হয়ে নির্বাচনে পার্টিসিপেট করার, জামায়াতও তাকে জোটের প্রার্থী বানাতে অস্বীকৃতি জানায়।
এর একটি কারণ হতে পারে, তার পিএসের বিরুদ্ধে যেহেতু বড় অঙ্কের দুর্নীতির শক্ত এলিগেশন আছে, তার সম্পৃক্ততা নিয়েও বাজারে বহু কানাঘুঁষা আছে। ফলে, ভবিষ্যতে এর দায়ভার তাদের কাঁধে এসে পড়বে, এটা তারা নিতে চাচ্ছে না।
একই চিন্তা থেকেই হয়ত তারেক রহমানও রিস্ক নিতে চান নাই। আরেকটা বিষয়, উপদেষ্টা থাকাকালীন সে সবচেয়ে বেশি কনফ্লিক্টে জড়িয়েছিল বিএনপির সঙ্গে। ফলে, তাকে আবার বরণ করে নির্বাচনে দলের প্রতীক তুলে দিলে দলে ভেতরে এবং বাহিরে, চারদিক থেকে সমালোচনায় পড়তে হবে হাইকমান্ড। এছাড়াও তার কমিটমেন্টের ওপরেও পূর্ণ আস্থা রাখা যাবে না। এসব ভেবেই হয়ত-বা তারেক রহমান তার কোনো আসন কনসিডার করেননি।
কোনো উপায়ন্তর না পেয়ে আসিফ নাহিদের বাসায় মিটিং করে ঠিক করেন তাকে দলের শীর্ষ পদগুলোর একটিতে রাখার বিষয়ে। পরে তাকে দলের মুখপাত্র করে নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান করার বিষয়টি ঠিক হলে ওই সন্ধ্যায় সে সংবাদ সম্মেলন ডেকে এনসিপিতে যোগ দেয়।
এই হলো ঘটনা। যেই আসিফ মাত্র ১ মাস আগেও দলের প্রতি পূর্ণ আনুগত্য প্রকাশ করে রাজনীতি করে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে নমিনেশনের জন্য অক্লান্ত চেষ্টা করলেন, তিনি যদি সত্যিই সুযোগ পেতেন, তাহলে এভাবে বিএনপি ও তারেক রহমানকে নিয়ে বাজেভাবে আক্রমণ করতেন?
রাজনীতিতে সমালোচনা ও তর্ক-বিবাদ হবে, তবে সেটি একে-অপরের প্রতি রেস্পেক্ট বজায় রেখেই করতে হবে।