16/05/2024
একজন আলেম স্ত্রীর মানসিক অত্যাচার বরদাশত করতে না পেরে মেঘনা নদীতে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। সংবাদটা দেখে খুবই খারাপ লাগল। একটা মানুষ মানসিকভাবে কতোটা আঘাত পেলে, কতোটা প্রেসারে পড়লে এবং হদয় ভাঙার পরে নদীতে ঝাপ দিয়ে আত্মহননের পথ বেছে নেয় তা খুব সহজেই অনুমেয়। অথচ একজন পুরুষের কাছে তাঁর স্ত্রীই সবচে আপন মানুষ হবার কথা। হাসি-আনন্দে আর দুঃখ-বেদনায় একে অপরের অংশীদার হবার কথা।
আরবীতে স্বামী-স্ত্রীকে যাওজ/যাওজাহ বলা হয়। মানে হলো জোড়া। অর্থাৎ উভয়ে একই অস্তিত্বের মতো। একে অপরের জোড়া। উভয়ে মিলে একটা পূর্ণ সত্তা। সেই আপন মানুষই যদি দিনের পর দিন বারংবার মানসিকভাবে যন্ত্রণা দিয়ে যায়, একজন পুরুষের জন্য এরচে বড় আযাব আর হতে পারে না।
কিয়ামতের ময়দানে যে মানুষ একে অপরের থেকে পলায়ন করবে, সেখানে কুরআন সূরা আবাসাতে ধারাক্রম উল্লেখ করেছে এভাবে-
সেদিন একজন ব্যক্তি পলায়ন করবে
ক. ভাই থেকে
খ. মা-বাবা থেকে
গ. স্ত্রী-সন্তান থেকে
অর্থাৎ পুরুষের সৃষ্টিগত তবিয়তই এটা যে, বিয়ের পর স্ত্রী তাঁর কাছে মা-বাবা থেকেও প্রিয় হয়ে যায়। যদিও মা-বাবার সম্মান আপন জায়গায় স্ত্রীর চেয়েও বেশি। কিন্তু তবিয়ত-স্বভাবের ব্যাপারটা ভিন্ন। তাই বিপদের মুখে পলায়ন করার সময় নিজের ভাই-বোন, মা-বাবা সবার থেকে পলায়ন করার পর স্ত্রীর পালা আসে। এটা আপন স্ত্রীর প্রতি পুরুষের সৃষ্টিগত ভালবাসার দরুন হয়ে থাকে।
দেখবেন, পুরুষ মানুষ দিনরাত খাটাখাটনি করে যা কামাই করে, এর সিকিভাগ সে নিজের জন্য খরচ করে। বাকি সব স্ত্রী-সন্তানদের জন্য বিলিয়ে দেয়। এই ত্যাগ অনেক স্ত্রীরা বুঝে না। তারা স্বামীকে নানানভাবে মানসিকভাবে কষ্ট দেয়। সামান্য এবং তুচ্ছ বিষয়কেও বিরাট বড় ঝামেলার বস্তু বানিয়ে ফেলে। এগুলো খুবই খারাপ স্বভাব। যাদের মধ্যে এমন স্বভাব আছে, এরা ব্যক্তিগতভাবে অনেক দ্বীনদার ও আমল করলেও শুধু এই একটা কারণে পরকালে আটকা পড়বে।
আল্লাহ তাআলা সেই ভাইটিকে ক্ষমা করুন। কারণ যতো যাই হোক, আত্মহত্যার পথে পা বাড়ানো কখনোই তার জন্য সমীচীন হয়নি। ধর্মীয় দিক থেকে তো নয়ই, যৌক্তিক দিক দিয়েও না। আত্মহত্যা কখনোই কোন ভাল সমাধান না। ভাইয়েরা, নিজের জীবনকে আরও ভালবাসুন। একে মূল্যবান হিসেবে গ্রহণ করুন। কিছু হলেই আত্মহননের পথ বেছে নেওয়া কখনো মুমিনের শান হতে পারে না।
ভাইটির পরিবারকে আল্লাহ সবরে জামীল দান করুন। এমন তাগড়া একটা মানু্ষ মনের কষ্টে লাশ হয়ে গেছে, এটা তাদের জন্যও অনেক বড় বেদনার।