19/05/2026
এবারের যুলহিজ্জা আপনার জীবনে এমন কিছু দু’আ কবুলের দরজা খুলে দিতে পারে, যা আপনি বহু বছর ধরে একান্তভাবে আল্লাহর কাছে চেয়ে আসছেন।
এই দশ দিন শুধু আমল করার সময় নয় বরং নিজের সব চাওয়া, কষ্ট, স্বপ্ন আর না বলা কথাগুলো আবার রবের সামনে গুছিয়ে পেশ করার সময়ও।
তাই বছরের সেরা দশ দিনে শুধু আমলের লিস্ট করলেই কী হবে?
দু’আর লিস্টও তো তৈরি করতে হবে আমাদের
কারণ এই দিনগুলোই তো আল্লাহর কাছে সর্বান্তকরণে ফিরে আসার দিন। রবের দরজায় মাথা নত করার দিন।
তাই এবার একটা “দু’আ জার্নাল” বা “দু’আ লিস্ট” বানিয়ে ফেলুন ইনশাআল্লাহ।
কি কি লিখতে পারেন সেখানে?
◉ প্রথমেই লিখুন আপনার সবচেয়ে প্রয়োজনের দু’আগুলো।
যেগুলোর জন্য হৃদয়ের গভীর থেকে আল্লাহর কাছে চান। হেদায়েত, রিজিক, সুস্থতা, নেক সন্তান, বিয়ে, মানসিক শান্তি, সম্পর্ক ঠিক হওয়া, গুনাহ থেকে মুক্তি—যা দরকার সব লিখুন।
◉ শুধু দুনিয়ার জন্য নয়, আখিরাতের দু’আও লিখুন। যেমন—
“ইয়া আল্লাহ, আমাকে ক্ষমা করুন।”
“আমার কবরকে শান্তিময় করুন।”
“আমাকে জান্নাতুল ফিরদাউস নসিব করুন।”
◉ এমন কিছু দু’আও লিখুন, যেগুলো আপনার কাছে অসম্ভব মনে হয়।
কারণ আপনার কাছে অসম্ভব হলেও, আল্লাহর কাছে কিছুই অসম্ভব নয়।
◉ নিজের জন্য যেমন দু’আ করবেন, তেমনি অন্যদের জন্যও আলাদা লিস্ট রাখুন।
মা-বাবা, পরিবার, বন্ধু, অসুস্থ মানুষ, মৃত প্রিয়জন—সবাইকে রাখুন আপনার দু’আয়।
কারণ অন্যের জন্য করা দু’আয় ফেরেশতারাও আপনার জন্য আমীন বলেন।
◉ মুসলিম উম্মাহর জন্য, নিপীড়িত মুসলিমদের জন্য এবং দেশের শান্তি, হেফাজত ও সার্বিক কল্যাণের জন্যও দু’আ রাখুন।
◉ একটা “ড্রিম দু’আ লিস্ট” রাখুন। যেমন—
“ইয়া আল্লাহ, আমাকে বাইতুল্লাহর মেহমান বানিয়ে দিন।”
“আমাকে মাদিনাহর মুসাফির হিসেবে কবুল করুন।”
“আমার হৃদয়কে কুরআনের সাথে জুড়ে দিন।”
“আমাকে একটা সুন্দর বাড়ি বানানোর তাওফিক দিন।”
“আমাকে আফিয়াতের সাথে এমন রিজিক দিন, যেন আমি অনেক মানুষের হাসিমুখের কারণ হতে পারি।”
এভাবে নিজের সব নেক স্বপ্ন, সব চাওয়া ইখলাসের সাথে আল্লাহকে বলে ফেলুন।
◉ আরেকটা “কবুল হয়ে যাওয়া দু’আ” লিস্টও রাখুন। যখন কোনো দু’আ কবুল হবে, পাশে ছোট্ট একটা ✓ চিহ্ন দিন।
দেখবেন, আপনার রব কতবার আপনাকে শুনেছেন…!
কখন বেশি বেশি দু’আ করবেন?
— তাহাজ্জুদের সময়
— সিজদায়
— ফরজ সালাতের পরে
— আযান ও ইকামাতের মাঝখানে
— বৃষ্টির সময়
— শুক্রবার আসর থেকে মাগরিব
— আরাফার দিন
— ইফতারের আগে (যদি