24/02/2026
ইফতারের ঠিক আগে—দোয়া কবুল হওয়ার সময়? আজান হওয়ার ১০ মিনিট আগে কী করবেন?
মাগরিবের আজান হওয়ার ১০ মিনিট বাকি।
আপনি কী করছেন?
রান্নাঘরে দৌড়াদৌড়ি। খেজুর সাজাচ্ছেন। পানির গ্লাস রাখছেন। টেবিলে খাবার নামাচ্ছেন। ছোলা, পেঁয়াজু, হালিম—সব গরম করছেন।
বাচ্চারা টেবিলের চারপাশে বসে আছে। হাতে খেজুর তুলে নিয়েছে। চোখ ঘড়িতে। "আর কত সময়?"
আপনিও ব্যস্ত। "আরে, ওই পেয়ালাটা নাও। পানি ঢালো। জলদি!"
আজান হলো। সবাই তাড়াতাড়ি খেজুর মুখে দিল। পানি পান করল। রোজা ভাঙল।
কিন্তু— আজান হওয়ার আগের সেই ১০ মিনিট? যেই সময়টা ছিল দোয়া কবুলের সোনালি সময়? সেই সময় কী করলেন?
রান্নাঘরে ব্যস্ত ছিলেন। দোয়া করেননি। হাত তুলেননি। কিছু চাননি।
রমজানের সবচেয়ে মূল্যবান মুহূর্ত—হাতছাড়া হয়ে গেল।
রোজাদারের দোয়া ফেরত যায় না
নবী করিম ﷺ বলেছেন:
ثَلَاثَةٌ لَا تُرَدُّ دَعْوَتُهُمْ: الصَّائِمُ حَتَّى يُفْطِرَ، وَالْإِمَامُ الْعَادِلُ، وَدَعْوَةُ الْمَظْلُومِ
অর্থ: তিন ব্যক্তির দোয়া ফেরত যায় না: (১) রোজাদার—যতক্ষণ না সে রোজা ভাঙে, (২) ন্যায়পরায়ণ শাসক, (৩) মজলুমের দোয়া।
— সুনানে ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১৭৫২
দেখুন—"রোজাদার—যতক্ষণ না সে রোজা ভাঙে।"
মানে, পুরো দিন যখন রোজা রাখা অবস্থায় আছেন, তখন দোয়া কবুল হয়। কিন্তু বিশেষভাবে—ইফতারের ঠিক আগে। যখন আজান হতে আর ৫-১০ মিনিট বাকি।
নবী করিম ﷺ আরো বলেছেন—"রোজাদারের জন্য ইফতারের সময় একটি দোয়া আছে যা ফেরত যায় না।" — সুনানে ইবনে মাজাহ
মানে, এই মুহূর্ত সারা দিনের সবচেয়ে শক্তিশালী সময়। যা চাইবেন, ইনশাআল্লাহ পাবেন।
ইফতারের আগের ১০ মিনিটে যা করবেন
১. সব কাজ থামিয়ে দিন—হাত তুলুন
আজান হওয়ার ১০ মিনিট আগে—যা করছেন থামান। রান্না থামান। টেবিল সাজানো থামান।
ওজু করে পরিষ্কার জায়গায় বসুন। কিবলামুখী হন। দুই হাত তুলুন। চোখ বন্ধ করুন। মনোযোগ দিয়ে দোয়া শুরু করুন।
২. আল্লাহর প্রশংসা দিয়ে শুরু করুন
প্রথমে বলুন:
"আলহামদুলিল্লাহ। সুবহানাল্লাহ। আল্লাহু আকবার। লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।"
তারপর দরূদ পড়ুন:
"আল্লাহুম্মা সাল্লি আলা মুহাম্মাদিউ ওয়া আলা আলি মুহাম্মাদ।"
৩. রোজা ভাঙার দোয়া পড়ুন
তারপর পড়ুন:
اللَّهُمَّ لَكَ صُمْتُ وَعَلَى رِزْقِكَ أَفْطَرْتُ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু ওয়া আলা রিজক্বিকা আফতারতু।
অর্থ: হে আল্লাহ, আপনার জন্যই রোজা রেখেছি এবং আপনার দেওয়া রিজিক দিয়ে ইফতার করছি।
— সুনানে আবু দাউদ
৪. যা মন চায় চান—কিছু লুকাবেন না
এবার খুলে বলুন। যা চান চান।
"হে আল্লাহ, আমার ঋণ শোধ করে দিন।"
"হে আল্লাহ, আমার সন্তানকে হেদায়েত দিন।"
"হে আল্লাহ, আমাকে সুস্থতা দিন।"
"হে আল্লাহ, আমার বাবা-মাকে জান্নাত দিন।"
"হে আল্লাহ, আমাকে ভালো চাকরি দিন।"
যা প্রয়োজন, যা চান, যা মনে আসে—সব বলুন। আল্লাহ শুনছেন। তিনি দেবেন।
৫. ক্ষমা চেয়ে শেষ করুন
শেষে বলুন:
"আল্লাহুম্মা ইন্নাকা আফুওউন, তুহিব্বুল আফওয়া, ফা'ফু আন্নি।" (হে আল্লাহ, আপনি ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালোবাসেন, তাই আমাকে ক্ষমা করুন।)
তারপর আবার দরূদ পড়ুন। আমিন বলুন।
কাঁদতে পারলে কাঁদুন। কান্না না এলেও সমস্যা নেই। আল্লাহ নিয়ত দেখেন।