11/02/2026
১৯৯৬ সালের ১৩ ই মার্চ সোমবার দিন বিকালে টাঙ্গাইল জেলার গোপালপুর থানার উপর দিয়ে বয়ে চলে এক ভয়াবহ ঘূর্ণিঝড়।ঐ দিন আমি বাড়িতেই ছিলাম। আকাশে প্রচন্ড মেঘ করে চারদিকে অন্ধকার হয়ে আসলো। আমি ঘরের দরজায় দাঁড়িয়েছিলাম। আমার মা ঘরের বাহিরে কাজ করতে ছিল। এমন সময় প্রচন্ড ঝড় শুরু হয়ে যায়। জ্বরের মধ্যেই সে উঠোনে কাজ করতে থাকে। গাছপালা মনে হয় মাটির সাথে মিশে যাচ্ছে গাছের ডালপালাগুলো যেন মাটিতে সিজদার মত অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। চারিদিকে বিজলি চমকাচ্ছে। বজ্রপাত হচ্ছে। এই অবস্থায় আমি দৌড়ে বাহিরে আছি মাকে টেনে ঘরের ভিতরে নিয়ে আসি। আমার বাবা ভাইয়েরা ধান কাটতে চড়াই গিয়েছিল। এজন্য আমরা ছিনতায় মগ্ন ছিলাম। চারদিকে টিনের ঘরের চাল উড়ে যাওয়ার শব্দ বয়ে আসতে ছিল। বাহিরে প্রচন্ড ঝড় ভিতর ঘরের ভিতর থেকে বাবা এবং ভাইদের জন্য চিন্তা করতেছিলাম। অনেক ভয়-ভীতির ভিতরে সময় অতিবাহিত করতে ছিলাম নিয়তি সহায় ছিল আমাদের গ্রামের উপর দিয়ে তেমন কোনো ভয়াবহতার সৃষ্টি করতে পারেনি। আমাদের পাশের গ্রাম বড়শিলা,বড়ভিটা, আরো কয়েকটি গ্রামের উপর দিয়ে ঘূর্ণিঝড়ের প্রবল বেগে প্রচন্ড ক্ষয়ক্ষতি হয়ে যায়। ওই সময় আমি ছিলাম ছোট। বয়স হয়তো সাত আট হবে। ওই গ্রাম দেখতে একা যাইতে সাহস পাইনি। পরের দিন আমার চাচতো ভাই উল্লাসের সাথে হেঁটে হেঁটে যাই সে গ্রামগুলো দেখতে। ওই সময় ছিল জ্যৈষ্ঠ মাস। দেখলাম ধান ক্ষেতগুলোতে ধান গাছ দাঁড়িয়ে আছে কিন্তু সে ধান গাছের মধ্যে কোন একটা ধানও নেই মনে হয় ধানগুলো থেকে ধানগুলো চুষে নিয়ে গেছে কিন্তু খেতেও একটা দান পড়ে নাই।