25/03/2025
*অপ্রত্যাশিত দেখা**
সে এক শীতের সন্ধ্যা। রিদিতা কফিশপের কর্নার সিটে বসে বই পড়ছিল, চায়ের কাপে ধোঁয়া উঠছে। বাইরে হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল, জানালার কাঁচে ফোঁটাগুলো আঁকাবাঁকা পথ এঁকে যাচ্ছিল।
হঠাৎ দরজার ঘণ্টা বাজল। এক যুবক ভিতরে ঢুকল—জ্যাকেটে পানি, চুল একটু এলোমেলো। তার হাতে একটি পুরনো ক্যামেরা। সে চারদিকে তাকিয়ে খালি সিট খুঁজছিল। রিদিতার টেবিলেই শুধু একটি চেয়ার খালি ছিল।
"এখানে বসতে পারি?" যুবকটি জিজ্ঞেস করল।
রিদিতা মাথা নাড়ল, "হ্যাঁ, অবশ্যই।"
যুবকটি বসে চায়ের অর্ডার দিল। কিছুক্ষণ নীরবতা। তারপর সে ক্যামেরাটা হাতে নিয়ে বলল, "আপনার যদি অসুবিধা না হয়, আমি এই কফিশপের মূহুর্তগুলো ক্যাপচার করতে চাই। আপনি কি ছবি তোলার ব্যাপারে আপত্তি করবেন?"
রিদিতা একটু হেসে বলল, "আপত্তি নেই। তবে শর্ত আছে—আমাকে সেই ছবি দেখাতে হবে।"
যুবকটি হাসল, "ডিল!"
এভাবেই শুরু হয়েছিল তাদের কথোপকথন। যুবকটির নাম আরিয়ান, ভ্রমণপিপাসু ফটোগ্রাফার। রিদিতা কলেজে পড়ে, সাহিত্যের ছাত্রী। বৃষ্টি থামার আগেই তারা কফি, ফটোগ্রাফি, বই আর জীবন নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কথা বলে গেল।
তারপর থেকে প্রত্যেক শুক্রবার তারা ওই কফিশপে দেখা করতে শুরু করল। কখনও বই নিয়ে, কখনও ক্যামেরা নিয়ে। ধীরে ধীরে রিদিতা বুঝতে পারল, সে আরিয়ানের দিকে তাকানোর সময় তার বুকটা একটু দ্রুত ছুটছে। আরিয়ানও টের পেল, রিদিতার হাসি এখন তার দিনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত।
একদিন আরিয়ান রিদিতাকে তার তোলা সবচেয়ে প্রিয় ছবিটি দেখাল—একটি শীতের সন্ধ্যায় জানালার পাশে বসে থাকা একটি মেয়ে, যার হাতে বই, চোখে স্বপ্ন।
"এটা কে?" রিদিতা জিজ্ঞেস করল।
"তুমি," আরিয়ান বলল, "যেদিন প্রথম দেখা হয়েছিলাম।"
রিদিতার গালে লাল আভা ছড়াল। আরিয়ান হাত বাড়িয়ে তার হাতটি ধরে বলল, "আমি চাই তুমি আমার জীবনের বাকি সব ছবির মূল চরিত্র হও।"
বৃষ্টি আবার শুরু হলো বাইরে। কিন্তু সেদিন তাদের হৃদয়ে রোদ ঝলমল করছিল।
**💝 শেষ 💝**