14/10/2022
তাকদীরের ব্যাপারে ভ্রান্ত আক্বীদা
ভ্রান্ত আক্বীদা-২৭:
অনেক মূর্খ লোক আছে, যারা ইবাদত-বন্দেগী, নামায-রোযার ধার ধারে না, সময় পেলেই তাকদীর নিয়ে তর্ক-বিতর্ক শুরু করে দেয় এবং এমন কথা বলতে শুরু করে, যা ঈমানের জন্যে হুমকিস্বরূপ; যেমন তারা বলে- সবকিছুই যখন আল্লাহ তা‘আলা লিখে রেখেছেন, তাহলে চোরের কী দোষ? মদখোরের কী দোষ? আল্লাহ তা‘আলা যখন কে জান্নাতী কে জাহান্নামী লিখে রেখেছেন, তাহলে ইবাদত-বন্দেগী করে লাভ কী? আল্লাহ তা‘আলা শয়তানকে সৃষ্টি করলেন কেন? ইত্যাদি বিভিন্ন অমূলক প্রশ্ন তারা করে থাকে।
এ ধরণের প্রশ্ন ঈমানের জন্যে ক্ষতিকর। আল্লাহ তা‘আলা ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহ তা‘আলা যা করেন, তার বিরুদ্ধে আপত্তি করার অধিকার
কারো নেই।’ [সূত্র : সূরা আমবিয়া, আয়াত ২৩]
সুতরাং আল্লাহর বিরুদ্ধে এ ধরণের আপত্তি ও অভিযোগ করা কুফরী কাজ। মানুষের কামিয়াবী আল্লাহর হুকুম-আহকামকে সরল অন্তঃকরণে মেনে নেয়ার মধ্যেই নিহিত রয়েছে। সুতরাং, কোন যুক্তি-তর্ক বা অভিযোগ উত্থাপন না করে আল্লাহর প্রতি এরূপ বিশ্বাস রাখা কর্তব্য যে, তিনি যা বলেন, যা করেন, যে আদেশ-নিষেধ করেন, সবই সহীহ, সঠিক ও বান্দার জন্যে মঙ্গলজনক। এর মধ্যে বান্দার অনিষ্টের কিছু্ই নেই। তাকদীরের ব্যাপারে শরী‘আতের বিধান এই যে, ঈমানের অঙ্গ হিসেবে মনে-প্রাণে তা মেনে নেয়া এবং এ ব্যাপারে নিজেদের বুদ্ধি-বিবেচনা দ্বারা বা কল্পনাপ্রসূত কোন তর্ক-বিতর্ক বা আলোচনা-পর্যালোচনা না করা কর্তব্য। নবী করীম সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ইরশাদ করেন, ‘যে ব্যক্তি আকল-বুদ্ধি দ্বারা তাকদীরের ব্যাপারে তর্ক-বাহাস করল, তাকে কিয়ামতের দিবসে এ জন্যে জবাবদিহী করতে হবে। আর যে ব্যক্তি তাকদীরের বিষয়ে কোন তর্ক-বাহাস করল না, তাকে এজন্যে কিয়ামতের দিবসে কোন কৈফিয়ত দিতে হবে না।’ [সূত্র : ইবনে মাজাহ ও মিশকাত শরীফ, পৃষ্ঠা ২২।]
অপর এক হাদীসে এসেছে, একদিন নবীজী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম বাইরে আসলেন। তখন কতিপয় সাহাবী রাযি. তাকদীরের বিষয়ে তর্ক করছিলেন। তা দেখে নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভীষণ রাগান্বিত হয়ে গেলেন। তাঁর চেহারা মুবারক লাল বর্ণ ধারণ করল। তিনি বলতে লাগলেন, ‘তোমাদের কি এ বিষয়ে বাহাস করতে আদেশ করা হয়েছে? না আমাকে এ বাহাস করার জন্যে তোমাদের নিকট প্রেরণ করা হয়েছে? তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা তাকদীরের ব্যাপারে তর্ক-বিতর্ক করে ধ্বংস হয়ে গেছে। আমি তোমাদেরকে কঠোর নির্দে