07/02/2026
# হৃদয়_জুড়ে_তুমি
# লেখনিতে_তাসফিয়া_ও_তোয়া
# পাঠ_১
❌কপি করা নিষেধ ❌
— দোস্ত আজকে নতুন একজন রেসার এসেছে। সে নাকি আজ পর্যন্ত কোনো রেসে হারেনি।
হঠাৎ বলে ওঠে ফারাবি।
এবার ফোনের স্কিন থেকে চোখ সরায় অভ্র।
"আফনান শেখ অভ্র " শেখ বাড়ির একমাত্র ছেলে। বয়স পঁচিশ। ভার্সিটিতে পড়ে এবার ফাইনাল ইয়ার। গায়ের রং উজ্জ্বল ফর্সা। লম্বা ছয় ফুট। সেট করা চুল। পরনে জিন্সের প্যান্ট ও শার্ট। জীম করা বডি। ভার্সিটির সকল মেয়েদের ক্রাশ। ফারাবী অভ্রর বেস্ট ফ্রেন্ড।
ফারাবীর কথায় অভ্র জবাব দেয়।
- তো? আগে কখনো হারেনি আজ হারবে।
- বেডা সে একজন মেয়ে।
ফারাবীর কথায় সামন্য অবাক হয় অভ্র। বলে,
- ইন্টারেস্টিং। আ গার্ল,
এই কথা বলেই সামনে চোখ যায় অভ্রর। এক রমণী তার দিকেই হেঁটে আসছে। পরণে জিন্সের প্যান্ট ও শার্ট
তার উপরে লেদার জেকেট।হাতে হেলমেট। দুধে আলতা গায়ের রং। পোনিটেল করা চুলগুলো কোমরের নিচ পর্যন্ত পরছে। ছাড়লে হয়তো হাঁটু পর্যন্ত পড়বে চুলগুলো। সবচেয়ে অদ্ভুত হলো তার চোখ। নীল চোখ মেয়েটির। অভ্র এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল মেয়েটির দিকে।কথা অভ্রর সামনে এসে চোখে চোখ রেখে বলে,
- রেস শুরু করা যাক।
কথার কথায় ঘোর কাটে অভ্রর। সে মাথা জাকিয়ে সম্মতি জানায়।
রেস শুরু হয়। অধিকাংশ লোকই অভ্রর পক্ষে। সবার মুখে একটাই নাম 'অভ্র' 'অভ্র' 'অভ্র'। রেস প্রায় শেষের
দিকে কথা এখনো অভ্রর থেকে অনেকটাই পিছনে। সাধারণ দৃষ্টিতে কথার হার নিশ্চিত। শেষ ট্রান এর পর রেস শেষ। কথা একটা মুচকি হাসি দেয় এর পর বাইকের সর্বোচ্চ স্প্রিট বাড়িয়ে দেয়। শেষ মুহূর্তে কথার বাইক আগে চলে যায়। কথা ফাস্ট। এক মিনিটের জন্য সবাই স্তব্ধ। আজ প্রথম কোনো রেসে হারলো অভ্র। তাও আবার একজন মেয়ের কাছে। ভাবা যায়। বিষয়টা বেশ অপমান জনক লাগলো অভ্রর কাছে। রেস জিতার পর আর কোথাও পাওয়া গেল না কথাকে। অভ্র খোঁজ নিয়ে জানতে পারে এই মেয়ের নাম "সিয়ারা চৌধুরী কথা"। চৌধুরী বাড়ির বড়ো কন্যা ও বাংলাদেশের টপ বিজনেস মেন " সাফওয়ান চৌধুরীর" একমাত্র সন্তান।
রাত বাজে একটা বাড়ির সবাই হল রুমে বসে আছে। "সাফওয়ান চৌধুরী", "সালমান চৌধুরী", "রমজান চৌধুরী"ও "রায়ান চৌধুরী" চার ভাই অনাব্রত ফোন দিয়ে যাচ্ছে কথাকে।কিন্তু ফোন বার বার সুইচ অফ বলছে। সাধারণত এমন কখনো হয় না। যত কিছুই হোক না কেন কথার ফোন কখনো বন্ধ থাকে না। "সালমান চৌধুরী" চৌধুরী বাড়ির মেজো ছেলে। তার স্ত্রী নীলা বেগম। তাদের দুই ছেলে। "নিরব ও নিশাদ"।নিরব ক্লাস টেনে ও নিশাত ক্লাস নাইনে পড়ে। সেজো ছেলে "রমজান চৌধুরি"। তারে স্ত্রীর নাম নুপুর। তার দুই মেয়ে। "রোজা ও রোদ"। রোজ এবার ইন্টার সেকেন্ড ইয়ারের ছাত্রী ও রোদ সে ক্লাস নাইনে পড়ে। "রমজান চৌধুরী" বাড়ির ছোট ছেলে। সে এখনো অবিবাহিত। কথার মা কিয়ানা মেয়ের চিন্তায় অস্থির। কিয়ানারও কথার মতো নীল চোখ। আসলে সে বিদেশী। সাফওয়ান চৌধুরী যখন পড়া-লেখার জন্য থাইল্যান্ডে গিয়েছিলেন তখন তার কিয়ানার সঙ্গে দেখা হয়। তারপর বন্ধুত্ব। বন্ধুত্ব থেকে সম্পর্কটা ভালোবাসায় রূপ নেয়। তারপর বিয়ে করে কিয়ানা সাফওয়ানের চৌধুরীর হাত ধরে বাংলাদেশে আসে। বাংলাদেশে আসার এক বছর পর তাদের ঘর আলো করে কথা আসে। বাবা-মার খুব আদরের সন্তান কথা। তার জন্য পরে আর সন্তান নেয়নি তারা। রাত একটা বিশ বাজে বাড়িতে প্রবেশ করে কথা। সকলে দৌড়ে যায় কথার কাছে। সাফওয়ান চৌধুরী জিজ্ঞেসা করেন,
- কই ছিলে এতক্ষণ? ফোন বন্ধ কেন তোমার? জানো
আমরা কতো চিন্তা করছিলাম।
কথা বেশ ক্লান্ত। রেসের পর সোজা বাড়িতে চলে আসে সে। ফোনের চার্জ শেষ তাই বন্ধ হয়ে গেছে। কথা বলে,
- ফোনের চার্জ শেষ তাই বন্ধ হয়ে গেছে। আর আজকে আমার একটা রেস ছিল।
সাফওয়ান চৌধুরী রাগান্বিত হয়ে বলেন,
- তোমাকে কতো বার নিষেধ করছি এইসব রেস টেস বাদ দিতে। কেন আমার কোনো কথা শোনো না। জানো আমার কতো চিন্তা হচ্ছিল।
বাবার কথার কথা বুঝতে পারে সে রেগে আছে। তাই গিয়ে বাবাকে জরিয়ে ধরে বলল,
- সরি বাবা আর লেট হবে না। রাস্তায় বাইকের তেল শেষ হয়ে গিয়েছিলো তাই আসতে দেরি হয়েছে। সরি।
মেয়ের কান্ডে অবাক হয় না সাফওয়ান চৌধুরী। তার মেয়েটা এমনি। রাগী, বদ মেজাজী,খুব চঞ্চল যখন যা ইচ্ছে তাই করে। সাফওয়ান চৌধুরী বললেন,
- ঠিক আছে। এই কথাটা মনে থকে যেন।
এবার কিয়ানা চৌধুরী একটু রাগী স্বরে বলে ওঠেন,
- যা ইচ্ছে তাই করো তোমরা দুই বাপ-মেয়ে। মেয়ে যাই করে বাবা তাতেই সায় দেন। দিন দিন আরও বেশি ফাজিল হয়ে যাচ্ছে এই মেয়ে।
কথাটা বলে সে তাকায় কথার দিকে। কথা এখন বাবার পেছনে আশ্রয় নিয়েছে। সে যতই রাগী হোক, যতই সাহসী হোক মাকে সে ভাষণ ভয় পায়।
- কেউ কী বলবে এতক্ষণ কেউ একজন মেয়ের জন্য
অস্থির হয়ে যাচ্ছিল। কান্না করছিলো।
কথাটা একটু টিটকারি করে বললেন সাফওয়ান চৌধুরী। কথাটা শুনে কিয়ানা বেগম রাগে গট গট করে চলে গেলেন নিজের রুমে। হল রুমে উপস্থিত সবাই উচ্চস্বরে হেসে উঠলেন।
কথা বলে,
- থ্যাংক ইউ বাবা! আবার একবার বাঁচালে আমায়।
কথাটা বলে সে নিজের রুমে চলে যায়। তারপর একে একে যে যার রুমে চলে যায়। কথা রুমে এসে শাওয়ার
নিয়ে একটা ঘুম দেয়। এরপর কেটে যায় এক সাপ্তাহ।আজ কথার ভার্সিটির প্রথম দিন। নিশা তাকে একের পর এক ফোন দিয়েই যাচ্ছে। নিশা বাংলাদেশের একজন নামকরা বিজনেস ম্যানের মেয়ে। প্রত্যয় ও নিশা কথার বেস্ট ফ্রেন্ড। প্রত্যয়ের বাবা একজন ডক্টর। নিশার ফোনে ঘুম ভাঙে কথার। সে রেডি হয়ে নিচে নামে। পরনে নীল রঙের টপস।কাধে ব্যাগ।ঠোঁটে শুধু লিপবমা দেওয়া ব্যাস রেডি সে। নিচে নেমে দেখে নিশা ও প্রত্যয় বসে আছে। কথাকে দেখে প্রত্যয় বল ওঠে,
- এসেছেন মহারানী ভিক্টোরিয়া বেশি তারাতারি হয়ে গেল না।
কথা রাগী চোখে তাকায় প্রত্যয়ের দিকে। চুপ হয়ে যায় প্রত্যয়। তিনজন বাইরপ যাওয়ার জন্য পা বাড়ায় ঠিক তখনি পিছন থেকে কিয়ানা চৌধুরী বলে ওঠেন যাওয়ার আগে কিছু খেয়ে তো যা।
- খাওয়ার টাইম নেইগো আন্টি। এমনেই তোমার মেয়ের জন্য দেরি হয়ে গেছে । বলে নিশা। নিশার কথায় কিয়ানা চৌধুরী বলেন,
- ঠিক আছে। সাবধানে যাস।
কথা বলে ওঠে,
- তোমার চিন্তা করতে হবেনা। সাবধানেই যাব আমরা।
এই বলে চলে যায় তিনজন।
তিনজনই বেশ মেধাবী স্টুডেন্ট। তাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পেয়েছে। ক্যাম্পাসের ভিতরে পা রাখতেই সকলে হা করে তাকিয়ে আছে তাদের দিকে।
নিশাও বেশ সুন্দরী। ফর্সা গায়ের রং। প্রত্যয়ও বেশ হ্যান্ডসাম। তখনি কথা খেয়াল করে কিছু স্টুডেন্ট লাইন ধরে দাড়িয়ে আছে। এবং তাদেরও সেখানে ডাকছে কিছু সিনিয়র। তারা তিনজন যায় সেদিকে। গিয়ে দাড়ায় পিছনে। দাড়ানোর পর বুঝতে পারে এখানে নিউ ইয়ারের স্টুডেন্টদের রেগিং করা হচ্ছে। এবং সেখানে অভ্রও উপস্থিত আছে। অভ্র এখানে আসতে চায়নি। তার এক ফ্রেন্ড জোর করে তাকে ও ফারাবীকে এখানে নিয়ে এসেছে। তাকে বলা হয়েছে নিউ ইয়ারের স্টুডেন্টদের কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেসা করা হবে আর কিছু না। অভ্রর বাবা একজন বিজনেস ম্যান পাশাপাশি রাজনীতিবিদও। তাই তার ক্ষমতা অনেক বেশি। বাবা রাজনীতিবিদ হওয়ায় অভ্রও রাজনীতির সাথে অনেক জড়িয়ে আছে। তাই ভার্সিটির অন্য ছেলেরা তার ক্ষমতা ব্যবহার করে এখানে রেগিং করছে। যা সম্পর্কে অভ্র অবগত নয়। সবার পিছন থেকে কেউ একজন জাজালো কন্ঠে বলে ওঠে,
- এখানে কী টিসিপির পণ্য বিতরণ করা হচ্ছে।
স্টুডেন্টদের রেগিং করতে থাকা সুমন বলে ওঠে,
- মানে
পেছন থেকে সামনে আসে কথা ও বলে ল
আমরা এখানে লাইনে দাঁড়িয়ে আছি কেন?
সুমন ভাব নিয়ে বলে,
- এই মেয়ে তোমার সাহস তো কম না
কথা সামান্য হাসি দিয়ে বলে,
- আমি জানি আমার সাহস অনেক বেশি, আপনার বলতে হবে না।
কিছুটা বিব্রত হয় সুমন। তবে তা প্রকাশ না করে অভ্রর দিকে ইশারা করে বলে,
- তুমি জানো ও কে? ওর সামনে এভাবে কথা বললে কী হতে পারে জানো?
কথা একবার তাকায় অভ্রর দিকে যে এখন তার দিকেই তাকিয়ে আছে। কথা তাকাতেই চোখাচোখি হয় দুজনের। কথা চোখ সরিয়ে নিয়ে সুমন নামের ছেলেটিকে বলে –
- কেন সে জানেনা সে কে।
- এই মেয়ে–
সম্পূর্ণ কথা শেষ করার আগেই কথা সুমনকে থামিয়ে দিয়ে বলে–
- অন্যের পাওয়ারে চলা বাদ দেন। নিজের কিছু থাকলে তা নিয়ে চলেন।আর কয়দিন অন্যের চামচামি করবেন বলেন তো।
সুমন রাগে কথাকে বলে,
- সিনিয়রদের কীভাবে সন্মান করতে হয় তা তোমার পরিবার শেখায় নি।
পরিবার নিয়ে কথা বলায় কথা এবার রেগে যায় এবং বলে–
- আমার পরিবার আমায় শিখিয়েছে যে সন্মান দিতে জানে সে সন্মান নিতেও জানে। কোনো অমানুষকে সন্মান দেওয়া আমার পরিবার আমাকে শিখায়নি।
কথাটা বলেই কথা সেখানে উপস্থিত বাকি ছাত্র -ছাত্রীদের দিকে তাকায়। ও বলে,
- যে যার ক্লাসে যান।
সকলে হতভম্ব যেখানে অভ্রর ভয়ে তারা একটা কথা বলতে পারে না। সেখানে এই মেয়ে কীভাবে তাকে অপমান করলো। ভাবা যায়।কথার কথায় সকলে যে যার ক্লাসে চলে যায়।পিছনে দাড়িয়ে তাকা সুমন সহ বাকি যারা রেগিং করছিলো তারা সবাই রাগে ফুসতে থাকে। কথার এই ব্যাবহারে।
কথাও সেখান থেকে যাওয়ার জন্য দুপা বাড়ায় পরক্ষণেই অবার পেছনে ফিরে চলে আসে। এবং অভ্রর সামনে যায়। এতক্ষণে সব কিছু বুঝতে পেরেছে অভ্র। এরপর খুব রাগ হচ্ছে ঐ ছেলেগুলোর উপর। ছেলেগুলোকে কিছু বলতেই যাবে তখন কথা এসে অভ্রর সামনে এসে দাড়ায় এবং তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে বলে –
- শেখ বাড়ির একমাত্র ছেলে "আফনান শেখ অভ্র " যে রেগিংও করে তাতো জানা ছিল না। তা শেখ বাড়ির ছেলেরা বুঝি এমন হয়। না শুধু আপনিই এমন।
কথাটা বলে সেখান থেকে চলে যায় কথা। পিছনে ফেলে যায় রাগে ফুসতে থাকা অভ্রকে। কারণ সে মোটেও এমন না। সে তো এই সব কিছুই জানতো না। তাকে তো মিথ্যা কথা বলে এখানে আনা হয়েছে।
চলবে.......