28/02/2026
আখের গুড়
পায়েস থেকে পাটিসাপটা— গুড়ের জনপ্রিয়তা আকাশছোঁয়া। চিনির স্বাস্থ্যকর বিকল্প হল গুড়। পিঠে, পুলির স্বাদ বাড়ানোর পাশাপাশি গুড় শরীরের প্রতিও নজর কম দেয় না। স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে গুড়ের উপর চোখ বন্ধ করে ভরসা করা যায়। আয়রন, ভিটামিন সি, প্রোটিন, পটাশিয়াম, ম্যাগনেশিয়ামে সমৃদ্ধ খাবার গুড়। দীর্ঘদিন সুস্থ থাকতে এই উপাদানগুলি শরীরে পর্যাপ্ত পরিমাণে যাওয়া দরকার। গুড় সেই প্রয়োজন পূরণ করে।
মায়াগ্রামের আখের গুড় কেনো সেরা?
১। মায়াগ্রাম নিজস্ব জমিতে রাসায়নিক সারবিহীন উৎপন্ন ও পরিচিত কৃষকদের থেকে আখ সংগ্রহ করে দক্ষ কর্মী দিয়ে গুড় তৈরি করে গ্রাহকদের কাছে পৌঁছে দিয়ে থাকে।
২। এই গুড়ে কোনপ্রকার চিনি, ক্যামিক্যাল, রং ও ক্ষতিকর কিছু দেওয়া হয় না।
৩। আখ থেকে বোতলজাত করা পর্যন্ত নিজস্ব প্রতিনিধির উপস্থিতিতে ভোক্তার কাছে খাঁটি গুড়টাই মায়াগ্রাম পৌঁছে দিয়ে থাকে।
৪। শুধু অনলাইনে বিক্রি নয়, ঢাকাতে আমাদের রয়েছে নিজস্ব আউটলেট। সুতরাং অনলাইন প্রতারণার ভয় নয়, ট্রাস্টের জায়গায় আমাদের আউটলেট থেকে যে কোন পণ্য সরাসরি দেখেও সংগ্রহ করতে পারবেন।
ব্যবহারবিধি :
পুষ্টিবিদরা জানাচ্ছেন, সরাসরি গুড় খাওয়ার চেয়ে যদি অন্যভাবে খাওয়া যায়, সে ক্ষেত্রে হয়তো বাড়তি উপকার পাওয়া যেতে পারে।
* দুধের সঙ্গে-
রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এক গ্লাস দুধ খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে অনেকেরই। শুধু খেতে পারেন না বলে অনেকেই হাতে অল্প করে চিনি মিশিয়ে নেন। চিনি খেলে ওজন বাড়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। বদলে গুড় মিশিয়ে নিতে পারেন। দুধের সঙ্গে গুড় মিশিয়ে খেলে প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে। ঋতুস্রাবের যন্ত্রণা কমাতেও এই পানীয় দারুণ কাজে আসবে। এ ছাড়া হজমক্ষমতা উন্নত করতেও এই পানীয় খেতে পারেন।
* হালুয়া-
শীতের সকালে হালুয়া রাঁধতে গিয়ে চিনির বদলে খানিকটা গুড় দিয়ে দিন। হালুয়ার স্বাদেও আসবে বিরাট পরিবর্তন। তা ছাড়া, গুড়ে আয়রনের পরিমাণ অনেক বেশি। হালুয়া খেয়ে যদি শরীরে আয়রনের ঘাটতি মেটানো যায়, তার চেয়ে ভাল কিছু হয় না।
* গুড়ের শরবৎ-
শরীরের ক্লান্তি দূর করতে গুড়ের শরবতের সত্যিই তুলনা হয় না। এই পানীয় শরীর ঠান্ডা রাখে। গরমে সুস্থ থাকতে অনেকেই ভরসা রাখতেন এই পানীয়ে। পেটের যত্ন নেয় গুড়ের জল। তবে গুড়ের জল সব সময়ে খালি পেটে খেলেই বেশি উপকার পাওয়া যায়। শরীরে জমে থাকা টক্সিন বাইরে বার করে দিতে পারে গুড়ের জল।
* পিঠা/লাড্ডু-
উৎসব-অনুষ্ঠানে অনেকেই বাড়িতে বিভিন্ন পিঠা ও লাড্ডু তৈরি করেন। চিনির বদলে যদি এই পিঠা ও লাড্ডুর প্রধান উপকরণ হয় গুড়, তা হলে স্বাদ এবং শরীর দুইয়ের যত্নই একসঙ্গে নেওয়া যাবে।
উপকারিতা :
১. গুড় শরীরে তাপ উৎপাদন করে এবং দেহের তাপমাত্রা ঠিক রাখতে সহায়তা করে।
২. এতে রয়েছে উচ্চমানের ক্যালোরিফিক যা শরীর উষ্ণ রাখে এবং শক্তি যোগায়।
৩. ক্ষতিকর অনুজীব বৃদ্ধি হ্রাস করতে সাহায্য করে গুড়।
৪. আখের গুড়ে থাকে নানা খনিজ উপাদান। যেমন- লৌহ, ম্যাগনেসিয়াম, জিংক, সেলেনিয়াম ও পটাশিয়াম। এ উপাদানগুলো রোগ-প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং সংক্রমণ দূরে রাখে।
৫. গলার সমস্যা যেমন- কফ, গলাব্যথা, ফোলা বা খুসখুস দূর করতে সাহায্য করে।
৬. শ্বাসযন্ত্রের সমস্যা যেমন- কাশি বা বুকে কফ জমাট বাঁধা, রক্ত প্রবাহে সমস্যা কমাতে সাহায্য করে এ গুড়।
৭. নিয়মিত খেলে রক্ত পরিষ্কার হয়।
৮. আখের গুড় রক্তে হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে।
৯. এটি পাকস্থলী, অন্ত্র, ফুসফুস ও খাদ্যনালী সুস্থ রাখতে সহায়তা করে।
১০. শীতের শুষ্ক, ঠাণ্ডা আবহে জীবাণুর হাত থেকে শরীরকে রক্ষা করতে গুড় অত্যন্ত কার্যকরী।
১১. এতে বিদ্যমান পটাশিয়াম, সোডিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে।
১২. খাওয়ার পর এক চামচ গুড় খান, কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে মুক্তি মিলবেই।
১৩. ঠাণ্ডা লাগা কিংবা সর্দিতে কুসুম গরম পানিতে এটি মিশিয়ে খেলে সর্দি-কাশি ভালো হয়।
১৪. আখের গুড়ে রয়েছে এলার্জি বিরোধী উপাদান যা দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। হাঁপানি থাকলে সেরে যায়।
১৫. গরমকালে শরীর ঠাণ্ডা রাখতে এ গুড়ের শরবতের বিকল্প নেই।
১৬. এটি খেলে এনার্জি পাবেন চটজলদি।
১৭. লিভার থেকে দূষিত পদার্থ বের করে সুস্হ রাখতে সাহায্য করে ন্যাচারাল এ ফুড।
সাবধানতা :
১. প্রতি ১০০ গ্রাম গুড়ে আছে ৩৮৫ ক্যালরি, তাই যাঁরা ওজন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় আছেন গুড় তাঁদের জন্য উপকারী নয়। সামান্য পরিমাণে খেলে সমস্যা হবে না। তবে অতিরিক্ত খেলে তা ওজন বৃদ্ধির কারণ হতে পারে। গুড়ে কার্বোহাইড্রেটের পরিমাণও বেশি।
২. চিনির তুলনায় স্বাস্থ্যকর হলেও গুড় যেহেতু মিষ্টি, তাই এটি অতিরিক্ত খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়াবেই। প্রতি ১০ গ্রাম গুড়ে থাকে ৯.৭ গ্রাম চিনি।
৩. গুড় তৈরির পদ্ধতিতে ভুল হলে কিংবা স্বাস্থ্যকর পরিবেশে তৈরি করা না হলে সেই গুড় থেকে অন্ত্রে বিভিন্ন জীবাণু সংক্রমণের সম্ভাবনা থাকে।
৪. গুড় প্রক্রিয়াজাত নয় এবং এতে প্রচুর পরিমাণে সুক্রোজ থাকে। তাই যাদের বাত বা প্রদাহভিত্তিক রোগ আছে তাদের গুড় বাদ দেওয়া কিংবা একেবারে সামান্য পরিমাণে খাওয়া উচিত।
৫. আয়ূর্বেদিক চিকিত্সা শাস্ত্র মতে, গুড় আর মাছ কোনো অবস্থাতেই একসঙ্গে খাওয়া চলবে না। আবার যার 'আলসারেটিভ কোলাইটিস' অর্থাত্ পরিপাকতন্ত্রে আলসারের সমস্যা আছে তার জন্য গুড় খাওয়া একদমই উচিত নয়।
মনে রাখবেন, গুড়ের ভেতরে রাসায়নিক পদার্থ খুব সহজে মিশে যায় যা আপনার স্বাস্থ্যের জন্য আরও ক্ষতির কারণ হতে পারে। অতএব, শুধুমাত্র ভাল মানের গুড় কিনুন এবং সঠিক পরিমাণে সেবন করুন।
সংরক্ষণ :
গুড় ঝোলা হোক কিংবা শক্ত কোনোভাবেই যাতে পানি না লাগে সেদিকে খেয়াল রাখুন। ঝোলা গুড়ের ক্ষেত্রে অনেকেই চামচ ধুয়ে ভেজা চামচ দিয়ে পাত্র থেকে গুড় নেন। এটি কখনোই করা উচিত নয়। কেননা, এতে গুড়ে ছত্রাক জমা হয়ে নষ্ট হয়ে যেতে পারে।
অনেকেই প্লাস্টিকের বয়ামে গুড় রাখেন। এটা সম্ভব হলে এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। কেননা, কাচ বা সিলভারের পাত্রে গুড়ের স্বাদ-ঘ্রাণ বেশি দিন অক্ষুণ্ণ থাকে।