29/01/2026
بسم الله الرحمن الرحيم
"আমাদের পরিচয় এবং রুকইয়াহ কী ও কেনো?"
আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা বলেন: “আমরা তা (কোরআন) নাযিল করেছি, যা মানুষের জন্য চিকিৎসা এবং দিক-নির্দেশনার জন্য।”
সূরা আল ইসরা (১৭:৮২)
তিনি আরো বলেন: “যারা বিশ্বাস করে, তাদের জন্য কোরআনই শিফা এবং রহমত।”
সূরা ইউনুস (১০:৫৭)
রাসূল ﷺ বলেছেন:
“রুকাইয়াহতে কোনো সমস্যা নেই, যতক্ষণ তাতে শিরক না থাকে।”
সহিহ মুসলিম,২২২২
•প্রথমেই শুরু করছি রুকইয়াহ নিয়ে ইমামদের বক্তব্য দিয়ে।
ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রাহি. বলেন-
“রুকাইয়াহ,দো‘আ ও যিকির হলো অন্তর ও দেহের সবচেয়ে শক্তিশালী চিকিৎসা।”
(মাজমূ আল-ফাতাওয়া)
ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম (রহ.) বলেছেন—
“কুরআন এমন পূর্ণাঙ্গ শিফা,যা অন্তরের রোগ ও শরীরের রোগ-উভয়ের জন্যই যথেষ্ট।”
(যাদুল মাআদ ফি হাদই খাইরিল ইবাদ)
ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল (রহ.) বলেছেন-
“রুকাইয়াহ হলো কুরআন, আল্লাহর নাম ও প্রমাণিত দো‘আ দ্বারা রোগীর জন্য শিফা কামনা করা।”
ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ (রহ.) বলেছেন-
“রুকাইয়াহ হচ্ছে কুরআন তিলাওয়াত, যিকির ও দো‘আর মাধ্যমে রোগ ও কষ্ট দূর করার শরঈ পদ্ধতি।”
(মাজমূ আল-ফাতাওয়া)
ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন-
“রুকাইয়াহ বলতে কুরআন, আল্লাহর নাম ও প্রমাণিত দো‘আ দ্বারা চিকিৎসা করাকে বোঝায়।”
সুতরাং স্পষ্ট ভাবে বললে রুকাইয়াহ হলো ইসলামিক চিকিৎসার একটি সুস্পষ্ট এবং সুন্নতভিত্তিক শরয়ী পদ্ধতি- যার মাধ্যমে মানুষ কুরআনের আয়াত, আল্লাহর নাম এবং প্রমাণিত দো‘আ পড়ে নিজে বা অন্য কারও ওপর শারীরিক ও মানসিক কষ্ট,রোগ, বদনজর,হিংসা,জ্বিনের প্রভাব কিংবা সিহরের ক্ষতি থেকে শিফা কামনা করে খোদ আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার কাছে। এটি কখনোই কোনো মন্ত্র, তাবিজ বা যাদু নয়,যা দ্বারা আল্লাহর সাথে শির্ক করা হয়। বরং রাসূল ﷺ নিজে রুকাইয়াহকে বৈধ ঘোষণা করেছেন এবং এটি শির্কমুক্ত হলে কোনো সমস্যা নেই, তাই সালাফরা এই পদ্ধতিটিকে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবহার করতেন। এবংকি রাসূল ﷺ কে করা যাদুর বিপরীতেই আল্লাহ আজ্জা ওয়া জাল্লা সূরা ফালাক এবং নাস নাযিল করেন।
ইমাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রাহি. বলেছেন, রুকাইয়াহ হলো অন্তর ও দেহের সবচেয়ে শক্তিশালী চিকিৎসা, যা কুরআন, যিকির ও দো‘আ দ্বারা কার্যকর হয়। ইমাম ইবনুল কাইয়্যিম রাহি. বলেছেন, এটি আল্লাহর কালাম ও নামসমূহের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করার একটি পদ্ধতি, যার শিফা আসে সম্পূর্ণ আল্লাহর পক্ষ থেকে।
ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বল এবং হাসান আল-বাসরী বলেন, কুরআন ও প্রমাণিত দো‘আ ব্যবহার করে রুকাইয়াহ করা সুন্নাহ এবং এতে কোনো বাধা নেই। ইমাম শাফেয়ী ও ইমাম মালিকও রুকাইয়াহকে বৈধ ও সুন্নাহ হিসেবে স্বীকার করেছেন।
🔸রুকইয়াহ করার শরয়ী পদ্ধতি কী?
রুকাইয়াহ করার সময় অবশ্যই শর্ত হলো—এটি শিরকমুক্ত হতে হবে, কোনো তাবিজ বা অজানা মন্ত্র ব্যবহার করা যাবে না, এবং বিশ্বাস থাকতে হবে যে শিফা শুধুমাত্র আল্লাহর পক্ষ থেকেই আসে। মাইন্ড ইট,রাকি এবং পেশেন্ট উভয়ের জন্য মাস্ট বি শর্ত হলো এই আকিদাহ লালন করা যে "শিফা কেবল আল্লাহর পক্ষ থেকেই"।
যাই হোক,রুকইয়াহ একদিকে যেমন আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল ও ইমানকে দৃঢ় করে, অন্যদিকে শারীরিক ও মানসিক রোগের উপর আল্লাহর ইচ্ছায় শিফা আসে। রুকাইয়াহ শুধু শরীরের জন্য নয়, বরং কলব এবং অন্তরের জন্যও উপকারী একটি পূর্ণাঙ্গ ইসলামী পদ্ধতি। সংক্ষেপে বলা যায়, রুকাইয়াহ হলো কুরআন ও দো‘আর মাধ্যমে আল্লাহর কাছে শিফা কামনা বা ঝাড়ফুক। এখন সেটা হতে পারে প্যারানরমলান বা স্প্রিচুয়ালি সমস্যার জন্য বা বিভিন্ন শারিরীক রোগের জন্যও। তবে হা,প্যারানরমাল সমস্যা গুলোর জন্যই বিশেষ ভাবে রুকাইয়া প্রচলিত। আরেকটা কথা,বিভিন্ন রোগের জন্য যখন রুকইয়াহ করা হয় তখন কী মেডিকেল ট্রিটমেন্ট বন্ধ থাকবে? নাহ,মোটেও না। বরং সেটাও চলমান থাকবে। রুকইয়াহর পাশপাশি মেডিকেল ট্রিটমেন্ট চলা কখনোই তাওয়াক্কুল বিরোধী নয়।
🔸রুকাইয়া দ্বারা মূলত কী কী করা হয়?
অনেকেই ধারণা করেন রুকইয়াহ বোধহয় তান্ত্রিক বা কবিরাজিরই একটা ভার্সন। তবে পাঠকরা আশা করি ইতোমধ্যেই বুঝেছেন,এটি এমন কোনো শিরকি কাজকে তো বৈধতা দেয়'ই না,বরং রুকাইয়ার সাথেই এসব কুফর এবং শির্কি যাদুর মূল দ্বন্দ্ব। যাদু,বদনজর,হিংসা ইত্যাদির মাধ্যমে যখন শাইত্বন মানুষের উপর প্রভাব বিস্তার করে কিংবা অসুস্থ করে তোলে,তখন আল্লাহ ইচ্ছায় সেই অসুস্থতা থেকে মুক্তির উদ্দেশ্যেই আল্লাহর কাছে শিফার নিয়্যাতে রুকাইয়া করা হয়। তো রুকাইয়া এমন কোনো বস্তু না,যার দ্বারা কাউকে বস করা যাবে,কারো বিচ্ছেদ ঘটানো যাবে,কিংবা অনিষ্ট করা যাবে অথবা কাউকে ধ্বংস করা যাবে (নাউজুবিল্লাহি মিন জ্বালিক)! বরং এসব শির্কি কার্যকলাপকে ধংস করতে এবং এগুলো থেকে বাঁচার জন্যই আল্লাহ আমাদেরকে যেই পদ্ধতি দিয়েছেন তা হলো "রুকইয়াহ"।
⚠️কীভাবে ভন্ড কবিরাজ,যাদুকর বা তান্রিকদের চিনবেন?
এদেরকে চেনার সহজতর উপায় হলো,তারা চিকিৎসার ক্ষেত্রে কোরআন এবং সুন্নাহর অনুগামী হয় না। বরং আপনি দেখবেন তারা বিভিন্ন গোপন নকশা,মন্ত্র,তাবিজ সহ নানারকম আজগুবি জিনিসের দারস্ত হয়। আচ্ছা আপনিই বলুন,আল্লাহ তায়ালা কী চিকিৎসার জন্য এসবই নাজিল করেছিলেন? আল্লাহর রাসূল কী এসব দ্বারা কাউকে চিকিৎসা করেছেন এমন নজির আছে? বা কোনো সাহাবী,বা কোনো সালাফ,বা কোনো তাবে-তাবেঈ করার নজির আছে অন্তত? তাহলে এসব লোক এই চিকিৎসা পদ্ধতি গুলো কোথায় পেলো? অথচ যা কোরআন-সুন্নাহ তো দূর কী বাত,কোনো মেডিকেলের কিতাবেও নেই! আপনি যদি বোকা না হয়ে থাকেন,তবে অবশ্যই বোঝার কথা। আল্লাহ অবশ্যই আপনাকে আকল দিয়েছেন। এছাড়াও আপনি দেখবেন,তারা আপনার পিতা-মাতার নাম জানতে চাইবে,লাল কালি ব্যবহার করে বিভিন্ন জিনিস লিখা লিখি করবে,গায়েবের খবর বলে দিবে (খাদিম শ্বাইতনের মাধ্যমে-আল্লাহর সাথে শির্ক করে) ইত্যাদি।
মনে রাখবেন,এরা আপনার সমস্যা তো দূর করবেই না বরং একটা করে সমস্যা আপনার সাথে নতুন ভাবে যুক্ত করবে। সাময়ীক ভাবে সমস্যা দূর হওয়ায় আপনি হয়তো খুব খুশিই হবেন,কিন্তু দীর্ঘমেয়াদী আপনি দেখতে পাবেন-আপনি আগের চেয়েও বেশী অসুস্থ। এগুলো নিয়েও লম্বা আলোচণা আছে,সব তো আর এক পোস্টে বলা সম্ভব নয়,বরং আমাদের পেইজকে ফলো দিয়ে রাখুন-আল্লাহ চাইলে ধীরে ধীরে জানাবো। বা এগুলো নিয়ে কিছুটা ঘাটাঘাটি করলেও অন্যান্য রাকি ভাইয়েদের লিখনির মাধ্যমে জানতে পারবেন ইনশা-আল্লাহ।
🔸আমাদের পরিচয়
Ruqyah Solution এর মূল উদ্দেশ্য কুরআন,সুন্নাহ বা সহজে বললে শরয়ী পদ্ধতিতে আপনাদের বদনজর,হাসাদ,যাদু,জ্বীন জনিত সমস্যা,ওয়াসওয়াসা/OCD,অস্বাভাবিক দ্বীর্ঘমেয়াদী অসুস্থতা সহ ইত্যাদির চিকিৎসা দেওয়া। বলে রাখা ভালো,শিফার মালিক আল্লাহ। আমরা কেবল চেষ্টাকারী। অনেকেই ভেবে থাকেন,এক চুটকিতেই সমাধাণ! বিষয়টা মোটেও এমন না। শিফার জন্য প্রয়োজন আল্লাহর উপর ত্বাওয়াক্কুল,বিশুদ্ধ নিয়্যাহ এবং দুয়া। এগুলোর সমন্বয়ে আল্লাহ অবশ্যই সুস্থতা দান করবেন ইনশাআল্লাহ।
বিস্তারিত শিডিউল সহ যেইকোনো তথ্যের জন্য আমাদের হোয়াটসএ্যাপ কিংবা মেসেঞ্জারে ইনবক্স করতে পারেন।
জাজাকুমুল্লাহু খাইরান।