28/08/2023
একসময় ঢাকা থেকে যখন বাড়ি ফিরতাম তখন সবচেয়ে বেশি খুশি লাগত তারপর নিজ এলাকায় যখন পোস্টিং হলো বাড়ির চেয়ে ঢাকার প্রতি আমার টান বেড়ে গেলো❤️❤️ ছুটিতে যখন ঢাকা যেতাম তখন সবচেয়ে বেশি খুশি লাগত, কয়দিন ছুটি নিব, যে কয়দিন থাকব কোনদিন কি করব,কোথায় খাবো, শপিং, আড্ডা সকাল দুপুর বিকাল সব রুটিন আগে থেকেই রেডি করে রাখতেন একজন, আমি প্লান নিয়ে তেমন ভাবতাম না, সবসময় বলতাম তুমি যেখানে আছো এসব প্লান ট্যান নিয়ে আমি কেন চিন্তা করব?? এসব পরিশ্রমের কাজ আমাকে দিয়ে হবে না, আমি বাবা জার্নি করে আসব এটাই তো অনেক বড় পরিশ্রম 🤥 সে হাসত আর বলতো তুমি আসো তো আগে, সুস্থ ভাবে আমিতো আছি নাকি! অত ভাবতে হবে না হ তোমাকে💗💗 যাওয়ার পর দেখা যেতো আমারি সব কাজ, এই কাজ সেই কাজ, তাকে সেগুলা নিয়াই দৌড়াদৌড়ি করতে হত! সব ই হাসি মুখে করে দিতো আর একটা কথা বলতো নাম তো আমার, তুমি আমার জন্য ঢাকা আসছ অথচ তুমি তুমার কাজ নিয়াই আসছো আর মিথ্যে বলে আমাকে খুশি করাচ্ছ! আমি হাসতাম, ফ্যালফ্যাল করে তার দিকে থাকিয়ে বলতাম ডিয়ার হয়ত আমার ই সব কাজ! তাও তুমি যে আমার সব কাজে সাথে থাকো, পাশে থাকো এটাই আমার বড় পাওয়া, এটাই আমার ছুটির আনন্দ! কাজের উসিলায় হোক আর যাই হোক তুমি সাথে আছো মানে আমার সব পাওয়া হয়ে গেছে! আমাকে দামি গাড়িতে চড়ে, রেস্টুরেন্টে নিয়ে খাওয়াতে হবে না, তোমার সাথে দাঁড়িয়ে রাস্তার পাশে এক কাপ চা খাওয়া পৃথিবীর সবচেয়ে দামি খাবারের একটি এবং সবচেয়ে প্রিয় একটা মুহুর্ত🖤🖤🖤আমার তাতেই চলবে! সে বলতো আমি জানি তোমার চাহিদা কম তাও আমার তো ইচ্ছে করে তোমাকে নিয়ে দামি রেস্টুরেন্টে যাই খাই আড্ডা দেই...... তারমানে এই না যে সে আমাকে দামি রেস্টুরেন্টে নিয়ে যায়নি, ঘুরায় নি .... সব জায়গায় ই নিয়ে গেছে .. তারপরও সবসময় তো আর হয়ে উঠত নাহ তখন এই কথা গুলি বলত... খুব ই সাদামাটা চলাফেরা, বাস্তবমুখি কথা বলত.....এভাবে চলবে না অভাবে চলবে না, একা একা রাস্তা পার হবা না, কোথাও একা যাবানা, প্রতিবার আমাকে রিসিভ করতে আসতো! দুনিয়ার কাজ থাকলেও সেটা ফেলে আমাকে রিসিভ করতে আসতো! অফিস থেকে ছুটি না দিলেও আগেই বের হয়ে যেতো! যেদিন আমি ঢাকা যাচ্ছি সেদিন অন্য কোন কিছুর সাথে কম্প্রোমাইজ হবে না, আগে থেকেই আইসা দাঁড়িয়ে থাকত, যদি আসতে কখনো লেট হতো আগেই বলে নিতো কোন কারনে তুমি আমার আগে চলে আসলে বাস টার্রমিনালে বসে থাকবা, কোথাও এদিক সেদিক কেউ ডাক্লে যাবানা,হারিয়ে যাবে! চুপ করে বসে থাকবা আমি আসত্বছি! অনেক স্মৃতি যেগুলা বলে শেষ করা যাবে না, ঘন্টায় ঘন্টায় খোজ নেয়া কোথায় আসছি, কতক্ষন লাগবে, গাড়িতে খারাপ লাগছে কি না, জানালা খুলে দাও বমি লাগবে না! ভালো লাগবে! যত জায়গায় ইন্টারভিউ দিলাম সিভি দিলাম সব খানে সব পরিক্ষায় সে আমার সাথে! আল্লাহর রহমতে যত জায়গায় ই পরিক্ষা দিছি সব খানেই ঠিকেছি!! অনেক হ্যাল্প করত আমার সবকিছুতে! সবচেয়ে বেশি জগড়া করত খাওয়া দাওয়া নিয়ে! বেশি করে কেন খেতে পারি না, কেন ওয়েট বাড়ে না, অসুস্থ হয়্ব যাবে তুমি, এমন করে থাকলে তখন অনেক রাগ করব আমি বলত! কথা বলব না তুমার সাথে, তুমি আমার একটা কথাও শুন নাহ😐 সকালে রাতে দুপুরে কি খাবো ডায়েট প্লান করে দিতো আমি ২ দিন মানলে আর ৩ দিন মেইন্টেইন করতাম না, বল তাম কিচ্ছু হবে না, একদিন এমনি খাবার রুচি চলে আসবে আর আমি মোটা হয়ে যাবো বলে হাসতাম😆 যখন আমাকে পড়তে বলত তখন আমার আরো বেশি তার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করত! পড়া শেষ করে কথা বলব! কিন্তু আমি তা শুনতাম নাহ! আমি কলের পর কল দিয়েই যাইতাম কারন আমার পড়তে বস্লেই তার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করত বেশি! সে আমার ইস্পিরেশন ছিল! কথা বললে মেন্টাল স্পিরিট পেতাম! ৩০মিনিটের পড়া ১৫ মিনিটেই মুখস্ত করে ফেলতে পারতাম! আমি টানা পড়তে পারি না! এখনো পড়তে গেলে বইয়ের ভাজে ভাজে তার চেহারাটাই ভেসে উঠে! আমি আর এখন একবারেই পড়ায় মনোযোগ দিতে পারি না! আমার সেই স্পিরিট নাই😭😭😭😭 তুমি যেদিন থেকে হারিয়ে গেছো আমার সব স্পিরিট শেষ হয়ে গেছে, আমি ম্যন্টালি ফিজিক্যালি কোন স্ট্রন্থ পাইনাহ! আমি বিপর্যস্ত হয়ে গেছি 😭😭তোমাকে ছাড়া আমি ভালো নেই! আমি ঢাকায় পরিক্ষা দিতে যাবো, ঢাকা যাবো অথচ তুমার সাথে দেখা হবেনা কথা হবে নাহ 😭😭 এই কষ্ট আমি মেনে নিতে পারছি নাহ প্রিয়😭😭😭😭😭 আল্লাহ তুমাকে আমার কাছ থেকে এভাবে কেড়ে নিলো কেন, বিধাতা কি পারত না তুমাকে আমার চোখের সামনে রেখ্ব দিতে, আমার সাথে কেন আল্লাহ এত অবিচার করল! খোদা তুমি যা করো সবার মঙ্গল এর জন্যি করো তাও আমি কেন মেনে নিতে পারছিনা! প্রতিটি দিন প্রতিটা রাত এমন কোন দিন নেই রাত নেই যে তাকে মনে পড়ে না, এব্রি স্টেপ এ আমি তাকে অনুভব করি😭😭😭😭😭😭 ভুলতে পারি না! আমি এত পেইন নিতে পারছিনা খোদা👏👏👏👏👏
তোমাকে নিয়ে লিখার দুসাহস আমার নেই, তোমাকে নিয়ে লিখলে শেষ হবে না!
দুষ আমার না আমার কপালের 😭😭😭😭😭
আমি হেরে গেছি এই বাস্তবতার মঞ্চে 😭😭😭😭