07/11/2025
🛣️ তিনশ ফিট রোডে পাঁচ বন্ধুর রাত জাগা
সেদিন ছিল এক শুক্রবার রাত। শহরের ব্যস্ততা থিতিয়ে এলেও, পাঁচ বন্ধুর উচ্ছ্বাস তখনো তুঙ্গে। আমরা পাঁচজন—আরিফ, শারিফ, আলামিন, রাসেল আর আমি ওমর ফারুক—সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, অন্যদিনের মতো আড্ডা নয়, আজ রাতে যাবো তিনশ ফিট রোডে (Purbachal 300 Feet Road)।
গাড়ি করে যেতে যেতেই শুরু হয়ে গেল গান আর হাসি-ঠাট্টা। গন্তব্যে পৌঁছানোর পর, রাস্তার আলো ঝলমলে দৃশ্যটা দেখে যেন মন ভরে গেল। বিশাল হাইওয়ে, দু'পাশে সারি সারি স্ট্রিট ল্যাম্প, আর দূরে আলোর রেখা ফেলে ছুটে চলা গাড়িগুলো... একটা অদ্ভুত শান্তি আর মুক্তির অনুভূতি।
আমরা ঠিক করলাম, রাস্তার পাশের নিচু কংক্রিটের দেওয়ালে একটু হেলান দিয়ে ছবি তুলব। সেটাই হলো এই ছবিটা।
রাসেল (বাঁ দিক থেকে প্রথম, সাদা টি-শার্টে) ছিল সবচেয়ে শান্তশিষ্ট, কিন্তু মজার মজার কথা বলে মুহূর্তটাকে জমিয়ে রাখত।
আলামিন (পাশে, গোল্ডেন পোলো টি-শার্টে, দাড়িতে) স্বভাবগতভাবেই একটু দার্শনিক, সে মুগ্ধ হয়ে দেখছিল রাস্তার নীরবতা আর শহরের আলো।
মাঝখানে থাকা আমি (বেইজ রঙের টি-শার্টে) ছিল গ্রুপের উদ্যোক্তা, তারই প্রস্তাবে এই যাত্রা। তার চোখে-মুখে ছিল আজকের অভিযানের আনন্দ।
শরিফ (ডান দিক থেকে দ্বিতীয়, অলিভ টি-শার্টে) একটু চিন্তিত ভঙ্গিতে দাঁড়িয়ে থাকলেও, সে অপেক্ষা করছিল কখন আমরা রাস্তার ধারের ফাস্টফুডের দোকানগুলো থেকে কিছু একটা খাব।
আর সবার ডানে, চেকের শার্টে থাকা আরিফ ছিল আমাদের ফটোগ্রাফার। সে ক্যামেরা হাতে নিয়েও ফ্রেমের মধ্যে আসার জন্য তৈরি ছিল!
ছবিটা তোলার পর, আমরা হেঁটে চলে গেলাম রাস্তার ধারে থাকা ছোট একটা চায়ের দোকানে। গরম চায়ে চুমুক দিতে দিতে চলল পুরনো দিনের গল্প, ভবিষ্যতে কী করার স্বপ্ন, আর হাসি-মজা। সেই রাতের আলো ঝলমলে রাস্তা, পাঁচ বন্ধুর কাঁধে হাত রেখে হেঁটে চলা, আর গভীর রাতের আড্ডা—সবকিছু মিলে একটা অবিস্মরণীয় স্মৃতি তৈরি হলো। এই ছবিটা শুধু একটা ফ্রেম নয়, এটা আমাদের পাঁচ বন্ধুর অটুট বন্ধুত্বের প্রতীক।