17/04/2026
জীবনে প্রচুর বারাকাহ দরকার..
বারাকাহ থাকলে জীবন সহজ হয়, সুন্দর হয়। বারাকাহ আনার জন্য এই কাজগুলো অবশ্যই আমলে রাখবেন ইনশাআল্লাহ।
১। ঘরে প্রবেশ করলে সবসময় সালাম দিবেন। তিরমিজির হাদীসে আছে, তুমি যখন তোমার পরিবারের কাছে প্রবেশ করো, তখন সালাম দাও। এতে তোমার এবং তোমার পরিবারের উপর বরকত নাযিল হবে। এমনকি ঘরে কেউ না থাকলেও সালাম দিয়ে ঢুকবেন। এটাও সুন্নাহ।
২। বিসমিল্লাহ বলে ঘরে ঢুকবেন। আল্লাহর নবী বলেছেন, আল্লাহর নাম নিয়ে ঘরে ঢুকলে শয়তান তখন তার সাথীদের বলে এখানে তোমাদের আর জায়গা নেই। এভাবে শয়তান দূরে সরে যায় ঘর পবিত্র থাকে, অশান্তি কমে।
৩। আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক রাখতে হবে। মায়েদের ফুপুদের সাথে সম্পর্ক খারাপ তো বাবাদের চাচা/মামাদের সাথে রেশারেশি থাকে। বলে কয়ে মিটমাটের চেষ্টা করবেন। রিজিক আটকে থাকার জন্য এটা অনেক বড় একটা কারণ।
৪। বাজার থেকে কিছু কিনে আনলে সবাই একসাথে ভাগাভাগি করে খাবেন। উপার্জনের অর্ধেক চলে যায় খাবার যোগান দিতে এজন্য খাবারে পিছনে অতিরিক্ত ব্যয় কমাতে এবং বরকত চাইলে একসাথে খাওয়া জরুরি। আল্লাহর নবী বলেছেন, তোমরা একসাথে খাও তাহলে তোমাদের খাবারে বরকত হবে।
৫। স্বামী ভালো তো শ্বশুরবাড়ির লোকজন ভালোনা। আবার শ্বশুরবাড়ির সবাই ভালো হলে স্বামীর দোষ থাকে। কখনো সব ঠিক কিন্তু সংসারের টানাপোড়েন এমন সব অবস্থাতেই বুক ভরে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবেন। সূরা ইব্রাহিমে আল্লাহর কালাম আছে এব্যাপারে, যদি তোমরা কৃতজ্ঞ হও, আমি অবশ্যই তোমাদের আরও বাড়িয়ে দেব।
৬। বাচ্চাকাচ্চা, স্বামী-সংসার সবকিছুর উর্ধ্বে ফরজ আমল যথাসময়ে পালন করার প্রতি গুরুত্ব দিতে হবে এইটা মোস্ট ইম্পর্ট্যান্ট।
৭। গুনাহ থেকে বেঁচে থাকা। কারণ গুনাহের কারণে আল্লাহর রাগ, আযাব পতিত হয়। একজনের গুনাহের কারণে পরিবারের সবার উপর পরীক্ষা চলে আসে। এজন্য কখনো অভাব দেখা দিলে সবাইকে নিয়ে তাওবা করা ও আমল বাড়িয়ে দেওয়া।
৮। ইস্তেগফার কোনোভাবেই বাদ দেওয়া যাবেনা। দৈনিক কমপক্ষে ১০০ বার ইস্তেগফার পড়বেন। ইস্তেগফারের ফজিলত বলে শেষ করা যাবেনা। এর উসিলায় সম্পদ, সন্তান, রহমত বর্ষন হয়। বালা-মুসিবত, দুশ্চিন্তা দূর হয়, গুনাহ মাফ হয়। রিজিকেও বরকত আসবে ইনশাআল্লাহ।
৯। প্রত্যেকদিন সামান্য হলেও দান করার অভ্যাস করবেন। দানে সম্পদ কমেনা বরং সম্পদ পবিত্র হয়। তখন সম্পদে প্রচুর বারাকাহ আসবে অল্প সম্পদই যথেষ্ট হয়ে যাবে। তাছাড়া প্রতিদিন সকালে দুইজন ফেরেশতা নেমে আসেন তারা বলতে থাকেন, হে আল্লাহ! যে দান করে তাকে আরও দাও। আর ফেরেশতারা হলেন নিষ্পাপ তাদের দুআ মাকবুল।
১০। ফজরের পর ঘুমাবেন না এই সময়টায় প্রচুর বরকত। রিজিক, কাজ, পড়াশোনা সবকিছুতে। কারণ রাসূল (সাঃ) বিশেষভাবে দোয়া করেছেন এভাবে যে, হে আল্লাহ! আমার উম্মতের জন্য তাদের সকালবেলায় বরকত দান করুন।
বারাকাহ মানে শুধু টাকা-পয়সার প্রাচুর্য নয়। বারাকাহ হলো কম থাকলেও তাতে তৃপ্তি পাওয়া, কঠিন কাজও সহজে সম্পন্ন হয়ে যাওয়া, আর অল্প জিনিসেই হৃদয়ের প্রশান্তি খুঁজে পাওয়া।
তাইতো জীবন সহজ করতে হলে প্রচুর বারাকাহ দরকার। এ জন্য আমলগুলো ছাড়বেন না ইনশাআল্লাহ।©