18/07/2026
সম্প্রতি একটি খাদ্য প্রতিষ্ঠানের খাবারে উচ্চমাত্রায় প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করার কারণে বাজার থেকে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আমিও বাচ্চাদের জন্য প্রাকৃতিক পুষ্টিকর উপাদান দিয়ে তৈরি খাদ্যপণ্য বিক্রি করি। এই নিউজ দেখে মনে হলো আপনাদের সাথে আমার অভিজ্ঞতা ফ্র্যাংকলি শেয়ার করি। যদিও এত ফ্র্যাংকলি শেয়ার করা ব্যবসার জন্য ক্ষতিকর। তবুও করছি। কারণ আমি শুধুমাত্র একজন ব্যবসায়ী নই, আমি একজন মা আর আমার কাজের সাথে হাজার হাজার বাচ্চার ব্যাপার জড়িত। তাই নিজে একজন মা হিসেবে অন্য বাবা মায়েদের সাথে এটা একটা ফ্রেন্ডলি ডিসকাশন। আমি আমার কাজের ব্যাপারে সবসময় স্বচ্ছতা আর জবাবদিহিতার মধ্যে থাকি। পজিটিভ নেগেটিভ সাইড, কি কি হতে পারে বা হয় সব শেয়ার করি, এসব জেনেবুঝে যারা আমাদের পণ্য নিতে চান তারাই নিবেন। কারণ এটা বাচ্চার ব্যাপার।
আমি বাচ্চাদের জন্য যে খাবার গুলো তৈরি করি এর বেশির ভাগই শস্য, বাদাম, খেজুর, চাল এসব দিয়ে তৈরি।
আপনি যখন কোন প্রাকৃতিক খাবার খাবেন, প্রাকৃতিক ব্যাপার নিয়ে কাজ করবেন, তাতে ঘটা সম্ভাব্য প্রাকৃতিক ঘটনাগুলো আপনাকে মাথায় রাখতে হবে। কিন্তু আমাদের সমস্যা হচ্ছে আমরা প্রাকৃতিক খাবার খেতে চাই, কেমিক্যাল খাবোনা প্রিজারভেটিভ খাবোনা ইত্যাদি হাউকাউ করি কিন্তু খাবারে প্রিজারভেটিভ না দিলে খাবার যদি আবহাওয়াজনিত কারণে বা হঠাৎ একসময় নষ্ট হয় তখন আবার সেটাও স্বাভাবিকভাবে নেইনা।
আমি বাচ্চাদের খাবারে কোন প্রকারের প্রিজারভেটিভ দেই না, যার কারণে যখন প্রচন্ড বৃষ্টি হয় অথবা প্রচন্ড গরম পড়ে, হঠাৎ কোনো খাবার নষ্ট হতে পারে তাতে পোকা হতে পারে সেটা নতুন বানানো হলেও। যেখানে আমি খাবারটা সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক রাখছি, এটাতে কোন প্রকারের প্রিজারভেটিভ দিচ্ছি না দীর্ঘ সময় ভালো রাখার জন্য, সেক্ষেত্রে আবহাওয়া খারাপ হলে হঠাৎ কিছু খাবার নষ্ট হতেও পারে। এটাই কি স্বাভাবিক না?
সেক্ষেত্রে আমাদের সমাধান কি? প্রথমেই বলে নেই খাবার নষ্ট হতে পারে এটা একটা এক্সিডেন্ট এবং এক্সিডেন্ট সবসময় ঘটে না। হঠাৎ ২-১ টা খাবারে এটা হতে পারে।
আমি এই কথাটা গত ১০ বছর যাবত পেইজে বলে আসছি, যেহেতু ইতোমধ্যে আরও অনেক নতুন বাবা-মা আমাদের পেইজে যুক্ত হয়েছেন তাই আবারও একবার রিমাইন্ডার দিচ্ছি। খাদ্যপণ্য বিক্রির নিয়ম অনুযায়ী আমরা পণ্যের গায়ে একটা মেয়াদ লিখে দেই, পাশাপাশি এটাও লিখে দেই যে খাবারে যতদিন পর্যন্ত পোকা বা ফাংগাস না ধরবে ততদিন এই খাবার ব্যবহারযোগ্য। আবারও বলছি, যেহেতু আমরা খাবারে কোন প্রকারের কেমিক্যাল বা প্রিজারভেটিভ দেইনা, প্রচন্ড বৃষ্টি অথবা প্রচন্ড গরমে আবহাওয়ার তারতম্যে যদি হঠাৎ খাবার নষ্ট হয়, আপনারা খাবার নেওয়ার দুইমাস পরেও যদি খাবার শেষ হবার আগে কখনও পোকা বা ফাংগাস হয়ে যায়, আমাদেরকে জানাবেন, আমরা সম্পূর্ণ চেঞ্জ করে দিব, আবার খাবার বানিয়ে পাঠাবো।
আমি অনলাইনে বিক্রি করছি আর আমার খাবারের রিভিউ ভালো মানেই আমার তৈরি খাবার অবিনশ্বর না। এটা একসময় নষ্ট হবে। কখনো তাড়াতাড়ি নষ্ট হতে পারে অথবা আবহাওয়া ভালো থাকলে, সংরক্ষণ প্রসেস ভালো থাকলে সবচেয়ে বড় কথা রিজিকে থাকলে এক বছরেও নষ্ট হয় না। এটা প্রাকৃতিক। আমি প্রাকৃতিক খাবার বিক্রি করি, প্রকৃতির নিয়ম অবশ্যই মেনে নিতে হবে।
আমি আপনাকে বাচ্চার জন্য শতভাগ নিরাপদ এবং পুষ্টিকর খাবার দিচ্ছি, আমি সব সময় আমার সর্বোচ্চ দিয়ে চেষ্টা করি বাচ্চাদেরকে যেন ভালো খাবারটা দেওয়া যায় এই গ্যারান্টি আমি দিতে পারি কিন্তু আপনি যদি মাসের পর মাস খাবার ভালো থাকার গ্যারান্টি চান তাহলে তা আমি দিতে পারছিনা৷ দুঃখিত।
আপনি যদি মাসের পর মাস খাবার ভালো থাকার গ্যারান্টি চান তাহলে ইস্ট বেকার কোম্পানির নিউজটা দেখে নিন৷ আমি যদি খাবারে এরকম উচ্চ মাত্রায় প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করি তাহলে অবশ্যই আমি গ্যারান্টি দিতে পারবো আমার খাবার জীবনে নষ্ট হবেনা৷ কিন্তু কেমিক্যাল বা প্রিজারভেটিভ ছাড়া একটা খাবার কখনোই হলফ করে গ্যারান্টি দেওয়া সম্ভব নয়।
আর আমি প্রয়োজনে ব্যবসা বন্ধ করে দিব কিন্তু বাচ্চাদের খাবারে কোন প্রকারের কেমিক্যাল অথবা প্রিজারভেটিভ ব্যবহার করব না কারণ আমি নিজেও বাচ্চার মা। বাচ্চার শরীরে কোন প্রকারের প্রিজারভেটিভ যা বাচ্চার জন্য ক্ষতিকর তা আমি ঢুকতে দেবো না। নিজের বাচ্চাকেও না আপনাদের বাচ্চাকেও না। অলরেডি বাচ্চাদের শরীরে হেভি মেটাল, সীসা অতিমাত্রায় পাওয়া যাচ্ছে কেমিক্যাল আর ভেজাল খেয়েই।
একটা খাবার নষ্ট হয়েছে মানেই সেটা পুরানো বা খারাপ খাবার দিয়েছি এমন না৷ শস্যের ধর্মই এটা। শস্য ক্ষেত থেকে তোলার আগেও পোকা ধরে, ফল গাছ থেকে পারার আগেও পোকা ধরে, তার মানে কি ঐ শস্য বা ফল পুরানো? না। এজন্যই কীটনাশক বা ফরমালিন ব্যবহার করে যাতে পোকা না ধরে। যারা শস্য নিয়ে কাজ করে তাদের সাথে আপনারা আলাপ করে দেখুন আমি কোনো ভুল কথা বলেছি কিনা।
এখন আপনাদের প্রশ্ন আসতে পারে, টাকা দিয়ে প্রোডাক্ট কিনছি তাহলে আপনি কোন গ্যারান্টি দিচ্ছেন না? সমাধান কি? সমাধান আমি উপরে একবার অলরেডি বলে দিয়েছি আবার বলছি। যেহেতু আমরা খাবারে কোন প্রকারের কেমিক্যাল বা প্রিজারভেটিভ দেইনা, প্রচন্ড বৃষ্টি অথবা প্রচন্ড গরমে আবহাওয়ার তারতম্যে যদি হঠাৎ খাবার নষ্ট হয়, আপনারা খাবার নেওয়ার দুইমাস পরেও যদি খাবার শেষ হবার আগে কখনও পোকা বা ফাংগাস হয়ে যায়, আমাদেরকে জানাবেন, আমরা সম্পূর্ণ চেঞ্জ করে দিব, আবার খাবার বানিয়ে পাঠাবো। আর আবারও বলছি কনফিউজড হবেন না। সবার খাবার নষ্ট হবে সব খাবার নষ্ট হবে এমন না। আমি যেটা বলছি অবশ্যই আশা করি সবাই বুঝেছেন, হঠাৎ যদি কারো এমন হয়/হতে পারে সেক্ষেত্রে যেন আপনারা প্যানিকড না হয়ে যান সেজন্য বলেছি।
🔴 আবারও ডিক্লারেশন দিচ্ছি - আমার বিক্রিত বাচ্চার খাবার এর কন্ডিশন এটাই। আমি দীর্ঘদিন খাবার ভালো রাখার জন্য কোন প্রকারের কেমিক্যাল অথবা প্রিজারভেটিভ দেইনা। এমনকি খাবারে কোনো প্রকারের দুধ চিনি অথবা লবণ দেই না। খাবার বেশি মজা লাগার জন্য কোন প্রকারের আর্টিফিশিয়াল ফ্লেভার দেই না। সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পুষ্টিকর খাদ্য উপাদানগুলো যোগাড় করে, পরিষ্কার করে বাচ্চাদের খাবার উপযোগী করে বিক্রি করি। অর্ডার অনুযায়ী ফ্রেশ তৈরি করি প্রতিদিন৷ কখনও পুরানো বা আগে বানানো খাবার বিক্রি করিনা। কখনো বিন্দুমাত্র সমস্যা বা কনফিউশান ফেইস করলে আমাকে জানাবেন, কারণ আমরা মানুষ। ভুল হতে পারে আমাদের, আমার পেইজের নামই HOMEMADE - প্রাকৃতিকভাবে ঘরে তৈরি খাবার। যদি কখনোও মনেহয় আপু আগেরবারের খাবার বেশি মজা ছিল এবারেরটা ঘ্রাণ কম, প্রাকৃতিক উপাদানের ঘ্রাণ স্বাদ কমবেশি হয়। আমি কোনো আর্টিফিশিয়াল ফ্লেভার মিশাইনা তবুও জানাবেন আমি তবুও আবার নতুন করে খাবার বানিয়ে পাঠাই বিনামূল্যে। সোজা কথা যেকোনো কিছু আমাকে জানাবেন৷ আমার ভুল হলে আমি শুধরে নিব এবং আপনি সমাধান পাবেন৷ আমার ব্যবসা থেকে কখনো কোনো গ্রাহক ঠকেনি, ঠকবেওনা ইনশাআল্লাহ। আমি গত দশ বছর যাবত প্রতিদিন চেষ্টা করে যাচ্ছি ভালো সার্ভিস দিতে। কারণ কেউ চায় না তার ব্যবসা ও সুনাম নষ্ট হোক। আর আমি নিজে একজন মা হিসেবে আরেকজন বাচ্চাকে খারাপ কিছু দিতে চাইবোনা।
যারা আমার থেকে বাচ্চার জন্য খাবার নিবেন, এ ব্যাপারগুলো জেনে বুঝে নিবেন দয়া করে। ধন্যবাদ আমার লিখা পড়ার জন্য এবং আপনার মূল্যবান মতামত ও পরামর্শ কমেন্টে জানিয়ে যাবেন ❤️