20/08/2026
সতর্কতামূলক পোস্ট যারা ৩০০ফিট ও পূর্বাচলে যারা ঘুরতে যান তারা অবশ্যই পড়বেন এবং শেয়ার করবেন
এক অবিশ্বাস্য কিন্তু সত্যি ঘটনার সাক্ষী: আল্লাহ আজ বড় কোনো বিপদ থেকে বাঁচিয়ে আনলেন!
আজকের দিনটা (১৯ আগষ্ট , ২০২৬, বুধবার) হয়তো আমার জীবনের অন্যতম স্মরণীয় এবং শিক্ষা হয়ে থাকার মতো একটি দিন হয়ে থাকবে।
বিকেল ৫টার দিকে বন্ধু Apan Sarker মেসেজ দিল—
— কখন বের হবি অফিস থেকে?
— এইতো একটু পর। কেন?
— শিমুলিয়া যাব।
— কখন যাবি?
— ৬:৩০-এর দিকে।
— ঠিক আছে।
অফিস থেকে বের হয়ে ভাবলাম চুলটা কেটে নিই। সেলুনে গিয়ে দেখি কাওছার ভাই ফ্রি আছেন, দেখেই বললেন, "বসেন, এখনই কেটে দিচ্ছি।" চুল কেটে বাসায় ফিরতে ফিরতে ৬:১৫ বেজে গেল। ঠিক ৬:৩০-এ অপন এর কল—
— কিরে, কই তুই?
— বাসায়।
— বের হ!
— ৭টার দিকে বের হচ্ছি।
— ঠিক আছে।
রাত ৭:০৩-এ বাসা থেকে বের হলাম। অপন বাইক নিয়ে এল, দুজনে রওনা হলাম শিমুলিয়া ঘাটের উদ্দেশ্যে। যেতে যেতে ও বলল, "বিকেলে বের হলে ভালো হতো, ঘুরে মজা পেতাম।" আমি বললাম, "এখন তো রাত হয়ে গেছে, তাহলে আজ আর শিমুলিয়ার ঐ দিকে না যাই বাদ দে।" কিন্তু ও নাছোড় বান্দা, শিমুলিয়া ঘাটেই যাবে! ভাবলাম—ঠিক আছে, ওর বাইক, ওর তেল, আমার আর কী!
পূর্বাচল ৮ নম্বর সেক্টরের হেলিপ্যাড পার হয়ে দুজনে কথা বলতে বলতে ১১৬ নম্বর রোডে ঢুকছি। কাকতালীয় ভাবে তখন আমাদের আলোচনার বিষয়ই ছিল পূর্বাচলের বর্তমান পরিস্থিতি। আমি অপনকে বলছিলাম, "আজকাল পূর্বাচলে ডাকাতি অনেক বেড়ে গেছে। আজও দেখলাম ২৪ নম্বর সেক্টরে এক প্রাইভেটকারে করে গরু চুরি করে নিয়ে গেছে!"
ঠিক সেই মুহূর্তেই অপন হঠাৎ বাইক থামিয়ে দিল। বাইকের আলোতে দেখলাম রাস্তায় একটা ব্যাকপ্যাক পড়ে আছে। অপন আমাকে বলল, "দেখ!"
বাইকের হ্যান্ডেলটা সোজা হতেই হেডলাইটের আলোয় যে দৃশ্য দেখলাম, তাতে মুহূর্তের মধ্যে বুকটা ধড়ফড় করে উঠল!
( ছবিটা AI দিয়ে করা, দৃশ্যটা এমনই ছিলো) রাস্তার মাঝখানে একটা লোক দাঁড়িয়ে আছে—পরনে নীল জিন্স, পায়ে শু, আর অফ-হোয়াইট পোলো টি-শার্ট। তার দু-হাত পিছন দিয়ে কসটেপ দিয়ে বাধা এবং চোখেও কসটেপ দিয়ে শক্ত করে পেঁচানো! সে মৃদু কিন্তু স্পষ্ট ও শুদ্ধ ভাষায় আকুতি জানাচ্ছে, "ভাই, আমাকে বাঁচান! ছিনতাইকারীরা আমার সব কিছু নিয়ে গেছে... আমাকে বাঁচান!"
ঠিক তখনই চোখ গেল রাস্তার বিপরীত (ডিভাইডারের ) পাশে—একটা সাদা রঙের নোহা গাড়ি দাঁড়িয়ে আছে। সামনে দুজন বসা, পেছনে কেউ ছিল কি না খেয়াল করতে পারিনি। বিপজ্জনক কিছু একটা ঘটে যাচ্ছে বুঝতে পেরে আমি খুব নিচু স্বরে অপনকে ৩ বার বললাম, "বাইক ঘুরা! গাড়ি ঘুরা দ্রুত!"
অপন নিজেও ততক্ষণে প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গেছে। ৪-৫ সেকেন্ডের মধ্যে ও বাইক ঘুরিয়ে ফেলল। কিন্তু আমাদের বাইক স্টার্ট নেওয়ার সাথে সাথেই বিপরীত পাশে দাঁড়িয়ে থাকা নোহা গাড়িটাও স্টার্ট নিয়ে নিল!
আমি অপনকে বললাম, "বামের রাস্তায় ওই গাড়িটার দিকে খেয়াল রাখিস।" ৩০-৪০ গজ পরেই আমাদের রোড ক্রস করতে হবে। মনের ভিতর তখন একটাই ভয় কাজ করছিল—নোহা গাড়িটা হয়তো এসে আমাদের চাপা দেবে, নাহলে পথ আটকে দাঁড়াবে!
(আমাদের সন্দেহ এরাই আসল মাস্টারমাইন্ড) কিন্তু আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা নোহার আগেই রোড ক্রস করে দ্রুত বেরিয়ে আসতে সক্ষম হই।
ছুটে এসে পৌঁছালাম ৮ নম্বর সেক্টরের মাস্টারবাড়ি চত্বরে। সেখানে এক দোকানদারের সাথে পুরো ঘটনাটি শেয়ার করতেই উনি শুনে বললেন, "ওটা একটা গ্যাংয়ের পাতা ফাঁদ ছিল!"
তারপর Adv Md Shakil Azad কে কল করি এবং তারা ৮ নাম্বার সেক্টরে এসে পৌছায়।
আজ সত্যিই মহান আল্লাহর অশেষ করুণায় আমরা কোনো বড় ধরণের বিপদ বা ক্ষতির হাত থেকে বেঁচে ফিরেছি। আলহামদুলিল্লাহ্! পূর্বাচলের এই নিরিবিলি রাস্তাগুলোতে রাতে যাতায়াত করার সময় সবাইকে চরম সতর্ক থাকার অনুরোধ করছি।
ছবিতে থাকা রাস্তাটা ঠিক এমনই ছিলো নির্জন এবং অন্ধকার।