17/10/2024
আজকের দিনে শেখ রাসেলকে বড় প্রয়োজন ছিল
- এম. নজরুল ইসলাম
--------
তার হাসি মেখে আজ সূর্য উঠেছে। ঘাসের ডগায় জমা শিশিরের কণা, কার্তিকের নরম রোদ ছুঁয়ে ঝলমল করে। আজকের দিনটা তো একান্তই তার, বার্ট্রান্ড রাসেলের নামে নাম যার। দুই ভাই, দুই বোনের আদরের ভাই। ভাবিদেরও সঙ্গে ছিল নিত্য খুনসুটি। মায়ের আদর তাকে রাখত ভরিয়ে। শেষাবধি মা-ই তার শেষ আশ্রয়। অন্ধকারে ঢেকে যাওয়া সেই ভোরবেলা, মায়ের কাছেই যেতে চেয়েছিল সে। মায়ের সঙ্গে তার শেষ যাত্রা হলো!
বাবারও কাছের ছিল, থাকত পাশে পাশে। বাবার মতোই সে কি স্বপ্ন দেখত? তাকে নিয়ে স্বপ্ন ছিল বাবারও নিশ্চয়। আর দশজন সাধারণ ছেলের মতোই সকালবেলায় সে স্কুলে যেত রোজ। চতুর্থ শ্রেণির ছাত্র, ওই বয়সেই সতীর্থ বন্ধুদের প্রিয়ভাজন ছিল।
মায়াবী মুখের এক দেবশিশু। তার দুই চোখজুড়ে ছিল অপার বিস্ময়। ছিল অন্যকে আকর্ষণ করার ক্ষমতা। সহজাত সারল্য ছিল তার। মা-বাবার মমতা, ভাই-বোনের ভালোবাসার ভেলায় ভেসে দিন যাচ্ছিল তার। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর লিখেছেন, ‘বয়স তখন ছিল কাঁচা, হালকা দেহখানা/ ছিল পাখির মতো, শুধু ছিল না তার ডানা।’ কাঁচা বয়সই ছিল তার। ধানমÐির ৩২ নম্বর সড়কের ৬৭৭ নম্বর বাড়িটির সামনেই লেক। বাড়ির সামনের রাস্তা দিয়ে সামনে অনেকটা দূর চলে যাওয়া যায়। ধানমÐি লেকের পার আর এই রাস্তা দিয়ে তিন চাকার সাইকেল চালাতে চালাতে একটু একটু করে নিজের চেনা জগতের পরিধি বাড়িয়ে নেওয়ার ভেতর দিয়েই তো দিন কাটত তার। বাড়িতে সর্বকনিষ্ঠ হওয়ায় সবার আদর আদায় করা তো ছিলই। পরিবারের কনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে সবার আদরকাড়া শিশুটির কি কোনো স্বপ্ন ছিল? সকালের সূর্যোদয় কি কোনো বার্তা পাঠাত তাকে? সন্ধ্যার পশ্চিমাকাশ কেন আবির মাখে এমন প্রশ্ন কি কোনো দিন উঁকি দিয়েছে তার মনে? এসব প্রশ্নের উত্তর আমাদের জানা নেই।
স্কুলের শিক্ষক থেকে গৃহশিক্ষক, সবারই ভীষণ প্রিয় হয়ে উঠেছিল। ‘স্কুলের ছুটি হয়ে গেলে বাড়ির কাছে এসে’, হয়তো বা সে দেখত হঠাৎ ‘মেঘ নেমেছে ছাদের কাছে ঘেঁষে।’ রূপকথা তার হয়তো প্রিয় ছিল। মায়ের কাছে, বোনের কাছে করত সে আবদার? ভূতের গল্প শুনে মায়ের আঁচলে ভয়ে কি সে লুকাত মুখ! কিংবা শুনত যদি তেপান্তরের মাঠ পেরিয়ে আসা সেই সাহসী রাজকুমারের গল্প, তাহলে কি মনে মনে হতো সে সেই নবীন কুমার? সেসব খবর আমরা কি আর রাখি? হয়তো বা তার বন্ধু ছিল পাখি। উড়ে এসে বসত পাশে পোষা কবুতর।
হাতের