24/05/2026
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে শ্রীবাস চন্দ্র সাহা নামের একজন সাধারণ পান দোকানদার, যিনি ১০-১২ বছর ধরে ছোট্ট একটি দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। আজ আর বেঁচে নেই। তাকে হত্যা করা হয়েছে প্রকাশ্যে!
একজন পরিশ্রমী মানুষ ও একটি পরিবারের ভরসা, এক মুহূর্তের সহিংসতায় শেষ হয়ে গেলেন।
বাকি পান দিতে অস্বীকৃতি জানানোর জেরে তাকে মারধর করা হয়, লাথি মারা হয়, আর সেই নির্যাতনের পরই তার মৃত্যু ঘটে। অর্থাৎ একজন সংখ্যালঘু হিন্দু দোকানদারকে সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে নির্মমভাবে প্রাণ দিতে হলো।
সবচেয়ে কষ্টের বিষয় হলো এদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারগুলো প্রতিনিয়ত এক ধরনের অদৃশ্য ভয় নিয়ে বেঁচে থাকে। ব্যবসা করা, দোকান চালানো, শান্তিতে জীবনযাপন করাও যেন কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। সামান্য বিরোধও কখনো কখনো ভয়াবহ পরিণতিতে পৌঁছে যায়।
আজ শ্রীবাস চন্দ্র সাহা মারা গেছেন। কিন্তু তার সাথে যেন একটি পরিবারের স্বপ্নও মারা গেল। পরিবারের উপার্জনক্ষম মানুষটি হারিয়ে গেলে শুধু একজন মানুষ মারা যান না পুরো পরিবার অর্থনৈতিক, মানসিক ও সামাজিক সংকটে পড়ে যায়। সন্তানদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে যায়, বৃদ্ধ বাবা-মায়ের ভরসা ভেঙে পড়ে, সংসারে নেমে আসে অসহায়ত্ব।
দুঃখজনক বাস্তবতা হলো, এদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা বা হত্যার ঘটনায় মানুষের ভেতরে ন্যায়বিচার পাওয়ার আস্থা দিন দিন কমে যাচ্ছে। মানুষ মনে করে, কিছুদিন আলোচনা হবে, মামলা হবে, তারপর ধীরে ধীরে সব চাপা পড়ে যাবে। এই হতাশা রাষ্ট্রের জন্যও অশনিসংকেত।
✍️ #সুব্রত_শীল
২৪ মে ২০২৬