20/04/2026
আমাদের গল্প 😍
মানুষের উপকার হবে, এমন কিছু সমস্যার সমাধান পাবে যা মানুষের জীবনকে আরও সহজ করে দিতে পারে। এটা নিয়ে আমি দীর্ঘদিন ধরে রিসার্চ করছিলাম। কোন ফুড দিয়ে আরও বেশি মানুষের মনের মধ্যে জায়গা করে নিতে পারবো, এটা নিয়ে প্রায় এক বছর ধরে ভেবেছিলাম।
সেই করোনার সময়কালীন মানুষের সমস্যার সমাধান করার মাধ্যমে ব্যবসা শুরু করি নোয়াখালীতে। তখন নিজেই হোম ডেলিভারি দিতাম ঢাকায় দিতাম এস এ পরিবহন, সুন্দরবন আর কন্টিনেন্টালে।
হোম ডেলিভারি তখন তেমন ছিলোনা, থাকলেও আমাদের জন্য নয়।
নোয়াখালীতে আম বগুড়ার দই এইসব প্রোডাক্ট দিয়ে বেশ সাড়া পেয়েছিলাম, তবে বেশ কিছু দূর্ঘটনার পরে ঢাকায় এসে চাঁদপুরের মতলবের ক্ষীর নিয়ে শুরু করি, এটাও আমি সফল প্রতিদিন ১৫০-২০০ কেজি ক্ষীর আমরা ডেলিভারি দিয়েছিলাম।
কারখানা থেকে লো কোয়ালিটি আসতে থাকায় কাস্টমার স্বার্থে ক্লোজ করে খেজুর বাদাম বরফি নিয়েও সারাদেশে খুব ভালো সাড়া পেয়েছিলাম তবে দাম বেশি হওয়ার কারণে রিপিট অর্ডার ছিলোনা এবং খেজুরের দাম ডাবল হওয়ার কারণে এই ব্যবসায় বড় ধরনের একটা লস হয় আমাদের।
এর ফাঁকে সিজোনাল আম চাঁদপুর এর ইলিশ তো সবসময়ই চলছিলো আলহামদুলিল্লাহ।
এবার আসি মূল কথায়, শুটকি ভর্তা খুব কঠিন জিনিস বাটাবাটি ব্লেন্ড করা পেয়াজ রসুন মরিচ এগুলো সব উপাদান একসাথে করে ভর্তা করাও সময় সাপেক্ষ যা এই যুগের মানুষের জন্য খুব একটা সহজ কাজ নয়। এই জেনারেশন ডিজিটাল দুনিয়া নিয়ে ব্যস্ত।
যাদের মা আছে তারাও এখনো ভর্তা খেতে শুটকি ভর্তা খেতে পারে, যাদের নেই বা অসুস্থ তারা কিন্তু খেতে পারেনা, এই যুগের আপুরা মাল্টিপল কাজে ব্যস্ত থাকেন, ভাত রান্নাই কঠিন আর সময় সাপেক্ষ ব্যাপার সেখানে শুটকির ভর্তার চিন্তা করা তো আকাশ কুশুম কল্পনা।
আমাদের মায়েরদের মতো এনার্জি আর শারিরীক সক্ষমতা এই যুগের আপুদের নেই, বেশিরভাগ আপুই সিজারিয়ান। কিছু ঘরোয়া কাজই রিস্কি।
আমি চেয়েছি এই জায়গায় কিছু একটা করতে, তার ফসল হচ্ছে আমাদের শুটকি ভর্তা গুলো।
বাংলাদেশের কোন এমন রেসিপি আছে যেটা অনেকদিন ভালো থাকে, খুজতে খুঁজতে পেয়ে গেলাম নরসিংদী নেত্রকোনা কিশোরগঞ্জের বিখ্যাত শুটকির লাড়া, স্থানীয় এই নাম টা বাদ দিয়ে আমরা ভর্তা দিয়েই শুরু করি কারণ এটার স্বাদ ঘ্রান, তৈরির প্রসেস সবই ভর্তার মতই, শুধুমাত্র সরিষার তেলে ভর্তা কে লাড়ালাড়ি করেই এটা তৈরি হয়।
এটা আমি যখন প্রথম বাসায় নেই আমার বোন খেয়ে এত মজা পাইছে, সেই গল্প ভিডিওতে আছে।
আমরা আমাদের আরও কিছু রিপিট কাস্টমারকে ফ্রি খেতে দিয়ে এটার টেস্ট যাচাই করেই মার্কেটিং শুরু করি আলহামদুলিল্লাহ।
আসলি ফ্যামিলি - Asli Family গ্রুপে রিভিউর অভাব নেই, বিশেষ করে আপুরা এত খুশি হচ্ছেন তারা রিভিউ না দিয়ে পারছেন না, তবে অর্ডার আর টাকা যাচ্ছে হয়তো ভাইয়াদের পকেট থেকেই। যাই হোক আমরা ত পেরেছি কিছু আপুদের সমস্যার সমাধান করতে, যারা প্রতিদনিয়ত আমাদের শুটকি ভর্তা খাচ্ছেন।
একে একে পুটি চ্যাপা শুটকি ভর্তার পরে বাঁশপাতা শুটকি ভর্তা চিংড়ী শুটকি ভর্তা এবং ইলিশ ভর্তাও দ্রতই যোগ হবে লিস্টে।
এরপরে আরেকটি ব্লাস্টিং প্রোডাক্ট আসবে শীঘ্রই যা কেউ এখনো কল্পনাও করতে পারেনি যে টাও সেল হবে দেশের মার্কেটে।