nil pori

nil pori nila

10/03/2026

#আড়ালে_ভালোবাসি_ ৩
#মাশরিফা_সুলতানা

বৃষ্টি তখনও থামেনি পুরোপুরি।
আকাশের কালো মেঘগুলো যেন এখনো বিদায়ের আগে শেষ কান্নাটা ঝরিয়ে নিতে চাইছে। টিনের চালা ছেড়ে যখন সাকিব আর ইলা রাস্তায় নামল, তখন চারদিক ভিজে একাকার। মাটির পথটা কাদায় নরম হয়ে গেছে, ছোট ছোট পানির ধারা পথের পাশে গড়িয়ে যাচ্ছে।
দুজনেই পাশাপাশি হাঁটছে।
কিন্তু তাদের মাঝে যেন এক অদৃশ্য নীরবতা।
ইলা মাথা নিচু করে হাঁটছে। তার ভেজা চুল কপালে লেগে আছে, নীল–সাদা স্কুল ড্রেসটা বৃষ্টিতে ভারী হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে সে চুপচাপ সাকিবের দিকে তাকাচ্ছে, আবার দ্রুত চোখ সরিয়ে নিচ্ছে।
সাকিবও কিছু বলছে না।
তার মুখে কঠোর ভাব থাকলেও মাঝে মাঝে তার দৃষ্টি ইলার দিকে চলে যাচ্ছে। যেন সে নিশ্চিত হতে চাইছে—ইলা ঠিক আছে কি না।
বৃষ্টির ফোঁটা পাতলা হয়ে এলেও বাতাসে ঠান্ডা একটা শিরশিরে অনুভূতি ছড়িয়ে আছে।
হঠাৎ দূরে কোথাও বজ্রের গর্জন শোনা গেল।
ইলা থমকে একটু আকাশের দিকে তাকাল।
কালো মেঘের বুক চিরে হঠাৎ একটা তীব্র আলো ঝলসে উঠল—
পরের মুহূর্তেই আকাশ কাঁপিয়ে বাজ পড়ার শব্দ।
“ধড়াম!”
শব্দটা যেন চারদিকে প্রতিধ্বনিত হয়ে উঠল।
ইলা হঠাৎ ভয় পেয়ে উঠল।
তার বুকটা কেঁপে উঠল যেন।
অজান্তেই সে সাকিবের দিকে ঝুঁকে পড়ল—
আর মুহূর্তের মধ্যে সাকিবকে জড়িয়ে ধরল।
সবকিছু যেন এক মুহূর্তে থেমে গেল।
বৃষ্টি ঝরছে।
দূরের গাছগুলো বাতাসে দুলছে।
আর সেই ভেজা পথের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে দুজন মানুষ।
ইলার হাত শক্ত করে সাকিবের শার্ট আঁকড়ে আছে।
তার চোখ বন্ধ।
সে কাঁপা গলায় বলল—
“আমি… আমি খুব ভয় পাই বাজ পড়লে…”
সাকিব প্রথমে যেন একটু অবাক হয়ে গেল।
তার বুকের কাছে ইলার মাথা, ভেজা চুলের গন্ধ বাতাসে মিশে আছে।
তার হৃদয়টা হঠাৎ অদ্ভুতভাবে ধক করে উঠল।
সে ধীরে ধীরে বলল—
“ভয় পাস কেন?”
ইলা চোখ না খুলেই বলল—
“ছোটবেলা থেকেই ভয় লাগে…”
সাকিব কিছুক্ষণ চুপ করে রইল।
তারপর খুব ধীরে, খুব কোমলভাবে বলল—
“আমি আছি তো।”
কথাটা খুব সাধারণ।
তবু সেই মুহূর্তে যেন শব্দগুলো অন্যরকম হয়ে উঠল।
ইলার বুকের ভেতর অদ্ভুত একটা উষ্ণতা ছড়িয়ে পড়ল।
সে ধীরে ধীরে চোখ খুলল।
তারপর বুঝতে পারল—সে এখনো সাকিবকে জড়িয়ে ধরে আছে।
মুহূর্তের মধ্যে তার গাল লাল হয়ে উঠল।
সে দ্রুত সরে গেল।
মাথা নিচু করে দাঁড়িয়ে রইল।
বৃষ্টি তখন হালকা হয়ে এসেছে।
আকাশে দূরে কোথাও আবার বিদ্যুৎ চমকালো, তবে এবার আর শব্দটা ততটা ভয়ংকর লাগল না।
সাকিব মৃদু গলায় বলল—
“এত ভয় পেলে একা একা হাঁটিস কেন?”
ইলা লাজুক কণ্ঠে বলল—
“আমি তো ভাবিনি বৃষ্টি হবে…”
তারপর একটু থেমে আবার বলল—
“আর… তুমি আসবে সেটাও ভাবিনি।”
সাকিব মুচকি হেসে ফেলল।
হাসিটা খুব ছোট, কিন্তু সত্যি।
ইলা সেটা দেখে অবাক হয়ে গেল।
কারণ সাকিবকে এভাবে হাসতে সে খুব কমই দেখেছে।
কিছুক্ষণ পর তারা আবার হাঁটা শুরু করল।
ভেজা পথ ধরে দুজন পাশাপাশি হাঁটছে।
চারদিকে বৃষ্টির গন্ধ, ভেজা মাটির সুবাস।
কিন্তু ইলার মনে হচ্ছিল—
আজকের এই পথটা যেন অন্যরকম।
কারণ এই বৃষ্টির মধ্যে, সেই আকস্মিক ভয় আর অজান্তে জড়িয়ে ধরা মুহূর্তটা—
তার হৃদয়ের ভেতরে অদ্ভুত এক অনুভূতির জন্ম দিয়েছে।
আর সাকিব?
সে বাইরে থেকে শান্ত থাকলেও ভেতরে ভেতরে অনুভব করছে—
ইলা যখন তাকে জড়িয়ে ধরেছিল,
তার হৃদয়ের ভেতরে যেন কিছু একটা বদলে গেছে।
সম্ভবত এই বৃষ্টিভেজা সন্ধ্যাই
তাদের জীবনের গল্পটাকে ধীরে ধীরে এমন এক দিকে নিয়ে যাচ্ছে—
যেখানে দুষ্টুমি আর ঝগড়ার আড়ালে
চুপচাপ জন্ম নিচ্ছে এক অদ্ভুত অনুভূতি।

চলবে......💝

09/03/2026

#আড়ালে_ভালোবাসি_ ১
#মাশরিফা_সুলতানা

সবুজে মোড়া এক শান্ত গ্রাম। চারদিকে ধানের ক্ষেতের ঢেউ, মাঝে মাঝে তালগাছ আর নারকেলগাছ মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে। ভোরবেলা কুয়াশার চাদর ধীরে ধীরে সরে যায়, আর সেই সঙ্গে পাখির কূজন আর মসজিদের আজানের ধ্বনি মিলে তৈরি করে এক অদ্ভুত শান্ত পরিবেশ। গ্রামের মানুষ তখন নতুন দিনের কাজে বেরিয়ে পড়ে—কেউ মাঠে যায়, কেউ বাজারে, আবার কেউ বা উঠানের কোণে বসে চা খেতে খেতে দিনের পরিকল্পনা করে।
এই গ্রামের মাঝখানেই দাঁড়িয়ে আছে একটি পুরোনো অথচ স্নিগ্ধ বাড়ি। বাড়িটা খুব বড় না, কিন্তু তার চারপাশে যে মায়া ছড়িয়ে আছে, সেটাই যেন তাকে বিশেষ করে তোলে। বড় একটা উঠান, উঠানের একপাশে বিশাল এক আমগাছ, আর অন্য পাশে বাঁশঝাড়। বিকেলের দিকে এই উঠানেই বসে গল্প করে বাড়ির সবাই।
এই বাড়িতেই থাকে সাকিবদের পরিবার।
পরিবারের বড় ছেলে সাকিব—শান্ত স্বভাবের, দায়িত্ববান এবং পড়াশোনায় খুব মনোযোগী। গ্রামের সবাই তাকে ভদ্র আর মেধাবী ছেলে বলেই চেনে। সে খুব বেশি কথা বলে না, কিন্তু যেটুকু বলে তা ভেবেচিন্তেই বলে। ছোটবেলা থেকেই তার মধ্যে এক ধরনের পরিণত ভাব রয়েছে।
আর তার চাচাতো বোন ইলা—একেবারে তার উল্টো স্বভাবের।
দুষ্টুমি যেন তার রক্তে মিশে আছে। কখনো কারও জুতো লুকিয়ে রাখা, কখনো কারও খাতার ভেতর অদ্ভুত অদ্ভুত ছবি এঁকে দেওয়া—এগুলোই যেন তার সবচেয়ে প্রিয় কাজ।
ছোটবেলা থেকেই তারা একসাথে বড় হয়েছে।
তাই তাদের সম্পর্কটা শুধু চাচাতো ভাই–বোনের সীমায় আটকে নেই—বরং অনেকটা বন্ধুর মতো।
তবে একটা ব্যাপার পুরো পরিবার খুব ভালো করেই জানে—
ইলার যত দুষ্টুমি, তার সবচেয়ে বড় শিকার সাকিব।
সেদিন ভোরেও ঘটল তেমনই একটি ঘটনা।
সকালের আলো তখন ঠিকমতো উঠোনে পড়েনি। কুয়াশার ভেতর দিয়ে সূর্যের আলো ধীরে ধীরে ফুটে উঠছে। ঘুম থেকে উঠে সাকিব তার প্রতিদিনের মতোই পড়াশোনার প্রস্তুতি নিচ্ছিল।
টেবিলের উপর রাখা বইপত্র গুছিয়ে ব্যাগে ভরছিল সে।
হঠাৎ হাত পড়ল তার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খাতাটার উপর।
খাতাটা ছিল তার কলেজের ক্লাস নোটের খাতা—যেটা সে খুব যত্ন করে লিখে রেখেছিল। প্রতিটি পাতায় ছিল তার পরিশ্রমের ছাপ।
খাতাটা খুলতেই সাকিব থমকে গেল।
পাতাগুলো এলোমেলো।
কিছু পাতায় রঙ পেন্সিল দিয়ে আঁকিবুঁকি করা।
আর মাঝখানের একটা পাতায় বড় বড় করে লেখা—
“রাগী ভাইয়া”
মুহূর্তের মধ্যে তার ভ্রু কুঁচকে গেল।
রাগে তার গলা একটু ভারী হয়ে উঠল।
— “এটা কে করেছে?”
তার মনে প্রশ্ন জাগলেও উত্তরটা যেন আগেই জানা।
এই বাড়িতে এমন দুষ্টুমি করার সাহস আর কারও নেই।
ইলা ছাড়া।
ঠিক তখনই রান্নাঘর থেকে তার মা হাসনা বানুর কণ্ঠ ভেসে এল—
— “কি হলো সাকিব? এত সকালে কার সাথে কথা বলছিস?”
সাকিব খাতাটা হাতে নিয়ে রান্নাঘরের দিকে এগিয়ে গেল।
— “আম্মু, দেখেন তো আমার খাতার কী অবস্থা!”
হাসনা বানু খাতাটা দেখে ভ্রু কুঁচকে বললেন—
— “এগুলো কে করেছে?”
সাকিব একটু বিরক্ত স্বরে বলল—
— “আপনি কি সত্যিই বুঝতে পারছেন না?”
কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে হাসনা বানু হালকা দীর্ঘশ্বাস ফেললেন।
তার চোখে যেন অদ্ভুত এক সন্দেহের ছায়া ভেসে উঠল।
— “ইলা করেছে, তাই না?”
সাকিব কোনো উত্তর দিল না।
তবে তার মুখের অভিব্যক্তিই যেন সব বলে দিল।
মুহূর্তেই তার মনে হলো—ইলার ঘরটা একবার দেখে আসা দরকার।
সে দ্রুত পায়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেল।
ঘরের সামনে এসে থামতেই তার চোখে পড়ল—দরজাটা আধখোলা।
হালকা ঠেলা দিতেই দরজাটা কঁকিয়ে খুলে গেল।
ভেতরে ঢুকে সে চারদিকে তাকাল।
ঘরটা নিস্তব্ধ।
বিছানাটা গুছানো, জানালার পর্দা বাতাসে হালকা দুলছে…
কিন্তু ইলা নেই।
এদিকে ইলা কিন্তু অনেক আগেই বিপদের আভাস পেয়ে গিয়েছিল।
ভোরের আলো তখন মাত্র ফুটতে শুরু করেছে।
আকাশের পূর্বদিকে লালচে আভা ছড়িয়ে পড়েছে, পাখিরা ডানা মেলে নতুন দিনের গান গাইছে।
ঠিক সেই সময়ই ইলা ব্যাগটা কাঁধে ঝুলিয়ে চুপিচুপি সিঁড়ি বেয়ে নিচে নেমে এল।
তার পায়ের শব্দ যেন নিজেই লুকিয়ে ফেলতে চাইছিল।
গেট খুলে বের হওয়ার মুহূর্তেই পেছন থেকে একটি পরিচিত কণ্ঠ ভেসে এলো—
— “ইলা! এত সকালে কোথায় যাচ্ছিস?”
ইলা থমকে দাঁড়াল।
পেছনে তাকিয়ে দেখল হাসনা বানু চাচি দাঁড়িয়ে আছেন।
মুহূর্তের জন্য তার বুকটা ধক করে উঠল।
তবুও মুখে হাসি এনে সে বলল—
— “স্কুলে যাচ্ছি চাচি… আজ একটু আগে যেতে হবে।”
কথা শেষ করেই সে আর এক মুহূর্ত দেরি করল না।
দ্রুত গেট পেরিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে গেল।
রাস্তার মাথায় গিয়ে ভাগ্য ভালোই বলা যায়—একটা অটো দাঁড়িয়ে ছিল।
ইলা তাড়াতাড়ি উঠে বসতেই অটোটা ধীরে ধীরে চলতে শুরু করল।
অটো এগিয়ে যেতেই সে গভীর একটা নিঃশ্বাস ফেলল।
— “উফ! আর একটু হলেই ধরা পড়ে যেতাম!”
তারপর জানালার বাইরে তাকিয়ে নরম গলায় বলল—
“আজকে সাকিব ভাইয়া নিশ্চয়ই খুব রেগে গেছে…”
স্কুলে পৌঁছে সে দেখল এখনো খুব বেশি ছাত্রছাত্রী আসেনি।
চারদিকে এক ধরনের সকালের শান্ত পরিবেশ ছড়িয়ে আছে।
ইলা ক্যান্টিনের এক কোণে গিয়ে বসে পড়ল।
একটার পর একটা নাস্তা খেতে খেতে তার মনে একটাই চিন্তা ঘুরপাক খেতে লাগল—
কিভাবে সাকিব ভাইয়ার কাছে ক্ষমা চাইবে?
ঠিক তখনই পেছন থেকে কেউ হালকা করে চাপড় দিল।
— “এই ইলা! আজ এত সকালে?”
পেছনে তাকিয়ে সে দেখল—সামি দাঁড়িয়ে আছে।
সামি মুচকি হেসে বলল—
— “কি রে, এত খাচ্ছিস কেন? নিশ্চয়ই কোনো বড় ঝামেলা হয়েছে।”
ইলা কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে ধীরে বলল—
— “হয়েছেও…”
এরপর ধীরে ধীরে তাদের বন্ধুরা এসে হাজির হলো।
সবাই মিলে তাকে ঘিরে দাঁড়াল এবং জানতে চাইল কী হয়েছে।
শেষ পর্যন্ত ইলা সব খুলে বলল।
তার কথা শুনে সবাই হেসে উঠল।
সামি হাসতে হাসতে বলল—
— “তুই সত্যি খাতায় লিখে দিয়েছিস ‘রাগী ভাইয়া’!”
ইলা মুখ গোমড়া করে বলল—
— “আমি তো শুধু মজা করছিলাম…”
দিনের পড়াশোনা শেষ হয়ে বিকেলের দিকে স্কুল ছুটি হলো।
ইলা একা একাই বাড়ির পথে হাঁটা শুরু করল।
কিন্তু কিছুদূর যেতেই আকাশটা হঠাৎ অন্ধকার হয়ে এলো।
কালো মেঘ যেন মুহূর্তেই আকাশটাকে ঢেকে ফেলল।
তারপরই শুরু হলো ঝুম বৃষ্টি।
মুষলধারে বৃষ্টির ফোঁটা মাটিতে পড়তেই চারদিক ধোঁয়াটে হয়ে উঠল।
ইলা চারদিকে তাকাল—কোথাও আশ্রয় নেই।
শেষ পর্যন্ত ভিজতে ভিজতেই সে রাস্তার পাশে একটা ছোট চায়ের দোকানের সামনে গিয়ে দাঁড়াল।

চলবে.........

09/03/2026

#রাজবাড়ীর_রহস্য_৮
#মাশরিফা_সুলতানা

মেঘলা আর আরিয়ান সেই অন্ধকার সিঁড়ির মুখোমুখি দাঁড়িয়ে আছে। বাতাসে যেনো অতৃপ্ত সপ্নের গন্ধ ভেসে আসে। সিঁড়ি নিচের দিকে নেমে গেছে, মেঝেতে মাটি ও ধূলির মিশ্রণ। প্রতিটি ধাপ যেনো একেকটি গোপন রহস্যের চাবি খুলছে।
মেঘলা ধীরে ধীরে প্রথম ধাপটা নিল। আঙুল দিয়ে টর্চ ধরে রেখেছে, কিন্তু আলোও যেনো এই গভীর অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে। আরিয়ান পাশ দিয়ে এগোচ্ছে, চেহারায় ভয়ের আর উত্তেজনার এক অদ্ভুত মিশ্রণ।
— “সাবধানে, মেঘলা। আমরা জানি না নিচে কি আছে।”
মেঘলার চোখ জ্বলে উঠল।
— “আমি জানি, আরিয়ান। আমরা এতদূর এসেছি। এখন থেমে থাকা ঠিক হবে না।”
সিঁড়িটি আরও গভীর, প্রতিটি ধাপ যেনো তাদের ভেতরের অবচেতনে প্রবেশ করছে। মেঘলার হৃদয় স্পন্দিত হচ্ছে, মনে হচ্ছে অদৃশ্য কোনো হাত ধীরে ধীরে তার কাঁধে স্পর্শ করছে।
হঠাৎ আরিয়ান থেমে গেল। মেঘলা তাকালো, আর দেখল সে একেবারে স্থির হয়ে আছে।
— “কি হলো?”
— “শোনো… শব্দটা শুনছ?”
নিচ থেকে আসছে এক মৃদু কোলাহল। ধীরে ধীরে বাড়ছে, যেনো কেউ তাদের দিকে এগোচ্ছে।
মেঘলা কাঁপা গলায় বলল,
— “নিচে কেউ আছে কি?”
আরিয়ান মাথা নেড়ে বলল,
— “সম্ভবত… বা হতে পারে শুধু বাতাস।”
তাদের সামনে সিঁড়ির শেষ ধাপ। মেঘলা হাত বাড়িয়ে ঠোঁটের কাছে টর্চটি নিয়ে যায়। আর তখনই হঠাৎ ভেসে এলো এক মৃদু গন্ধ — পুরনো কাগজের, মাটির, আর ভাঙা কাঠের।
তারা ধীরে ধীরে সিঁড়ির শেষ ধাপে পৌঁছাল। নিচে একটা ছোট ঘর, যেখানে বাতি জ্বলে না। কিন্তু সেখানে ভেসে আসছে এক অদ্ভুত আলো, যেনো কোন অদৃশ্য প্রেতময় সত্তা নিজে আলো ছড়াচ্ছে।
মেঘলা আরিয়ানকে কাঁধে টোকা দিয়ে বলল,
— “দেখো, আলোটা ঠিক সিন্দুকের দিকে যাচ্ছি।”
তারা ধীরে ধীরে ঘরে প্রবেশ করল। মেঝেতে কিছুটা বালি ছড়িয়ে আছে, যেনো দীর্ঘদিন কেউ এখানে আসেনি। ঘরের এক প্রান্তে সেই পাথরের সিন্দুক। এবার তারা লক্ষ্য করল, সিন্দুকের পাশে একটি ছোট কাঠের বাক্স।
মেঘলা হাত বাড়িয়ে বাক্সটি তুলল। এবং সেই সাথে বাতাসের হালকা শব্দ শোনা গেল, যেনো কেউ তাদের সঙ্গে কথা বলছে।
— “আরিয়ান… দেখো, এখানে একটি চাবি আছে। পুরনো, রূপার তৈরি।”
আরিয়ান হাত বাড়িয়ে বলল,
— “হয়তো এটি সেই চাবি যা শেষ রহস্যের দরজা খোলে।”
মেঘলা ধীরে ধীরে চাবিটি নিল। হঠাৎ ঘরের বাতি হালকা কাঁপতে শুরু করল। অদ্ভুত ছায়া ঘরের চারপাশে নেচে উঠল। তাদের চোখের সামনে, করিডোরের দেয়ালগুলো যেনো জীবন্ত হয়ে উঠল। ছবি ও আঁকা চিত্রগুলো অদ্ভুতভাবে নড়ে, যেনো বলা হচ্ছে—“সত্য জানো, কিন্তু সাহসী হও।”
মেঘলা আরিয়ানকে ধীরে ধীরে চাবিটি হাতে ধরিয়ে বলল,
— “আমাদের সামনে যা আছে, তা কেবল দেখার নয়, বুঝতেও হবে।”
তাদের চোখ পড়ল ঘরের এক কোণে, যেখানে মাটির নিচে হালকা আলো ফোঁটা ফোঁটা পড়ছে। মনে হলো, অদৃশ্য কোনো সত্তা তাদের দেখছে।
আরিয়ান বলল,
— “এটি সেই জায়গা, যেখানে রাজকন্যা মৃণালিনীর সব লুকানো সত্য লুকিয়ে আছে। আমরা যদি নিচে নামি, হয়তো সব জানা যাবে।”
মেঘলার হাতে টর্চ শক্ত হয়ে ধরেছে, তার চোখে অদ্ভুত উজ্জ্বলতা। মনে হচ্ছে ভয় আর উত্তেজনার মধ্যে এক নতুন অনুভূতি জাগছে—সত্যের আকর্ষণ।
হঠাৎ নিচের মাটির ফাঁক থেকে একটি হালকা শব্দ এলো, ধীরে ধীরে শব্দটা স্পষ্ট হলো—“স্বাগত… সাহসী যারা সত্য খুঁজে বের করতে এসেছে।”
মেঘলা ও আরিয়ান একে অপরের দিকে তাকাল। ভয়ের সঙ্গে কৌতূহলও জেগে উঠল।
— “আরিয়ান… আমরা কি নামব?”
— “হ্যাঁ, মেঘলা। আমরা এতদূর এসেছি। এখন জানতে হবে রাজবাড়ীর আসল রহস্য।”
তারা ধীরে ধীরে সেই অন্ধকার সিঁড়িতে পা বাড়াল, মাটির নিচে যত গভীরে যাচ্ছে, রহস্য ততই স্পষ্ট হচ্ছে।
মেঘলার হৃদয় কাঁপছে, কিন্তু কৌতূহল তাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আরিয়ান পাশে আছে, সাহসী চোখে তাকিয়ে। তাদের সামনে গভীর অন্ধকার, আর সেখানে লুকিয়ে আছে রাজবাড়ীর আসল সত্য।

চলবে… ✨👻

ভালো লাগলে ফলো দিয়ে সাথে থাকুন

09/03/2026

#আড়ালে_ভালোবাসি_ট্রেইলার
#মাশরিফা_সুলতানা

বৃষ্টি হঠাৎ নামে, আকাশের কালো চাদর যেন পুরো গ্রামকে ঢেকে ফেলল।
রাস্তার ধুলো ও কুয়াশার মধ্যে ভিজে যায় প্রতিটি পথ।
ছোট্ট গ্রামটি যেন এক মুহূর্তে শূন্য হয়ে গেছে—শুধু বৃষ্টির আওয়াজ আর পানি গড়িয়ে পড়ার শব্দ শোনা যাচ্ছে।
রাস্তা দিয়ে হাঁটছে দু’জন—এক ছেলে, এক মেয়ে।
দু’জনেরই কাপড়, চুল, সব ভিজে গেছে।
তাদের পায়ে জল জমে, পানির ছোপ ছোপ ছুটে চলেছে।
কেউ কোনো ছাতা বহন করছে না।
মেয়েটি—ইলা—তার কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে এগোচ্ছে।
তার সাদা–নীল ড্রেস বৃষ্টিতে আঠালো হয়ে গেছে, পায়ে ভিজে ছাপ ফেলে চলেছে।
তার কণ্ঠে নেই কোনো আর্তনাদ, শুধু নীরব চিন্তা আর হালকা হাঁফফাঁফানি।
ছেলেটি—সাকিব—তার পাশে এগোচ্ছে।
তার চোখে এক ধরনের দমবন্ধ করা উদ্বেগ, যেন ভিজে পথটা তার জন্যও নতুন এক পরীক্ষা।
ছেলেটি মেয়েটিকে ঝাপটা বৃষ্টির মধ্যে সামলাতে চাইছে, কিন্তু তারও কোনো ছাতা নেই।
“ছাতা থাকলে ভালো হতো,” মৃদু কণ্ঠে ইলা বলল।
সাকিব শুধু তাকাল, আর কোনো শব্দ করল না।
তার চুপ থাকা যেন ইলার চিন্তা আরও বাড়িয়ে দেয়।
রাস্তার পাশে ছোট্ট একটি চায়ের দোকান দেখা গেল।
দু’জনেই হঠাৎ সেখানে ঢুকে বসল, যেন ভিজে শরীর সামলানোর আরেক সুযোগ।
বাইরের বৃষ্টির শব্দ যেন তাদের মধ্যে এক ধরনের নীরবতা তৈরি করল।
একটু থেমে তারা শুধু দেখল—বৃষ্টি, রাস্তা, ছাতা নেই—সবকিছু যেন তাদের এক মুহূর্তের জন্য আলাদা করে দিয়েছে।
ইলার মনে হল, এ বৃষ্টি, এই ভিজে রাস্তা, সাকিবের সঙ্গে এই নীরব হাঁটা—সব মিলিয়ে যেন তার হৃদয়ের এক অজানা অনুভূতি জাগাচ্ছে।
আর সাকিব? সে নিজের ভাবগুলো গোপন রাখছে, কিন্তু চোখে চোখ রেখে সে জানে—এই মুহূর্তগুলো ভিজে ভিজে, কিন্তু তাদের মনে চিরদিনের স্মৃতি হয়ে থাকবে।

08/03/2026

#রাজবাড়ীর_রহস্য
#মাশরিফা_সুলতানা
#রাজবাড়ীর_রহস্য_পর্ব৭

ঘরের ভেতর তখন অদ্ভুত নীরবতা। মেঘলা আর আরিয়ান সেই পুরনো সিন্দুকের সামনে দাঁড়িয়ে আছে। সিন্দুকের ভেতর থেকে পাওয়া ডায়েরিটি মেঘলার হাতে। পাতাগুলো পুরনো, হলদে হয়ে গেছে, তবু লেখাগুলো যেন আজও জীবন্ত।
মেঘলা ধীরে ধীরে ডায়েরির দ্বিতীয় পাতাটি খুলল।
সেখানে লেখা—
“এই রাজবাড়ীর ভেতরে শুধু ঘর আর বারান্দা নেই, আছে লুকানো পথ। সেই পথ জানে শুধু আয়না।”
আরিয়ান অবাক হয়ে বলল,
— “আয়না? কিন্তু কোন আয়না?”
মেঘলা মাথা তুলে ঘরের কোণের দিকে তাকাল। সেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেই বড় পুরনো আয়নাটা। কাঠের ফ্রেমে অদ্ভুত কারুকাজ করা, যেন অনেক পুরনো সময়ের স্মৃতি লুকিয়ে আছে এর মধ্যে।
হঠাৎ বাতাসটা যেন একটু ঠান্ডা হয়ে গেল। টর্চের আলো কাঁপতে লাগল।
মেঘলা ফিসফিস করে বলল,
— “আরিয়ান… আয়নাটা দেখছো?”
আয়নাটার ভেতরের প্রতিচ্ছবি হঠাৎ যেন একটু অন্যরকম হয়ে গেল। তাদের পেছনের দেয়ালটা আয়নায় নেই। বরং দেখা যাচ্ছে একটা সরু করিডোর, যেন কোনো গোপন পথ।
আরিয়ান বিস্মিত হয়ে বলল,
— “এটা তো আমাদের পেছনে নেই! তাহলে আয়নায় কেন দেখা যাচ্ছে?”
মেঘলার বুক ধুকপুক করতে লাগল। সে ধীরে ধীরে আয়নার দিকে এগিয়ে গেল।
ঠিক তখনই আবার সেই অদ্ভুত শব্দ—
ধপ… ধপ… ধপ…
মনে হচ্ছে কেউ যেন দূরে কোথাও হাঁটছে।
মেঘলা আয়নার সামনে দাঁড়াল। তার নিজের প্রতিচ্ছবি দেখা যাচ্ছে, কিন্তু পেছনের দৃশ্যটা আলাদা। সেখানে অন্ধকার করিডোর।
আরিয়ান বলল,
— “হয়তো এটা একটা ইঙ্গিত। রাজকন্যা মৃণালিনী আমাদের পথ দেখাচ্ছে।”
মেঘলা হাত বাড়িয়ে আয়নার কাচে ছুঁয়ে দিল।
হঠাৎই আয়নাটা কেঁপে উঠল।
একটা ঠান্ডা বাতাস বেরিয়ে এলো ভেতর থেকে। তারপর ধীরে ধীরে আয়নার মাঝখানে একটা ফাঁক তৈরি হলো।
মেঘলা চমকে উঠল।
— “এটা… এটা একটা দরজা!”
আরিয়ান টর্চটা সামনে ধরল। সত্যিই আয়নার পেছনে একটা গোপন পথ।
সরু, অন্ধকার একটা করিডোর, যা নিচের দিকে নেমে গেছে।
মেঘলা একটু ভয় পেলেও কৌতূহল সামলাতে পারল না।
— “আমরা কি ভেতরে যাব?”
আরিয়ান একটু ভাবল। তারপর বলল,
— “আমরা এতদূর এসেছি। এখন ফিরে গেলে রহস্যটা কখনো জানা যাবে না।”
দুজনেই টর্চ জ্বালিয়ে সেই গোপন করিডোরে পা রাখল।
করিডোরটা ভীষণ পুরনো। দেয়ালের ইটগুলো জায়গায় জায়গায় ভেঙে গেছে। ছাদ থেকে ঝুলছে মাকড়সার জাল।
তারা ধীরে ধীরে সামনে এগোতে লাগল।
হঠাৎ করিডোরের দেয়ালে একটা ছবি দেখতে পেল মেঘলা। টর্চের আলো ফেলতেই পরিষ্কার হলো ছবিটা।
একজন রাজকন্যা।
তার মাথায় মুকুট, গায়ে রাজকীয় পোশাক।
মেঘলা অবাক হয়ে বলল,
— “এটা কি মৃণালিনী?”
আরিয়ান মাথা নেড়ে বলল,
— “মনে হয় তাই।”
ছবির নিচে একটা লাইন লেখা—
“সত্য লুকিয়ে আছে মাটির নিচে।”
মেঘলার বুক কেঁপে উঠল।
— “মাটির নিচে মানে?”
আরিয়ান করিডোরের সামনে আলো ফেলল।
করিডোরটা শেষ হয়েছে একটা গোল ঘরে গিয়ে। মাঝখানে পাথরের মেঝে।
মেঘলা আর আরিয়ান সেখানে গিয়ে দাঁড়াল।
হঠাৎ মেঝের একটা অংশে খেয়াল গেল তাদের। পাথরের একটা টাইল একটু আলাদা।
আরিয়ান নিচু হয়ে সেটা চাপ দিল।
গড়ররর…
হঠাৎ মেঝেটা একটু সরে গেল।
নিচে দেখা গেল একটা সিঁড়ি।
অন্ধকার, গভীর সিঁড়ি।
মেঘলা ভয়ে আর উত্তেজনায় কাঁপতে লাগল।
— “আরিয়ান… নিচে কি আছে?”
ঠিক তখনই আবার সেই অদ্ভুত ঠান্ডা বাতাস বইতে লাগল। মনে হলো কেউ যেন তাদের খুব কাছে দাঁড়িয়ে আছে।
আরিয়ান ধীরে ধীরে বলল,
— “মনে হয় এখানেই রাজবাড়ীর আসল রহস্য লুকিয়ে আছে।”
মেঘলা টর্চটা শক্ত করে ধরল।
দুজনেই ধীরে ধীরে সেই অন্ধকার সিঁড়ির দিকে তাকিয়ে রইল।
আর নিচে কোথাও থেকে ভেসে এলো এক মৃদু শব্দ—
টক… টক… টক…
মনে হচ্ছে কেউ যেন নিচ থেকে দরজায় কড়া নাড়ছে।
মেঘলা ফিসফিস করে বলল—
— “নিচে… কেউ আছে?”
আরিয়ান উত্তর দিতে পারল না।
কারণ ঠিক তখনই সিঁড়ির গভীর অন্ধকারে একটা ছায়া নড়তে দেখা গেল…

চলবে… 👻📖

01/05/2025

নিঃসন্দেহে যাকে আপনার জন্য সৃষ্টি করা হয়েছে সে পুরো পৃথিবী ঘুরে হলেও আপনার কাছে আসবে ❤️

24/11/2024


13/11/2024

ignore me more, it helps me lose interest faster

Address

Dhaka

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when nil pori posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category