18/08/2026
অনেকগুলো খারাপ কাজের মধ্যে বিএনপি সরকার আজকে একটা ভালো কাজ করেছে।
তারা আগামীকাল থেকে মেয়দের জন্যে স্পেশাল বাস সার্ভিস চালু করতে যাচ্ছে।
আপাতত ঢাকায় ১০ টা, চট্টগ্রাম এবং বগুড়ায় ২ টা করে চালু করা হবে। তারপর আস্তে আস্তে সারা বাংলাদেশে এ স্পেশাল বাস সার্ভিস ছড়িয়ে দেয়া হবে।
এ বাসের সার্ভিস এতটাই প্রিমিয়াম হবে যে সিট এবং ইনডোর সার্বক্ষণিক নিট এন্ড ক্লিন থাকবে, যেকোন মেয়ে চাইলে ইচ্ছেমতো ঘুরতে পারবে, যাতায়াত করতে পারবে।
শুধু তাই না- এ বাসের ড্রাইভার থেকে শুরু করে কন্ডাকটর, হেল্পার সব মেয়ে হবে যাতে কোন ধরনের হেনস্তার শিকার না হতে হয়।
অথচ ড্রাইভার এবং হেল্পার পুরুষ হওয়ায় বহু মেয়েকে হেনস্তার শিকার হতে হয়েছে, ধ*র্ষিত হতে হয়েছে। শুধু হেল্পারের দ্বারাই না যাত্রীদের দ্বারাও লাঞ্চিত হতে হয়েছে।
আমারই পরিচিত এক মেয়ে ফ্রেন্ড একদিন ভার্সিটতে আসার জন্যে পাবলিক বাসে উঠেছিল। স্টেশন থেকেই বাসে উঠায় ও সিট পেয়েছিল।
কিন্তু প্রচন্ড গরম আর ভিড়ের মধ্যে বয়স্ক একজন লোককে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে নিজের আরামের সিটটা ছেড়ে উনাকে বসতে দিয়েছিল।
তারপর বাসের প্রচন্ড ভিড় আর গরমের মধ্যে ও দাঁড়িয়েই আসছিল। কিছুক্ষণ পরপরই একেকজন পুরুষ যাত্রী নানান বাহানায় ওর গা ছুঁয়ে দিচ্ছিল।
ও মনে প্রথমে করেছিল হয়তো ভিড়ের কারণে এমনটা হচ্ছে। কিন্তু ভিড় কিছুটা কমার পরও দেখছিল সবাই ওর পাশে কেমন যেন চেপে চেপে আছে, নানান বাহানায় চুল আর পিঠ ছুঁতে চাচ্ছে।
এমন একটা ভাব করছে যেন এটা অনিচ্ছাকৃতভাবে হচ্ছে অথচ সেসব যাত্রীরা ইচ্ছা করেই এটা করছিল।
তিন চারটা স্টেশন পার হওয়ার পর যেই বয়স্ক লোকটাকে সিট ছেড়ে বসতে দিয়েছিল তার সাথের সিটটা ফাঁকা হয়েছিল। ও খুশিমনেই সেখানে বসেছিল। ভেবেছিল এবার হয়তো রক্ষা হয়েছে।
কিন্তু আরও কিছুদূর যাওয়ার পর ক্লান্তি আর বিষণ্ণতায় ওর চোখ একটু লেগে আসায় বাসের সিটেই ঘুমিয়ে পড়েছিল।
ঘুম থেকেই টের পাচ্ছিল ওর কোমড়ে কে যেন হাত দিচ্ছে। ও ভেবেছিল হয়তো ঘুম ঘুম ভাবের কারণে ভুল হচ্ছে। কিন্তু না। আবারও একই জিনিস। ওড়নার নিচ দিয়ে ওর কোমড়ে এবং পেটে শক্ত করে হাত বুলাচ্ছে।
ও অবাক হয়ে দেখেছিল যেই বয়স্ক লোকটাকে নিজের আরামের সিটটাতে বসতে দিয়েছিল সেই লোকটাই তার সরলতার সুযোগ নিয়ে কোমড়ে হাত দিচ্ছে, যৌ*নতার অনুভব নিচ্ছে। অথচ এই লোকটাকে ও বাবার মতোই মনে করেছিল।
সেদিন চিৎকার দিয়ে পুরো ঘটনা জানিয়েও কোন লাভ হয়নি। বাসের লোকেরাই ওকে ব্লেইম দিয়েছে, কটু কথা শুনিয়েছে। বাবার বয়সী একজন লোককে না-কি ও ফাঁসাতে চাচ্ছে এমনটাও বলেছিল।
রাগে, ক্ষোভে সেদিন ও বাস থেকে নেমে পড়েছিল। ক্যাম্পাসে এসে আমাদের অনেকের সাথেও শেয়ার করেছিল।
এ ঘটনাটা অনেকের কাছেই হয়তো ছোট মনে হবে কিন্তু ওকে বহুদিন তাড়া করে বেড়িয়েছিল, ট্রমাটাইজড করেছিল।
আমার মেসের আরেক বড় ভাই উনার বউকে নিয়ে ঢাকাতেই ঘুরতে বের হয়েছিল। আসার সময় কোন গাড়ি না পেয়ে বাসে উঠেছিল।
বাস কিছুটা নির্জন হওয়ায় হেল্পার টাকা তুলতে আসার সময় ব্লেড দিয়ে উনার বউয়ের পেছনের দিকের কাপড় কাটতে চেয়েছিল। কাপড় কেটে হয়তো কোমড় বা পিঠে হাত দিতো, যৌ*নতার অনুভব নিতো।
অথচ উনার বউ বোরকা পড়ে বের হয়েছিল তবুও রেহাই হয়নি।
সেদিন এ ঘটনায় উনারও হেল্পারের সাথে কথা কাটাকাটি হয়েছিল, ধ্বস্তাধস্তি হয়েছিল কিন্তু কেউই উনার পক্ষে কথা বলেনি। উল্টো ড্রাইভার তাকে ব্লেইম দিয়ে বাস থেকে নামিয়ে দিয়েছিল।
বোরকার পড়ার পরও এভাবে হেনস্তা হওয়ায় উনার বউ পুরোটা রাস্তা সেদিন কাঁদতে কাঁদতে এসেছিল।
এই বড়ভাই ই পরে একদিন আমাদেরকে বলেছিলেন- উনি একটা গাড়ি কেনার মতো বড়লোক হতে চান। শুধুমাত্র নিজের পরিবারকে একটু সেইফটি আর নিরাপত্তা দেয়ার জন্যে বড়লোক হতে চান।
অথচ মেসে থাকতে উনি বলতেন- বড়লোক হতে চাই যাতে তিনবেলা মোরগ-পোলাও খেতে পারি।
সেই ঘটনার পর থেকে উনার ধারণা বদলেছিল, আমাদেরকেও পারলে বিয়ের আগে একটা গাড়ি কিনতে বলেছিল।
এদেশে সবার গাড়ি কেনার সামর্থ্য থাকে না, সব মেয়েদের হাজার টাকা খরচ করে ক্লাসে যাওয়ার সামর্থ্যও থাকে না। এজন্যে প্রতিবারই তাদেরকে বাসে লাঞ্ছিত হতে হয়, হেনস্তা পেতে হয়।
এখন পর্যন্ত শুধুমাত্র বাসের হেল্পার আর ড্রাইভারদের দ্বারা ১২০০ এর উপর মেয়ে ধ*র্ষিত হয়েছে। কেউ বিচার পেয়েছে কেউ পায়নি।
ধ*র্ষিত হলে নিউজ হয়, আলোড়ন হয় তাই খোঁজ পাওয়া যায় কিন্তু কোমড়ে বা পিঠে হাত বুলিয়ে দেয়ার মতো ঘটনাগুলো মেয়েরা কাউকে জানাতে পারে না বলে সেগুলো অগোচরেই থেকে যায়।
সেই অগোচরে থাকা সংখ্যাটা এতটাই বেশি যে এখন পর্যন্ত ৭৯% মেয়ে কোন না কোনভাবে বাসে হেনস্তার শিকার হয়েছে। মানে ২-৩ কোটি মেয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছে কিন্তু মুখ ফুটে বলতে পারেনি।
বললে অনেকেই হয়তো বলে- এত রিয়্যাক্ট করার কি আছে হাতই তো বুলিয়েছে ধ*র্ষণ তো আর করেনি!
অথচ এই হাত বুলিয়ে করাটাই তাদেরকে দিনের পর দিন কাঁদিয়েছে, ট্রমাটাইজড করে রেখেছে।
এখন এই স্পেশাল বাস সার্ভিস চালু হলে মেয়েরা হয়তো কিছুটা স্বস্তি পাবে, যাতায়াতে ভরসা পাবে।
কিন্তু যেসব মেয়েরা আগে হেনস্তা হয়েছে, বাবার বয়সী লোকের দ্বারা কোমড়ে-পিঠে ব্যাডটাচের শিকার হয়ে বাস থেকে নেমে যেতে হয়েছে সেসব অসহায় মেয়েদের ঘটনাগুলো হয়তো কেউ জানবে না, কেউ না
Ibrahim Khalil Shawon