03/09/2026
আদালতের স্থগিতাদেশের পরও ‘জনতার বাজার–১’ বন্ধ, ক্ষুব্ধ উদ্যোক্তা-ক্রেতারা
স্বল্পআয়ের মানুষের সাশ্রয়ী বাজার ও কৃষকের ন্যায্য দাম নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে প্রতিষ্ঠিত ‘জনতার বাজার–১’ এক বছরের মাথায় উচ্ছেদের মুখে পড়েছে। উদ্যোক্তাদের দাবি, বাজারটি নিয়ে আদালতের স্থগিতাদেশ থাকা সত্ত্বেও ঢাকা জেলা প্রশাসন বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টার দিকে উদ্যোক্তাদের অনুপস্থিতিতে বাজারের প্রধান ফটকে তালা লাগিয়ে দিয়েছে। এতে ক্ষুব্ধ হয়েছেন বাজারসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তা ও কর্মীরা। একই সঙ্গে কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে অভ্যস্ত স্থানীয় স্বল্পআয়ের মানুষের মধ্যেও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ।
২০২৫ সালে ঢাকা জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে রাজধানীর মোহাম্মদপুরে প্রতিষ্ঠিত হয় ‘জনতার বাজার–১’। বাজারটির উদ্যোক্তা হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন তরুণকে যথাযথ নিয়ম ও প্রক্রিয়া অনুসরণ করে দায়িত্ব দেওয়া হয়। শুরু থেকেই কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি পণ্য সংগ্রহ করে তুলনামূলক কম দামে ভোক্তাদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বাজারসংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, প্রতিষ্ঠার পর থেকে স্থানীয় নিম্ন ও মধ্যম আয়ের মানুষের মধ্যে বাজারটি বেশ জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কৃষকের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি মধ্যস্বত্বভোগীর দৌরাত্ম্য কমানোর লক্ষ্যেও কাজ করছিলেন উদ্যোক্তারা।
তবে প্রতিষ্ঠার এক বছরের মাথায় বাজারটির কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় জেলা প্রশাসন। উদ্যোক্তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ তুলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হয় বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় উদ্যোক্তারা আদালতের শরণাপন্ন হলে আদালত উদ্যোক্তাদের পক্ষে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত স্থগিতাদেশ দেন বলে উদ্যোক্তাদের দাবি। তাদের অভিযোগ, আদালতের ওই আদেশের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি।
উদ্যোক্তাদের অভিযোগ, বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে জেলা প্রশাসনের লোকজন এসে উদ্যোক্তাদের অনুপস্থিতিতে বাজারের প্রবেশপথে তালা লাগিয়ে দেন। ফলে বাজারের স্বাভাবিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়।
উদ্যোক্তাদের বক্তব্য
উদ্যোক্তা সানোয়ার বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাদের বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, সেগুলোর অনেকটাই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। বরং প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের অসহযোগিতা ও সমন্বয়হীনতার মধ্যেও তারা বাজারটিকে একটি সেবামূলক ও জনবান্ধব প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা করেছেন।
তাদের দাবি, বাজার পরিচালনার জন্য তারা অবকাঠামো উন্নয়ন, পণ্য সংগ্রহ, কর্মী নিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে নিজেদের অর্থ ও শ্রম বিনিয়োগ করেছেন। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করায় বাজার বন্ধ করে দিলে উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি কৃষক ও ভোক্তারাও ক্ষতিগ্রস্ত হবেন।
উদ্যোক্তা বোরহান উদ্দিন বলেন, ‘আমরা লাভের পাশাপাশি স্বল্পআয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী দামে পণ্য নিশ্চিত করার লক্ষ্যেই বাজারটি গড়ে তুলেছিলাম। প্রশাসনের সহযোগিতা প্রত্যাশা করেছিলাম। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে অসহযোগিতার মধ্যেও আমরা কার্যক্রম চালিয়ে গেছি।’
স্থানীয় ক্রেতাদের উদ্বেগ
বাজারে নিয়মিত কেনাকাটা করা স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, অন্যান্য বাজারের তুলনায় এখানে অনেক পণ্য তুলনামূলক কম দামে পাওয়া যেত। ফলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের অনেক পরিবার এই বাজারের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছিল।
বাজার বন্ধ হয়ে গেলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের জন্য তাদের অন্য বাজারে যেতে হবে এবং এতে অতিরিক্ত খরচ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
এর আগে বন্ধ হয়েছে ‘জনতার বাজার–২’
এদিকে প্রশাসনের অসহযোগিতা ও অব্যবস্থাপনার কারণে কামরাঙ্গীরচরে অবস্থিত ‘জনতার বাজার–২’ বন্ধ হয়ে যাওয়ার অভিযোগও রয়েছে। বাজারটি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর সরকারি অর্থে তৈরি অবকাঠামো বর্তমানে অযত্ন ও অব্যবহারে পড়ে আছে বলে বাজারসংশ্লিষ্টদের দাবি।
উদ্যোক্তাদের আশঙ্কা, একই পরিণতি ‘জনতার বাজার–১’-এর ক্ষেত্রেও হতে পারে। তাদের মতে, একটি সেবামূলক বাজারকে বন্ধ করে দেওয়ার পরিবর্তে অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সমন্বয়ের মাধ্যমে বাজারটি চালু রাখার উদ্যোগ নেওয়া উচিত।
স্থানীয় বাসিন্দাদেরও দাবি, স্বল্পআয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী বাজারের সুযোগ বন্ধ না করে প্রশাসন ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করা হোক।