27/10/2025
ভদ্রমহিলার সাথে তার স্বামীর বিবাহ হয়েছে মাত্র কয়েক দিন আগে, যা ছিল পরিবারের পছন্দ ও ঘটকের মাধ্যমে স্থির করা একটি আনুষ্ঠানিক বন্ধন। বিবাহের পর থেকেই স্বামীর আচরণে অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করা যায়। প্রথম পনেরো দিন স্বামী স্ত্রীর সাথে এক বিছানায় ঘুমালেও, তাদের মধ্যে স্বামী-স্ত্রীর স্বাভাবিক একান্ত সম্পর্ক স্থাপন করতে কোনো আগ্রহ দেখাননি। ভদ্রমহিলা inicialmente বিষয়টিকে স্বামীর মানসিক প্রস্তুতির সময় হিসেবে ধরে নিয়ে ধৈর্য ধারণ করেন।
বিয়ের পনেরো দিন অতিবাহিত হওয়ার পরও যখন স্বামীর মধ্যে কোনো পরিবর্তন দেখা গেল না, তখন ভদ্রমহিলা সরাসরি বিষয়টি জিজ্ঞেস করেন। উত্তরে স্বামী বলেন, "তুমি চাইলে হবে—এতদিন হয়তো তুমি চাওনি, তাই হয়নি। এখন আমরা দুজনেই যাচ্ছি।" স্বামীর এই আপাত-সম্মতিমূলক উত্তরে ভদ্রমহিলা মনে করেন, এবার হয়তো তাদের দাম্পত্য জীবন স্বাভাবিক হবে।
প্রথম রাতে অমানবিক নির্যাতন
কিন্তু তাদের একান্ত সম্পর্ক স্থাপনের প্রথম দিনেই ঘটে এক ভয়াবহ ও নৃশংস ঘটনা। স্বামী কোনো স্বাভাবিক আচরণ না করে অমানবিক নির্যাতনে লিপ্ত হন। তিনি ভদ্রমহিলাকে শারীরিক আঘাত করার জন্য একটি ছোট্ট লাঠি ব্যবহার করেন। শরীরের বিভিন্ন অংশ, বিশেষ করে পিঠ ও পিঠের নিচের সমস্ত জায়গায় নির্দয়ভাবে আঘাত করা হয়।
একই সঙ্গে স্বামী বিকৃত যৌন আচরণ করেন, যা ভদ্রমহিলাকে প্রচণ্ডভাবে আতঙ্কিত ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। নির্যাতনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে, তার শরীরে আঘাতের সুস্পষ্ট চিহ্ন দৃশ্যমান হয়। সেই দিনের পর ভদ্রমহিলা সারাদিন বিছানা থেকে উঠতে পারেননি এবং রুম থেকে বের হওয়ার মতো অবস্থায় ছিলেন না। এটি কেবল শারীরিক আঘাত ছিল না, এটি ছিল এক চরম মানসিক আঘাত ও মর্যাদাহানি।
দ্বিতীয় রাতের পুনরাবৃত্তি ও গুরুতর আঘাত
প্রথম রাতের ভয়াবহতা কাটতে না কাটতেই, পরের দিন রাতে স্বামী পুনরায় ফিরে এসে আবারও নির্যাতন চালান। এইবার তিনি আবারও ছোট্ট লাঠি দিয়ে মারেন এবং আরও জঘন্যভাবে যৌনাঙ্গে আঘাত করেন।
এই দ্বিতীয়বারের নির্যাতন ছিল প্রথম বারের চেয়েও অনেক বেশি গুরুতর ও ভয়ঙ্কর। যৌনাঙ্গে আঘাতের ফলে ভদ্রমহিলার প্রচণ্ড রক্তক্ষরণ শুরু হয় এবং এক পর্যায়ে তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তার জীবন সংকটাপন্ন হয়ে উঠলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
হাসপাতালে ভর্তির পরই ভুক্তভোগী নারীর পরিবার সম্পূর্ণ ঘটনাটি জানতে পারে। এই নৃশংসতা ও বিকৃত মানসিকতার শিকার হয়ে তাদের মেয়েটির এমন গুরুতর অবস্থা দেখে তারা অত্যন্ত ভয় ও ক্ষোভ পান এবং সঙ্গে সঙ্গে আইনি সহায়তা নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। এবং তার ছোট বোন বিষয়টি আমাদেরকে অবগত করে এবং আমাদের সাহায্য চায়, আমরা বিষয়টি নিয়ে কাজ করা শুরু করেছি
ভদ্রমহিলা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং তার শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল হওয়া মাত্রই পরিবার মামলা দায়েরের পরিকল্পনা করছে। ভুক্তভোগী নারী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, তার স্বামীকে এই অমানবিক ও বিকৃত আচরণের জন্য অবশ্যই আইনের আওতায় দায়িত্ব নিতে হবে।
এমন গুরুতর অপরাধ এবং শারীরিক আঘাত ও যৌন নিপীড়নের জন্য অপরাধীর যথাযথ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এই ঘটনা যেন সমাজে একটি সতর্কবার্তা স্থাপন করে যে, বিবাহের পবিত্র বন্ধন কখনোই নির্যাতনের লাইসেন্স হতে পারে না।