03/08/2026
ক্যান্সারের মতো মরণ'ব্যাধির কাছে হেরে যাওয়ার আগে, তিনি তার জীবনের শেষ দিনগুলোতে এই মর্মস্পর্শী কথাগুলো লিখে গিয়েছিলেন—
১. একসময় আমার গ্যারেজে পৃথিবীর সবচেয়ে দামী ব্র্যান্ডের গাড়িগুলো পার্ক করা থাকতো, অথচ আজ আমাকে একটা হুইলচেয়ারে চড়ে যাতায়াত করতে হচ্ছে।
২. আমার পুরো বাড়ি নামী-দামী ডিজাইনারদের তৈরি পোশাক, জুতো আর দামী জিনিসে ভরপুর ছিলো। কিন্তু আজ আমার শরীরটা ঢাকা পড়েছে হাসপাতালের দেওয়া সাধারণ একটা সাদা চাদরে।
৩. ব্যাংকে আমার প্রচুর টাকা জমা আছে সত্যি, কিন্তু এই মুহূর্তে সেই টাকা আমার কোনো কাজেই আসছে না।
৪. রাজপ্রাসাদের মতো বিশাল এক বিলাসবহুল বাড়ি ছিলো আমার, অথচ আজ আমার শেষ দিনগুলো কাটছে হাসপাতালের একটা সাধারণ ডাবল সাইজ বেডে শুয়ে।
৫. এক ফাইভ স্টার হোটেল থেকে অন্য ফাইভ স্টার হোটেলে ঘুরে বেড়ানোই ছিলো আমার জীবন, আর আজ আমার সময় কাটছে হাসপাতালের এক ল্যাব থেকে অন্য ল্যাবে পরীক্ষা করাতে করাতে।
৬. একসময় শত শত মানুষ আমার একটা অটোগ্রাফ বা স্বাক্ষরের জন্য অপেক্ষা করতো, আর আজ ডাক্তারের দেওয়া একটা মেডিকেল নোটই আমার পরিচয়।
৭. নিজের চুল সাজানোর জন্য আমার কাছে সাতটি অত্যন্ত দামী রত্নের জুয়েলারি ছিলো, অথচ আজ ক্যান্সারের থাবায় আমার মাথায় কোনো চুলই অবশিষ্ট নেই।
৮. নিজস্ব প্রাইভেট জেটে চড়ে যখন যেখানে খুশি উড়ে যেতে পারতাম, আর আজ হাসপাতালের বারান্দা পর্যন্ত একটু হাওয়া খেতে যাওয়ার জন্যও আমার দুজন মানুষের সাহায্য লাগে।
৯. চোখের সামনে রাজকীয় সব খাবারের আয়োজন থাকতো সবসময়, অথচ আজ আমার সারাদিনের খাদ্যতালিকা হলো মাত্র দুটি ট্যাবলেট আর রাতে কয়েক ফোঁটা স্যালাইন।
আসলে এই গাড়ি, বাড়ি, প্রাইভেট জেট, নামী-দামী আসবাবপত্র, বড় বড় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কিংবা আকাশচুম্বী খ্যাতি ও নাম—শেষ মুহূর্তে এর কোনো কিছুই মানুষের কোনো উপকারে আসে না। কোনো দামী সম্পদই ভেতরের কষ্ট আর য'ন্ত্রণা থেকে একটুও মুক্তি দিতে পারে না।
প্রকৃত জীবন হলো মানুষের পাশে থাকা এবং তাদের মুখে হাসি ফোটানো। কারণ, "মৃ'ত্যু ছাড়া এই পৃথিবীতে আর কোনো কিছুই চিরন্তন সত্য নয়।" জীবন সত্যিই বড্ড ছোট!
সংগৃহীত