04/07/2026
মধুতে ফেনা দেখলে অনেকে ভাবেন মধুটা হয়তো নকল। মূলত ৪টা কারণে আসল মধুতেও ফেনা হয়:
১. প্রাকৃতিক ফার্মেন্টেশন = গ্যাস এবং ফেনা:
কাঁচা মধুতে অল্প পানি ১৭-২০ % আর প্রাকৃতিক ইস্ট থাকে। মধুর পাত্রে পানি ঢুকলে বা আর্দ্রতা বেশি হলে ইস্ট মধুর সুগার খেয়ে CO2 গ্যাস বানায়।
গ্যাস উপরে উঠতে উঠতে মধুর প্রোটিন এবং মোমের কণার সাথে মিশে ফেনার মতো হয়ে যায়। বোতল খুললে "ফস" শব্দ হয়। এটা খাঁটি মধুর লক্ষণ। সুন্দরবনের মধুতে এটা বেশি হয় কারণ ওটাতে পানির পরিমাণ বেশি থাকে।
২. চাক কাটার সময় মোম-পোলেন মিশে যাওয়া:
মৌয়ালরা যখন চাক নিংড়ায়, তখন মোম, মৌমাছির ডানা, পোলেনও চলে আসে। এই হালকা জিনিসগুলো মধুর উপরে ভেসে ফেনার লেয়ার তৈরি করে। মধু ছাঁকলে তা কমে যায়।
৩. মধুর পাত্রে ঝাঁকি লাগলে :
মধু ঘন আঠালো পদার্থ। মধুর পাত্র ঝাঁকালে এর ভেতরে থাকা বাতাসের বুদবুদ আটকে যায়। দেখতে সাবানের ফেনার মতো লাগে। ২-৩ দিন স্থির রাখলে ফেনা নিজে নিজে বসে যায়। নকল চিনির সিরাপে ফেনা বসে না।
৪. মধুর টাইপের উপর নির্ভর করে ফেনা বেশি হয়:
সরিষা, ধনিয়া, সুন্দরবনের খলিশা ফুলের মধুতে গ্লুকোজ এবং পানি বেশি থাকে। অপর দিকে ফেনা কম হয়: লিচু, কালোজিরা, বরই ফুলের মধুতে। এগুলোতে ফ্রুক্টোজ বেশি থাকে।
ফেনা দেখে আসল-নকল মধু চেনার উপায়:
আসল মধুর ফেনা:
সাদা/হালকা ক্রিম কালার।
২-৩ দিনে নিজে থেকেই বসে যায়।
গন্ধ: ফুল+টকটক হালকা ফার্মেন্ট।
স্বাদ : গলায় একটু চুলকানি মতো অনুভূতি হয়।
নকল/ভেজাল মধুর ফেনা:
হলুদ/বাদামি, চিনির মতো।
বসে গেলেও আবার ঝাঁকালে ফেনা হয়।
গন্ধ: চিনির ক্যারামেল/পোড়া চিনির গন্ধ।
স্বাদ : শুধু মিষ্টি, গলায় ধরে না।
ফেনা কমানোর উপায়:
১. এয়ারটাইট জারে রাখুন : পানি ঢুকতে দিবেন না। ভেজা চামচ মধুর পাত্রে দিবেন না না।
২. ঠান্ডা জায়গায় রাখুন : ২০-২৫ °C।গরমে ফার্মেন্টেশন বাড়ে।
৩. ছেকে নিন: পাতলা কাপড়ে ছেঁকে কাচের বোতলে রাখলে মোম-পোলেনের ফেনা কম হবে।
৪. হালকা গরম: ৬০°C এর ওয়াটার বাথে ৩০ মিনিট রাখলে ইস্ট মরে যায়, ফার্মেন্টেশন বন্ধ হয়। তবে কাঁচা মধুর গুণ ১০-১৫ % কমে যায়।
মনে রাখতে হবে, মধুতে ফেনা মানেই খারাপ নয়। বরং একদম ফেনা নাই, পানির মতো পাতলা মধু সন্দেহজনক। চিনির সিরাপে ফেনা হয় না।
লিখা-আল আশরাফ খান
ছবি-সুন্দরবনের প্রাকৃতিক চাঁকের মধু