21/01/2026
আমরা যখন আমাদের ঘরের একটি মেয়ে বা ছেলের বিয়ে দিই, তখন কী করি?
আমরা শুধু আবেগে সিদ্ধান্ত নেই না।
আমরা দেখি—ছেলেটি বা মেয়েটি যোগ্য কিনা, সৎ কিনা, দায়িত্বশীল কিনা।
দেখি—সে সংসার চালাতে পারবে কিনা, ভরণপোষণ দিতে পারবে কিনা, ভবিষ্যতে একজন মানুষের জীবনকে নিরাপদ রাখতে পারবে কিনা।
কারণ, একটি ভুল সিদ্ধান্ত মানে একটি জীবন ধ্বংস।
কিন্তু আমি আজ একটি প্রশ্ন রাখতে চাই—
যখন একটি মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ে আমরা এত ভাবি,
তখন একটি দেশের ভবিষ্যৎ, কোটি কোটি মানুষের জীবন, সমাজ ও রাষ্ট্রের ভারসাম্য নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে আমরা কেন এতটা উদাসীন হয়ে পড়ি?
নির্বাচন এলে আমরা দেখি—কে বেশি শ্লোগান দিতে পারে,
কে বেশি টাকা খরচ করতে পারে,
কে বেশি ভয় দেখাতে পারে।
কিন্তু আমরা খুব কমই দেখি—
এই প্রার্থী কি যোগ্য?
এই প্রার্থী কি সৎ?
এই প্রার্থী কি সকল মানুষের, সকল ধর্মের, সকল শ্রেণির ভারসাম্য রক্ষা করতে পারবে?
এই প্রার্থী কি ক্ষমতাকে সেবা হিসেবে দেখবে, নাকি লুটের সুযোগ হিসেবে?
একজন অযোগ্য জীবনসঙ্গী একটি পরিবার ধ্বংস করে,
আর একজন অযোগ্য জনপ্রতিনিধি একটি পুরো দেশকে পিছিয়ে দেয়।
রাষ্ট্র চালানো কোনো খেলনা নয়,
এটি কোনো ব্যক্তিগত ব্যবসাও নয়।
রাষ্ট্র চালাতে লাগে দূরদৃষ্টি, নৈতিকতা, দক্ষতা ও মানুষের প্রতি দায়বদ্ধতা।
আজ আমাদের দরকার এমন নেতৃত্ব—
যারা সরল, কিন্তু দুর্বল নয়;
সৎ, কিন্তু নির্বোধ নয়;
ক্ষমতাবান, কিন্তু অহংকারী নয়।
আমি আপনাদের কাছে আবেদন জানাই—
ভোট দেওয়ার আগে ভাবুন,
এই প্রার্থী কি আমার সন্তানের ভবিষ্যৎ রক্ষা করতে পারবে?
এই প্রার্থী কি সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করতে পারবে?
এই প্রার্থী কি দেশকে বিভক্ত করবে, না একত্র করবে?
যেভাবে আমরা একটি বিয়ের সিদ্ধান্তে জীবনের কথা ভাবি,
ঠিক সেভাবেই একটি ভোটের সিদ্ধান্তেও দেশের কথা ভাবতে হবে।
কারণ একটি সঠিক ভোট—
একটি প্রজন্মকে বাঁচাতে পারে,
আর একটি ভুল ভোট—
একটি জাতিকে অন্ধকারে ঠেলে দিতে পারে।
ধন্যবাদ।
জয় হোক বিবেকের, জয় হোক যোগ্যতার, জয় হোক জনগণের।