22/07/2026
মানসিক নির্যাতনেরও কি কোনো বিচার হবে না?
সব ক্ষত চোখে দেখা যায় না।
কিছু ক্ষত থাকে, যা শরীরে নয়, মনে তৈরি হয়। দিনের পর দিন অবহেলা, অপমান, তুচ্ছতাচ্ছিল্য, অসম্মান, নীরব শাস্তি, ভয় আর ভালোবাসাহীন সম্পর্ক একজন মানুষকে ধীরে ধীরে ভেতর থেকে ভেঙে দেয়।
অনেক নারী সংসারে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। সেই নির্যাতনের দাগ দেখা যায়, প্রমাণ থাকে, বিচারও হয়। কিন্তু যে নারী প্রতিদিন কথার আঘাতে ভেঙে পড়েন, যার আত্মসম্মান প্রতিনিয়ত ক্ষতবিক্ষত হয়, যার কান্না কেউ দেখে না, যার নীরবতা কেউ বোঝে না, তার কষ্টের বিচার কোথায়?
মানসিক নির্যাতন শব্দহীন। তাই হয়তো সমাজ সেটাকে গুরুত্ব দেয় না। অথচ এই নীরব নির্যাতন একজন মানুষের আত্মবিশ্বাস কেড়ে নিতে পারে, তাকে একা করে দিতে পারে, এমনকি জীবনের প্রতি তার আশা পর্যন্ত নিভিয়ে দিতে পারে।
অনেকেই তখন বলে, "সে এত দুর্বল কেন?" কিন্তু প্রশ্নটা অন্যরকম হওয়া উচিত। একজন মানুষকে এমন অবস্থায় পৌঁছে দেওয়া হলো কেন, যেখানে সে আর নিজের কষ্টের ভার বইতে পারছে না?
যে নারী কখনও বলে, "আমি আর পারছি না", তিনি হয়তো মৃত্যুকে ডাকছেন না। তিনি চাইছেন তার অসহনীয় যন্ত্রণা থেমে যাক। তিনি চাইছেন কেউ তার কথা শুনুক, তাকে বিশ্বাস করুক, তার কষ্টকে বাস্তব বলে স্বীকার করুক।
সমাজ হিসেবে আমাদের শেখা দরকার, মানসিক নির্যাতনও নির্যাতন। এটি অদৃশ্য বলে এর প্রভাব কম নয়। বরং অনেক সময় এই ক্ষত শরীরের ক্ষতের চেয়েও গভীর হয়।
প্রতিটি সম্পর্কের ভিত্তি হওয়া উচিত সম্মান, সহমর্মিতা এবং নিরাপত্তা। যে সম্পর্কে একজন মানুষ প্রতিদিন নিজেকে হারিয়ে ফেলেন, সেখানে শুধু নীরব থেকে যাওয়া নয়, সাহায্য চাওয়াও সাহসের কাজ।
হয়তো সময় এসেছে আমরা শুধু শরীরের ক্ষত নয়, মানুষের মনের ক্ষতও দেখতে শিখি। কারণ অনেক মানুষ বেঁচে থাকে, অথচ প্রতিদিন একটু একটু করে ভেঙে যায়।