01/05/2022
https://www.facebook.com/267049871838621/posts/424390006104606/
কিভাবে বাচ্চাদের মারধর করা বন্ধ করবেন??
ইদানিং প্রাকটিসে খুব কমন একটা ব্যাপার শুনি, মায়েরা অল্পতেই বিরক্ত হয়ে বাচ্চাদের মারধর করেন। কোন কোন মা মনে করেন, মারধরই বাচ্চাকে মানুষ করার একমাত্র মাধ্যম। কোন কোন মা বিরক্ত হয়ে মারতে মারতে একসময় বাচ্চাটি ঘুমিয়ে পড়লে বাচ্চার মারের দাগ দেখে মায়ের মন অস্থির হয়ে যায়, সারারাত ঘুমাতে পারেন না, যন্ত্রণায় মায়ের মন ছট ফট করতে থাকে, কেউ কেউ আবার নিজেকেও আঘাত করেন। অনেক মায়েরা বাচ্চাদের মারতে না চাইলেও নিজেকে থামাতে পারছেন না। আর কোন সমাস্যা না থাকলেও শুধু এই কারণেই অনেক দম্পতির মধ্যে দাম্পত্য কলহ লেগেই থাকে।
কি করা যায়ঃ শুধু মাত্র নিচের কৌশলগুলি অনুসরণ করে বাচ্চাদের মারধর করা কমাতে পারেন। যদিও আরো অনেক কৌশল আছে।
১) মারধর করা অপরাধঃ বাচ্চাদের মারধর করা কখনোই ভালো না। বর্তমানের শিশু আইন অনুযায়ী এটা অপরাধ। মারধর করলে বাচ্চার দীর্ঘমেয়াদি মানসিক ক্ষতি হতে পারে। এটি অপরাধ হিসেবে দেখলে এই আচরণ করার প্রবনতা কমে যাবে। অপরাধ মনে হলে আপনার মধ্যে এই আচরণ অনেক কমে যাবে ।
২) রাগের উৎস খুঁজে বের করুনঃ আপনি কোন কারণে আপনার আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না, তাই রেগে যাচ্ছেন আর আপনার সন্তানের উপর রাগের বহিঃপ্রকাশ করছেন। এই রাগের উৎস হতে পারে কোন মানসিক চাপ, দাম্পত্য সমস্যা, অশান্তি অথবা ব্যক্তিগত ক্ষোভ। এগুলো খুঁজে বের করে সমাধান করতে পারলে রাগ কমে যাবে।
৩) রাগ হলে ঘোষণা দিনঃ খুব বেশি রাগ হলে ঘোষণা করুন, আপনার রাগ হচ্ছে। বাচ্চারা অভ্যস্ত হয়ে গেলে সরে যাবে এবং আপনাকে বুঝতে পারবে।
৪) রাগ নিয়ন্ত্রণের কৌশল ব্যবহার করুনঃ রাগ হলে কিছুক্ষণ সরে থাকুন, রাগের আচরণগুলো করা থেকে বিরত থাকুন, রাগের চিন্তাগুলো এনালাইসিস করুন এবং রাগ থেমে গেলে রাগের বিষয়গুলো শেয়ার করুন। এভাবে রাগ নিয়ন্ত্রণের অভ্যাস হলে রাগ কমে যাবে।
৫) মেডিটেশন অনুশীলন করুনঃ নিয়মিত মেডিটেশন প্রাকটিস করতে পারলে মানসিকভাবে ভালো থাকা যায়। মাইন্ডফুলনেন্স বর্তমানে মেডিটেশন হিসেবে ভালো কাজ করে। অনলাইন থেকে মাইন্ডফুলনেন্স শিখে নিয়ে প্রতিদিন দুবার ১৫ মিনিট করে প্রাকটিস করতে পারেন।
৬) প্রফেশনাল সহায়তাঃ বাচ্চাকে মারধর করলে বাচ্চার বিকাশের উপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে, তাই যত দ্রুত এই সমস্যা থেকে বের হতে পারেন ততই ভালো। এসব প্রাকটিস করে রাগ নিয়ন্ত্রণে আনতে না পারলে দ্রুত প্রফেশনাল সাইকোলজিষ্ট বা মনোরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন।
©️
জিয়ানুর কবির
ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিষ্ট।