27/04/2021
হাজার বছর আগে থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন জায়গায় ক্যাপসিকাম বা মিষ্টি মরিচ চাষ করা হচ্ছে। বর্তমানে আমাদের দেশে এটি বেশ জনপ্রিয় একটি খাদ্য উপাদানে পরিণত হয়েছে।
সালাদ থেকে শুরু করে নুডলস, স্যুপ, পাকোড়া, চিকেন ফ্রাই তরকারির বিভিন্ন পদে ব্যবহৃত হচ্ছে লাল, হলুদ, সবুজ ক্যাপসিকাম। এটি বেল পেপার নামেও পরিচিত। গুণাগুণ না জেনেই হয়তো বিভিন্নভাবে খাচ্ছেন এ সবজি। কিন্তু এর রয়েছে দারুণ স্বাস্থ্য উপকারিতা। খাদ্যতালিকায় রাখার আগে জেনে নিন কেন খাবেন ক্যাপসিকাম?
**ক্যাপসিকামে রয়েছে প্রোটিন, কার্বোহাইড্রেট, ভিটামিন-সি, ভিটামিন-এ, ভিটামিন-ই, ভিটামিন-কে, ভিটামিন-বি৬, ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাশিয়াম, ফসফরাস,থায়ামিন, লেবোফ্লেবিস, জিংক, কপার, ম্যাঙ্গানিজ , ফলিক এসিড ও ফ্লোরাইড সামান্য পরিমাণে পাওয়া যায়।
***খাদ্য ও পুষ্টিবিদদের মতে ক্যাপসিকাম হাজার গুনে ভরপুর একটি সবজী।
• চামড়া পরিষ্কার রাখতে ক্যাপসিকাম বেশ উপকারী, এটি চামড়ার র্যাশ হওয়া ও ব্রণ প্রতিরোধ করে।
• এর ক্যাপসাইসিনস নামক উপাদান ডিএনএর সঙ্গে যুক্ত হয়ে ক্যানসার সৃষ্টিকারী উপাদানের সংযুক্ত হওয়াতে বাধা দেয়। এভাবে এটি ক্যানসার প্রতিরোধে কাজ করে।
• ক্যাপসিকাম যেকোনো ব্যথা থেকে মুক্তি দেয়। মাইগ্রেন, সাইনাস, ইনফেকশন, দাঁতে ব্যথা, অস্টিওআর্থ্রাইটিস ইত্যাদি ব্যথা দূর করতে কাজ করে।
• ক্যাপসিকাম দেহের বাড়তি ক্যালরি পূরণে কাজ করে। ফলে উচ্চ চর্বি থেকে যে ওজন বৃদ্ধি পায়, তা হ্রাস করে।
• সি সিকনেস (সমুদ্রে যাওয়ার কারণে তৈরি অসুস্থতা), ম্যালেরিয়া, জ্বর ইত্যাদি রোধে ক্যাপসিকাম বেশ কার্যকর।
• এতে অ্যালকালোয়েড, ফ্লেবোনয়েড, ক্যানিন ইত্যাদি পাওয়া যায়। অ্যালকালোয়েড অ্যান্টি-ইনফ্লামেটোরি ও অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। ক্যানিন আন্ত্রিক রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
• এর ভিটামিন-সি মস্তিষ্কের টিস্যুকে পুনরুজ্জীবিত করে; দেহের হাড়কে সুগঠিত করে। এটি বার্ধক্যজনিত অন্ধত্ব প্রতিরোধ করে।
• লাইকোপিন প্রোস্টেট ক্যানসার, সার্ভিক্যাল ক্যানসার ও ওভারিয়ান ক্যানসার প্রতিরোধে কাজ করে।
**রান্নার নিয়ম
এতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি রয়েছে। তবে অতিরিক্ত তাপমাত্রায় ক্যাপসিকাম রান্না করলে এই উপাদান অনেকটাই নষ্ট হয়ে যায়। বরং কাঁচা অবস্থায় সালাদে খেলেই এর পুষ্টিগুণ পুরোপুরি পাওয়া যায়। স্টার-ফ্রাই মেথডে এটি রান্না করে খেতে পারেন। উচ্চ তাপমাত্রায় বেশিক্ষণ রান্না না করাই ভালো।