30/10/2025
আসেন বর্তমান সময়ের একটা বিষয় নিয়ে কথা বলি। বাংলাদেশ পুলিশের কাজ আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা করা কিন্তু গত সরকারের পতনের পর এক বছর ধরে পুলিশ বাহিনী নিজেরাই একটা টালমাটাল বিশৃঙ্খলার মধ্যে রয়েছে। আপনাদের মনে প্রশ্ন জাগে না, এত বড় পুলিশ বাহিনী তবে কেন? এই এলোমেলো অবস্থা ।
চলেন এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজু আসি । একটু ফ্লাশ ব্যাক করি বাংলার ইতিহাসের অন্যতম স্মরণীয় দিন ১৭৫৭ সালের ২৩ জুন। এই দিনে ইংরেজদের কাছে পলাশীর অম্র কারনে ভাগীরথী নদীর তীরে শেষ স্বাধীন নবাব সিরাজউদ্দৌলার পতনের মধ্য দিয়ে , বাংলার স্বাধীনতা প্রায় ২০০ বছর অস্তমিত ছিল।
আমি যদি আপনাকে জিজ্ঞাসা করি এই পরাজয়ের কারণ কি আপনি এক কথায় বলবেন মীর জাফরের বিশ্বাসঘাতকতা। আপনার উত্তর মেনে নিলাম ঠিক। তবে শুধু কি বিশ্বাসঘাতকতা? আপনি বলবেন নবাবের অদূরদর্শিতার অভাব, যোগ্যতার অভাব, সঠিক সময় সিদ্ধান্ত নিতে না,পারা। আচ্ছা আমি নিলাম সব ঠিক।
তবে যে একটা কিন্তু রয়েই যায়, সেটা হচ্ছে সেনাপতি লর্ড ক্লাইভের হাতে সৈন্য ছিল মাত্র তিন হাজার। আর নবাবের হাতে সৈন্য সংখ্যা ছিল 50,000। ইংরেজ বাহিনী থেকে থেকে প্রায় ১৭ গুণ বড় সেনাবাহিনী । তবে কেন এই পরাজয়? আপনি বলবেন মিরজাফর ছিল প্রধান সেনাপতি তিনি যুদ্ধের সময় নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে , আচ্ছা বুঝলাম তবে আপনাকে একটা তথ্য দেই, ৫০ হাজার সৈন্যের মধ্যে ৩৫ হাজার সৈন্য ছিল মীরজাফরের অধীনস্ত, আর বাকি ১৫০০০ ছিল সরাসরি নবাব সিরাজউদ্দৌলার অধীনস্ত , সব মিলিয়ে টোটাল পঞ্চাশ হাজার। এই যে ১৫ হাজার সৈন্য এরা তো প্রাণপণে বাংলার স্বাধীনতা রক্ষার জন্য যুদ্ধ করে গিয়েছে, সেই হিসাব করলেও ১৫ হাজার সৈন্য , ইংরেজ সৈন্যদের পাঁচ গুণ বড় । পাঁচ গুণ বড় হওয়ার পরও কেন এত বড় পরাজয় । এই যে পনের হাজারো সুন্দর কথা আমরা বলছি এই সেনাবাহিনী দলের দায়িত্বে ছিলেন , সেনাপতি মীর মদন ও সেনাপতি মানিক চাঁদ । তারা প্রাণপণে যুদ্ধ করে দেশের জন্য যুদ্ধ করতে করতে একটা সময় দুইজনেই কিসের জন্য প্রাণ হারান। যেহেতু তারা এই ১৫ হাজার সেনাবাহিনীর দায়িত্বে ছিলেন , এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব, নির্দেশ দেয়ার দায়িত্ব, যুদ্ধ পরিচালনার যা দায়িত্ব, যুদ্ধনীতি সবকিছুই দুজনের সামাল দিচ্ছিলেন। তারা শহীদ হওয়ার ফলে এই বিশাল সেনাবাহিনীর পরিচালনা করার জন্য বা নির্দেশ দেওয়ার জন্য লোকবল সংকট পড়ে তাদের মৃত্যুতে এই বিশাল সেনাবাহিনী বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে , ফলে যুদ্ধক্ষেত্রে এই বিশৃঙ্খল সেনাবাহিনী নির্দেশ দাতার ফলে অভাব দেখা যায় । ফলশ্রুতিতে সেনাবাহিনীর সদস্যরা আতঙ্কিত গ্রস্থ হয়ে পড়ে এবং এদিক-ওদিক ছোটাছুটি করে এবং ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় । এবং একটা সময় বাংলার স্বাধীনতার রক্তিম সূর্য অস্তমিত হয়।
আপনি যদি বর্তমান সময়েও একটা জিনিস লক্ষ্য করেন দেখতে পাবেন, গত সরকারের বিদায়ের পর , বিশেষ করে পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ বিভিন্ন মামলায় জর্জরিত হওয়ার ফলে , দেশ ত্যাগ করেছেন হয়তো বা আত্মগোপন করেছেন , ফলশ্রুতিতে পুলিশ বাহিনীতে কামারডিং অফিসার বা নির্দেশদতার অভাব দেখা দিয়েছে , নির্দেশদাতার অভাবের ফলেই পুলিশ বাহিনীর আজ এই বিশৃঙ্খল অবস্থা।
আর আপনাদের একটা বিষয়, জানিয়ে রাখি এইসব শৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখে বিশেষ করে ইতিহাসের ছাত্ররা কখনোই বিচলিত হয় না, এর অন্যতম কারণ হচ্ছে এইরকম অনেক কাছাকাছি ঘটনা বা একই পরিস্থিতির বিভিন্ন ঘটনার সাথে ইতিহাসের ছাত্ররা প্রতিনিয়ত পরিচিত হয় এবং অতীত ঘটনাও যানে ।
ফলশ্রুতিতে আমাদের করণীয়, উক্ত পরিস্থিতি বিচার বিবেচনা করে, দেশ মাতৃকার উন্নয়নে একটি গঠনমূলক ব্যক্তিত্বের অধিকারী হয়ে ওঠা যাতে যে কোন পরিস্থিতিতে , নিজের ব্যক্তিত্ব সকলের উঁচু স্তরে থাকে।
পুজয় সাহা
ইতিহাস বিভাগ (সেশন: ২০২১- ২০২২ )
সরকারি রাজেন্দ্র কলেজ, ফরিদপুর।