18/05/2026
আসসালামু আলাইকুম।🌾🥔
জীবিকার তাগিদে আমরা দুই ভাই শহরে গিয়েছি। আর গ্রামে আমাদের মা-বাবা একা একাই আমাদের জমিজমা সামলাতেন, আলু, ভুট্রা ও ধানসহ বিভিন্ন চাষাবাদ করতেন। কিন্তু দিন দিন মা-বাবার বয়স বাড়ছে, একা এত কষ্ট আর তাদের শরীর বর্তমানে কুলাচ্ছে না। শহর থেকে যখন মা-বাবার এই কষ্টের কথা ভাবতাম, মনটা ভীষণ ছটফট করতো। আমার মত হাজার হাজার তরুণ মা- বাবাকে গ্রামে রেখে শহরে জীবনযাপন করছে, ছেলে হিসেবে আমাদের কি উচিৎ নয় বৃদ্ধ বয়সের পিতা-মাতার সাথে থাকা? সকলের চিন্তা করা উচিৎ কিভাবে সমাধান করা যায়।
শেষমেষ আমরা দুই ভাই একটা বড় সিদ্ধান্ত নিলাম। শহর, চাকুরির খাঁচা আর যান্ত্রিক জীবন ছেড়ে আমরা পাকাপাকিভাবে গ্রামের বাড়িতে ফিরে যাচ্ছি। মা-বাবার পাশে দাঁড়িয়ে তাদের হাতটাকে শক্ত করে ধরাই এখন আমাদের প্রধান লক্ষ্য।
আমরা এখন সরাসরি মাঠে নেমে মা-বাবার সাথে ধান আর আলুসহ বিভিন্ন আবাদের কাজে হাত দেবো। নিজেদের জমিতে যেমন কষ্ট করবো, তেমনি আশেপাশের গ্রামের সাধারণ কৃষকদের পাশেও দাঁড়াবো চেষ্টা করবো ইনশাল্লাহ।
শহর ছাড়ার সময় একটা জিনিস উপলব্ধি করেছি—শহরের মানুষ চড়া দাম দিয়েও প্রতিদিন যে চাল, ডাল আর আলু কেনে, তার বেশির ভাগই কেমিক্যালে ভরা বা অতিরিক্ত পালিশ করা। অথচ আমাদের গ্রামের মাঠে মা-বাবার ঘামে উৎপাদিত ফসল একদম খাঁটি আর পুষ্টিকর।
তাই আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি, আমাদের নিজেদের মাঠের এবং গ্রামের কৃষকদের কষ্টার্জিত এই খাঁটি চাল, ডাল ও ফ্রেশ আলু সরাসরি শহরের মানুষের কাছে পৌঁছে দেবো। কোনো বড় কর্পোরেট ব্র্যান্ড বা চাকচিক্য নয়, একদম সাধারণ ও জেনেরিক উপায়ে সততার সাথে আমরা এই কাজটা করতে চাই।
ব্যবসা পরের কথা, আপাতত আমরা মা-বাবার মুখে হাসি ফোটাতে এবং মাটির টানে বাড়ি ফিরছি। আমাদের এই নতুন জীবনের সিদ্ধান্তের জন্য আপনাদের সবার কাছে দোয়া ও ভালোবাসা চাই।
আমাদের গ্রামের বাড়ির প্রতিদিনের মাঠের কাজ, ধান, ভুট্রা ও আলুসহ বিভিন্ন চাষের আপডেট দেখতে পেজটির সাথেই থাকুন।
— গ্রামের বাড়ি (মা-বাবার পাশে, মাটির টানে)