Sakina Life

Sakina Life কুরআন ও সুন্নাহ ভিত্তিক রুকইয়া চিকিৎসা কেন্দ্র।
শিরক ও তাবিজ মুক্ত রুকইয়া ও হিজামাহ চিকিৎসা।

ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা রইলো
27/05/2026

ঈদুল আজহার শুভেচ্ছা রইলো

কুরবানির দিনে জিন-জাদু ও বদনজরের রোগীর করণীয় — একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইনঈদুল আদহা বা কুরবানির দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য ত...
27/05/2026

কুরবানির দিনে জিন-জাদু ও বদনজরের রোগীর করণীয় — একটি পূর্ণাঙ্গ গাইডলাইন

ঈদুল আদহা বা কুরবানির দিনটি মুসলিম উম্মাহর জন্য ত্যাগের মহিমা, আল্লাহর নৈকট্য অর্জন এবং অনাবিল আনন্দের এক মহান উৎসব। তবে এই পবিত্র উৎসবের আনন্দময় মুহূর্তগুলোর পাশাপাশি, জিন-জাদু বা বদনজরে আক্রান্ত একজন রোগীর জন্য এই দিনের রয়েছে এক গভীর আধ্যাত্মিক তাৎপর্য ও অদেখা লড়াই, যা নিয়ে আমাদের সমাজে সাধারণত আলোচনা হয় না।

কুরবানির ইতিহাসটি একটু গভীরভাবে লক্ষ্য করুন। এর মূলে রয়েছে সাইয়্যিদুনা ইবরাহীম আলাইহিস সালামের ত্যাগের সেই ঐতিহাসিক ও ঈমানদীপ্ত ঘটনা। মহান আল্লাহ তাঁকে তাঁর জীবনের সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষাটি দিলেন— নিজের হাতে তাঁর প্রিয়তম সন্তান ইসমাঈল আলাইহিস সালামকে কুরবানি দিতে বললেন। আল্লাহর হুকুম পালনের জন্য ইবরাহীম আলাইহিস সালাম যখন প্রস্তুত হলেন, তখন শয়তান তাঁকে বারবার প্ররোচনা দিয়ে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করল। কিন্তু তিনি শয়তানের কোনো ধোঁকায় পা না দিয়ে তাকে পাথর মেরে তাড়িয়ে দিলেন। হজের সময় হাজিরা মিনায় জামারাতে যে পাথর নিক্ষেপ করেন, তা মূলত শয়তানকে প্রত্যাখ্যান করার ওই ঐতিহাসিক ঘটনারই স্মৃতি।

পবিত্র কুরআনে আল্লাহ তাআলা এই ঘটনার চিত্রায়ন করে বলেন:

فَلَمَّا أَسْلَمَا وَتَلَّهُ لِلْجَبِينِ ۝ وَنَادَيْنَاهُ أَن يَا إِبْرَاهِيمُ ۝ قَدْ صَدَّقْتَ الرُّؤْيَا ۚ إِنَّا كَذَٰلِكَ نَجْزِي الْمُحْسِنِينَ

"যখন তারা উভয়ে আত্মসমর্পণ করল এবং সে তাকে কাত করে শুইয়ে দিল, তখন আমি তাকে ডেকে বললাম — হে ইবরাহীম! তুমি তো স্বপ্নকে সত্যে পরিণত করেছ। আমি এভাবেই সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করি।" (সূরা আস-সাফফাত: ১০৩-১০৫)

রুকইয়াহ বা আধ্যাত্মিক চিকিৎসার দৃষ্টিকোণ থেকে এই আয়াতটি এবং কুরবানির পুরো প্রক্রিয়াটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। কুরবানি শুধু পশু জবাইয়ের নাম নয়; এটি মূলত শয়তানের বিরুদ্ধে মুমিনের তাওহিদের এক চূড়ান্ত ঘোষণা। আপনি যখন আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুরবানি দেন, তখন আপনি কেবল একটি পশুর রক্তই প্রবাহিত করেন না; বরং ইবরাহীম আলাইহিস সালামের মতো আল্লাহর সামনে নিজের পূর্ণ আত্মসমর্পণের প্রমাণ দেন এবং শয়তানকে চূড়ান্তভাবে প্রত্যাখ্যান করেন। আর মনে রাখবেন, আল্লাহর প্রতি এই একনিষ্ঠ আত্মসমর্পণই হলো জিন ও জাদুর বিরুদ্ধে একজন মুমিনের সবচেয়ে শক্তিশালী ঢাল।

তবে বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, এই কুরবানির মৌসুম আসলেই অনেক রোগীর শারীরিক, মানসিক বা আধ্যাত্মিক সমস্যাগুলো হঠাৎ করে তীব্র আকার ধারণ করে। অনেকের ক্ষেত্রে পুরোনো রোগগুলো নতুন করে জেগে ওঠে, মাথা ঘোরা, বমি বমি ভাব, কাঁপুনি বা প্রচণ্ড অস্থিরতা শুরু হয়। এমনকি কেউ কেউ এই দিনে জ্ঞানও হারিয়ে ফেলেন। এর পেছনে মূলত দুটি বড় ও শক্তিশালী কারণ রয়েছে।

প্রথম কারণটি হলো রক্তের সাথে জিনের নিবিড় সম্পর্ক। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হাদিসে বলেছেন:

إِنَّ الشَّيْطَانَ يَجْرِي مِنَ الإِنْسَانِ مَجْرَى الدَّمِ

"নিশ্চয়ই শয়তান মানুষের শরীরে রক্তের শিরা-উপশিরায় চলাচল করে।" (সহীহ বুখারী: ২০৩৮)

এই হাদিসের ব্যাখ্যায় আলেমগণ বলেন, শয়তান ও জিন মানুষের শরীরে রক্তপ্রবাহের মাধ্যমেই তাদের প্রভাব বিস্তার করে। কুরবানির দিনে যেহেতু চারদিকে বড় পরিমাণে রক্ত প্রবাহিত হয়, তাই এটি সরাসরি জিনের কার্যকলাপকে উদ্দীপ্ত ও প্রভাবিত করে। রক্তের এই আধিক্য রোগীর শরীরে থাকা জিনের মধ্যে এক ধরনের অস্থিরতা তৈরি করে।

তবে এর চেয়েও ভয়ংকর এবং মূল কারণটি হলো জাদুকরদের কুফরি কাজ। জাদুকর বা কবিরাজরা তাদের জাদুকে শক্তিশালী করার জন্য শয়তানের নামে পশু বা পাখি উৎসর্গ করে থাকে। ঈদের দিন আমরা যখন একমাত্র আল্লাহ তা'আলার সন্তুষ্টির জন্য পশু জবাই করি, তখন এই নিখাদ তাওহিদের ইবাদতের কারণে শয়তানের নামে করা জাদুগুলো মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত হয় এবং প্রতিক্রিয়া (React) দেখাতে শুরু করে। আল্লাহর নামে প্রবাহিত রক্তের তাওহিদী শক্তির কারণে জাদুর গিটগুলো দুর্বল হতে থাকে, আর ঠিক তখনই রোগীর শরীরে তীব্র প্রতিক্রিয়া, ব্যথা বা খিঁচুনি দেখা দেয়।

তাই এই দিনে কোনো সমস্যা দেখা দিলে মোটেও ভয় পাবেন না। সমস্যা কুরবানিতে নয়, সমস্যা রোগীর শরীরে লুকিয়ে থাকা জাদুতে। সঠিক আমল, রুকইয়াহ ও সতর্কতা অবলম্বন করলে এই দিনটি আপনার জাদুর শেকড় চিরতরে উপড়ে ফেলার সেরা দিন হতে পারে।

এই সমস্যা থেকে মুক্তির জন্য এবং জাদু নষ্ট করতে একটি অত্যন্ত পরীক্ষিত ও কার্যকরী রুকইয়াহর আমল রয়েছে। কুরবানির দিন সকাল থেকে নিচের আয়াতটি গভীর মনোযোগের সাথে, এর অর্থ ও তাৎপর্য অনুধাবন করে কমপক্ষে ৩০ মিনিট ধরে তিলাওয়াত করুন। যদি নিজে তিলাওয়াত করতে না পারেন বা কষ্ট হয়, তবে পরিবারের কাউকে আপনার ডান কানের কাছে উঁচু আওয়াজে পাঠ করতে বলুন:

قُلْ اِنَّ صَلَاتِيْ وَنُسُكِيْ وَمَحْيَايَ وَمَمَاتِيْ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِيْنَ ۙ

উচ্চারণ: ক্বুল ইন্না সালা-তী ওয়া নুসুকী ওয়া মাহ্ইয়া-ইয়া ওয়া মামা-তী লিল্লা-হি রব্বিল ‘আ-লামীন।

অর্থ: "বলে দাও, নিশ্চয়ই আমার নামাজ, আমার কুরবানি (যাবতীয় ইবাদত), আমার জীবন ও আমার মরণ সবই জগতসমূহের প্রতিপালক আল্লাহর জন্য।" (সূরা আল-আন‘আম: ১৬২)

এই আয়াতটি পড়ার সময় আপনার মনের মধ্যে দৃঢ়ভাবে এই নিয়ত রাখবেন যে, "হে আল্লাহ! শয়তানের নামে উৎসর্গ করার মাধ্যমে আমার ওপর যে জাদু করা হয়েছে বা আজ নতুন করে সক্রিয় হওয়ার চেষ্টা করছে, এই পবিত্র আয়াতের বরকতে আপনি তা সম্পূর্ণভাবে নষ্ট ও বাতিল করে দিন।" এই আয়াতটি জাদুর বিরুদ্ধে সরাসরি অ্যান্টি-ডোট (Anti-dote) বা প্রতিষেধক হিসেবে কাজ করে।

তিলাওয়াত শেষ হলে আপনার সামনে রাখা বিশুদ্ধ খাবার পানি ও অলিভ অয়েলের বোতলে বারবার ফুঁ দিয়ে রুকইয়াহর পানি ও তেল প্রস্তুত করুন। শরীরের যে সকল স্থানে আপনি ব্যথা, যন্ত্রণা, সুই ফোটার মতো অনুভূতি বা জ্বালাপোড়া অনুভব করছেন, সেখানে এই রুকইয়াহ করা অলিভ অয়েল আলতোভাবে, প্রয়োজনে একটু প্রেশার দিয়ে ম্যাসাজ করুন। ইনশাআল্লাহ, এতে দ্রুত উপশম হবে। আর রুকইয়াহর পানিটা সারাদিন কিছুক্ষণ পরপর অল্প অল্প করে পান করতে থাকুন।

যদি শারীরিকভাবে সম্ভব হয় এবং আপনি ভয় না পান, তবে আপনার কুরবানির পশু জবাই করার দৃশ্যটি স্বচক্ষে দেখার চেষ্টা করুন। এটি শয়তানের নামে উৎসর্গ করা পশুর মাধ্যমে যে জাদু করা হয়, তার বিপরীতে আল্লাহর নামে কুরবানির প্রতি আপনার একনিষ্ঠতা ও তাওহীদের একটি জীবন্ত সাক্ষ্য বহন করবে। জবাইয়ের সময় বেশি বেশি তাকবীর পড়ুন এবং এই মাসনুন দুআটি পাঠ করুন:

بِسْمِ اللَّهِ وَاللَّهُ أَكْبَرُ اللَّهُمَّ مِنْكَ وَلَكَ اللَّهُمَّ تَقَبَّلْ مِنِّي

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহি ওয়াল্লাহু আকবার, আল্লাহুম্মা মিনকা ওয়া লাকা, আল্লাহুম্মা তাকাব্বাল মিন্নি।

অর্থ: "আল্লাহর নামে, আল্লাহ সবচেয়ে মহান। হে আল্লাহ! এটি আপনার পক্ষ থেকে এবং আপনার জন্য। হে আল্লাহ! আমার পক্ষ থেকে কবুল করুন।" (সহীহ মুসলিম: ১৯৬৭)

জবাই চলাকালীন সময়ে যখন পশুর রক্ত প্রবাহিত হতে থাকবে, তখন আপনি মনে মনে আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করুন, "হে আল্লাহ! যেভাবে আপনার সন্তুষ্টির জন্য এই পশুর রক্ত প্রবাহিত হচ্ছে, আপনি ঠিক সেভাবেই আমার শরীর থেকে জাদুর প্রতিটি কণা, প্রতিটি গিট, বিষক্রিয়া এবং আমাকে কষ্ট দেওয়া জিন-শয়তানকে চিরতরে বের করে দিন।"

জবাই দেখা বা বরকতের নিয়তে কুরবানির মাংস খাওয়ার পর যদি আপনার পুরোনো সমস্যা হঠাৎ বেড়ে যায়, নতুন করে অস্বস্তি শুরু হয় বা মানসিক অস্থিরতা দেখা দেয়, তবে মোটেও ঘাবড়াবেন না। এটি মূলত জাদু নষ্ট হওয়ার পূর্বলক্ষণ। এমন পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিকভাবে সূরা আনআমের ওই ১৬২ নং আয়াতটি তিলাওয়াত করতে থাকুন, শরীরে রুকইয়াহ করা তেল ম্যাসাজ করুন এবং রুকইয়াহর পানি বেশি পরিমাণে পান করতে থাকুন। যতক্ষণ পর্যন্ত না জাদুর প্রভাবে সৃষ্ট এই প্রতিক্রিয়াগুলো সম্পূর্ণরূপে প্রশমিত হচ্ছে, ততক্ষণ ধৈর্য ধরে এই আমল চালিয়ে যান। ইনশাআল্লাহ, কিছুক্ষণের মধ্যেই সমস্যা শান্ত হয়ে আসবে।

কুরবানির যাবতীয় কাজ শেষে আপনার তৈরি করা রুকইয়াহর পানি অথবা আরাফার দিনে যদি কোনো পড়া পানি তৈরি করে থাকেন, তা দিয়ে ভালোভাবে গোসল করে নিন। সম্ভব হলে গোসলের পানিতে ৭টি বরই পাতা বেটে বা ব্লেন্ড করে মেশাবেন। তবে বরই পাতা সংগ্রহে না থাকলে শুধু রুকইয়াহর পানি দিয়েই গোসল করবেন। গোসলের সময় দৃঢ়ভাবে নিয়ত করবেন যেন জাদুর প্রভাব এবং জিন-শয়তানের আছর এই পবিত্র পানির উসিলায় আপনার শরীর থেকে ধুয়ে মুছে একদম পরিষ্কার হয়ে যায় এবং গোসলের পানির সাথে তা শরীর থেকে বেরিয়ে যায়।

ঈদের দিন থেকে শুরু করে ১৩ জিলহজ আসর পর্যন্ত প্রতিটি ফরজ সালাতের পর তাকবীরে তাশরিক পড়া আমাদের ওপর ওয়াজিব। জিন-জাদুতে আক্রান্ত একজন রোগীর জন্য এটি কেবল একটি ওয়াজিব আমলই নয়, বরং এটি একটি শক্তিশালী অতিরিক্ত সুরক্ষা বলয়। তাকবীরের শব্দে জিন ও শয়তান প্রচণ্ড কষ্ট পায়, কারণ "আল্লাহু আকবার" হলো আল্লাহর বড়ত্বের এমন এক অকাট্য ঘোষণা, যা কোনো শয়তান সহ্য করতে পারে না।

পাশাপাশি কুরবানির মাংস তিন ভাগ করে গরিব ও মিসকিনদের যে অংশটি দেবেন, তা শুধু মাংস বিতরণ হিসেবে নয়, বরং নিজের সুস্থতা ও শিফার (আরোগ্য) নিয়তে সাদাকাহ হিসেবে প্রদান করবেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

دَاوُوا مَرْضَاكُمْ بِالصَّدَقَةِ

"তোমরা তোমাদের রোগীদের সাদাকাহ দ্বারা চিকিৎসা করো।" (তাবারানী, আলবানী হাসান বলেছেন)

আরেকটি বিষয়ে অত্যন্ত সতর্ক থাকা জরুরি। আমাদের দেশের কিছু এলাকায় কুরবানির পশুর চামড়া ও হাড় দিয়ে জাদু করার জঘন্য শয়তানি কালচার প্রচলিত রয়েছে। তাই আপনার কুরবানির পশুর চামড়া ও হাড় যেন অপরিচিত বা সন্দেহজনক কারো হাতে না যায়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখবেন। চামড়া বিক্রি করলে পরিচিত ও বিশ্বস্ত ক্রেতার কাছে বিক্রি করবেন অথবা কোনো বিশ্বস্ত মাদরাসা বা ইসলামী প্রতিষ্ঠানে দান করবেন। আর হাড় যত্রতত্র না ফেলে যথাযথভাবে পরিষ্কার জায়গায় বা মাটিতে পুঁতে ফেলার ব্যবস্থা করবেন।

সবশেষে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে কথাটি মনে রাখতে হবে তা হলো— ঈদের আনন্দ বা ব্যস্ততার অজুহাতে নিজের দৈনন্দিন আমল ও রুকইয়াহ কোনোভাবেই ছেড়ে দেবেন না। ভুক্তভোগী রোগীদের পতনের সবচেয়ে বড় কারণ হলো এটিই। ঈদের এই আনন্দের দিনগুলোতে মানুষ সাধারণত আমল থেকে দূরে সরে যায় এবং এক ধরনের উদাসীনতায় ভোগে। আর শয়তান ঠিক এই সুযোগটির অপেক্ষাতেই থাকে। আপনি যদি ঈদের এই সময়ে এসে অসতর্ক হন, তবে আপনি ঠিক সেই ফাঁদেই পা দেবেন যেটা শয়তান চায়।

তাই কুরবানির দিন থেকেই আপনার সকাল-সন্ধ্যার মাসনুন আযকার, ঘরে সূরা বাকারাহর অডিও শোনা, রুকইয়াহর পানি পান করা এবং রাতে ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসী ও তিন কুল (সূরা ইখলাস, ফালাক, নাস) পড়ে দুই হাতে ফুঁ দিয়ে পুরো শরীরে বুলিয়ে নেওয়া— এই আমলগুলো কঠোরভাবে চালু রাখুন।

ইখলাস, একনিষ্ঠতা ও আল্লাহর ওপর পূর্ণ তাওয়াক্কুল রেখে এই রুকইয়াহ ও আমলগুলো চালিয়ে গেলে, আশা করা যায় শক্তিশালী জাদুগুলোও আল্লাহর হুকুমে চিরতরে ধ্বংস হয়ে যাবে বি-ইযনিল্লাহ।

আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা আমাদের কুরবানি কবুল করুন এবং আমাদের সকলকে সকল প্রকার জিন, জাদু ও বদনজরের প্রভাব থেকে পূর্ণ সুস্থতা ও সুরক্ষা দান করুন। আমীন ইয়া রাব্বাল আলামিন

C রাকি আব্দুল মালেক হাফিজাহুল্লাহ
#কোরবানি_ঈদুল_আজহা_রুকইয়াহ_হিজামা_জিন_যাদু_বদ_নজর_হিংসা_গাজিপুর_জেলা

23/05/2026

সাহসীকতার পরিচয় দিয়েছে।
খুলনা কোর্টে শিশু ধর্ষণ কারীকে আদালতে তুলার সময় গুলি করে হত্যা করলো দুর্বৃত্তরা। পুলিশের গাড়ি থেকে নামানোর সময় দুর্বৃত্তরা ধর্ষণকারী লক্ষ করে গুলি করে, এসময় ধর্ষণকারীসহ আরো দুজন নিহত হয়। ধর্ষকের বিচার না পেয়ে,এখন সাধারণ জনগণই বিচার করছে...
এর পর ও ইনিয়ে বিনিয়ে বিচার লেট করলে গনতন্ত্র সংবিধানের দুহাই দিলে। পরিবেশ নিয়ন্ত্রণের বাহিরে যাবে....

ভিডিও পোস্টটি সর্বোচ্চ লাইক কমেন্ট শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন, যাতে করে এটা দেখে ধর্ষকদের অন্তরাত্মা কেঁপে উঠে।

゚viralシ

22/05/2026

নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর SAVE US এর ভিড়ে যেন রামিসার ঘটনা চাপা পড়ে না যায়!

❝ সুস্থ হওয়ার পরে টাকা দিবো… আগে বলেন সুস্থ হব তো? ❞— এই প্রশ্নটা শুনলেই মাঝে মাঝে মনে হয়, মানুষ রুকইয়াহ্-কে চিকিৎসা না,...
12/05/2026

❝ সুস্থ হওয়ার পরে টাকা দিবো… আগে বলেন সুস্থ হব তো? ❞
— এই প্রশ্নটা শুনলেই মাঝে মাঝে মনে হয়, মানুষ রুকইয়াহ্-কে চিকিৎসা না, যেন “গ্যারান্টিযুক্ত ম্যাজিক সার্ভিস” ভাবছে! 😅

আচ্ছা বাস্তবভাবে একটু চিন্তা করি—

আপনি যখন ডাক্তার দেখাতে যান, তখন কি বলেন—
❝ আগে সুস্থ করেন, তারপর ভিজিট দিবো? ❞

অপারেশনের আগে কি হাসপাতাল বলে—
❝ রোগী নিশ্চিত ভালো হবে, না হলে কোনো বিল লাগবে না? ❞

পৃথিবীর কোনো চিকিৎসা ব্যবস্থায় এই নিয়ম নেই।
কারণ চিকিৎসক চিকিৎসা করেন, কিন্তু শিফা দেন আল্লাহ।

রুকইয়াহ্-ও ঠিক তেমনই একটি শরীয়াহসম্মত চিকিৎসা মাধ্যম।
এখানে কুরআনের আয়াত, সহীহ দোয়া, অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ ও আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুলের মাধ্যমে চিকিৎসা করা হয়।

আল্লাহ তাআলা বলেন—

﴿ وَنُنَزِّلُ مِنَ الْقُرْآنِ مَا هُوَ شِفَاءٌ وَرَحْمَةٌ لِّلْمُؤْمِنِينَ ﴾
“আমি কুরআনের মধ্যে এমন বিষয় নাযিল করি যা মুমিনদের জন্য শিফা ও রহমত।”
— [সূরা আল-ইসরা: ৮২]

আরেক জায়গায় আল্লাহ বলেন—

﴿ وَإِذَا مَرِضْتُ فَهُوَ يَشْفِينِ ﴾
“আমি যখন অসুস্থ হই, তিনিই আমাকে শিফা দান করেন।”
— [সূরা আশ-শু‘আরা: ৮০]

এখন অনেকে বলেন—
❝ যারা আল্লাহর জন্য কাজ করে তারা টাকা fixed করে কেন? ❞

এই কথাটাও আবেগ দিয়ে নয়, দলিল দিয়ে বুঝতে হবে।

সহীহ বুখারীর বিখ্যাত হাদীসে এসেছে—
এক সাহাবি সূরা ফাতিহা পড়ে অসুস্থ ব্যক্তিকে আল্লাহর ইচ্ছায় শিফার মাধ্যম হন । পরে তারা পারিশ্রমিক হিসেবে ছাগল গ্রহণ করেন। বিষয়টি রাসূল ﷺ-কে জানালে তিনি তা অনুমোদন করেন।

রাসূল ﷺ বলেছেন—

❝ আল্লাহর কিতাবের বিনিময়ে পারিশ্রমিক নেওয়াই সবচেয়ে বেশি হকদার। ❞
— সহীহ বুখারী: ৫৭৩৭

অর্থাৎ শরীয়াহসম্মত রুকইয়াহ্ করে পারিশ্রমিক নেওয়া বৈধ।

আর মানুষ একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ভুলে যায়—
রুকইয়াহ্ শুধু ৫ মিনিট ফুঁ দেওয়ার নাম না।

এখানে সময় লাগে, দীর্ঘ কাউন্সেলিং থাকে,
কুরআন তিলাওয়াত থাকে, রোগীর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করতে হয়,
অনেক ক্ষেত্রে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় দিতে হয়।

এর পাশাপাশি থাকে—

✔️ সেন্টার পরিচালনার খরচ
✔️ যাতায়াত ও সফর খরচ
✔️ সহকারী বা টিম ম্যানেজমেন্ট
✔️ নিরাপদ ও শরীয়াহসম্মত পরিবেশ বজায় রাখা
✔️ রোগীর ফলোআপ ও গাইডলাইন
✔️ অভিজ্ঞতা ও দীর্ঘদিনের প্র্যাকটিস

এসব মিলিয়েই একটি সার্ভিস পরিচালিত হয়।
তাই এটাকে শুধু “টাকা নেওয়া” হিসেবে দেখাটা ইনসাফের কথা না।

তবে এটাও সত্য—
বর্তমানে কিছু ভণ্ড কবিরাজ নিজেদেরকে “রাক্বী” পরিচয় দিয়ে মানুষের সাথে ভয়ংকর প্রতারণা করছে।
কেউ তাবিজ দেয়, কেউ জ্বীনের গল্প শুনিয়ে ভয় দেখায়, কেউ শিরকি কাজ করে মানুষকে শোষণ করে।

তাই রোগীদেরও সচেতন হতে হবে। যাচাই করুন—

✔️ চিকিৎসা কুরআন-সুন্নাহ অনুযায়ী কিনা
✔️ তাবিজ, সংখ্যা বা শিরকি কিছু আছে কিনা
✔️ আকীদা সহীহ কিনা
✔️ নারী-পুরুষের পর্দা মানা হয় কিনা
✔️ “১০০% গ্যারান্টি” দেওয়া হচ্ছে কিনা

কারণ—
যে ব্যক্তি শিফার গ্যারান্টি দেয়, সে মূলত নিজের সীমা ভুলে যায়।
মুমিন চিকিৎসা নেয়, চেষ্টা করে, দোয়া করে… তারপর ফলাফল আল্লাহর উপর ছেড়ে দেয়।

সবশেষে একটা কথা—

রুকইয়াহ্ কোনো গ্যারান্টিযুক্ত ম্যাজিক না, আবার প্রতারণার জায়গাও না।
এটা কুরআন ও সহীহ দোয়ার মাধ্যমে একটি শরীয়াহসম্মত চিকিৎসা ব্যবস্থা।

চিকিৎসা নেওয়া আপনার দায়িত্ব,
আর শিফা দেওয়া একমাত্র আল্লাহর ইচ্ছা।

আল্লাহ তাআলা সকল অসুস্থ ভাই-বোনকে পূর্ণ শিফা দান করুন। আমীন।

মুফতী নিয়ামত উল্লাহ
01876702175-01918357573

রুক'ইয়াহ হোম সার্ভিস অনেকের পরিবারে জি'ন জা'দুর সমস্যা৷ একা না, সবাই কমবেশি একসাথে আ'ক্রান্ত।  অনেক ফ'কির কবি'রাজ ঘুরে, ...
11/05/2026

রুক'ইয়াহ হোম সার্ভিস
অনেকের পরিবারে জি'ন জা'দুর সমস্যা৷ একা না, সবাই কমবেশি একসাথে আ'ক্রান্ত। অনেক ফ'কির কবি'রাজ ঘুরে, লাখ লাখ টাকা খরচ করে কোন ফল নাই। তাদের সমাধান দূরে থাক, আসল সমস্যাই কখনো পর্যন্ত বের হয় নাই। অথবা অনেকবার একক রুক'ইয়াহ করলেও লাভ হচ্ছে না; পরিবার নিয়ে রুক'ইয়াহ ডায়গনোসিস করা জরুরি। তাদের জন্য রুক'ইয়াহ হোম সার্ভিস কার্যকরী মাধ্যম৷

হোম সার্ভিস রুক'ইয়াতে বাসার সবার একসাথে লক্ষণ দেখবে৷ কোর'আনের আয়াত পড়ে ক্লিয়ার হবে কার কার সমস্যা হচ্ছে একই পরিবারে, তারপর কারো সমস্যা বেশি থাকলে তাকে আলাদাভাবে গুরুত্বের সাথে পুরো ক্লিয়ার হবে; কখনোবা এক পর্যায়ে জি'ন আসলে তার থেকে জবানবন্দি নিবে। এসব মাধ্যম ব্যবহার করলে অনেকদিন ভুগতে থাকা রো'গীদের সহজে উদ্ধার করা যাবে ইনশা'আল্লাহ।

Sakina Life হোম সার্ভিস দিচ্ছে ঢাকাসহ অন্যান্য বিভাগীয় এলাকায়। তাই আপনি বাংলাদেশের যে প্রান্তেই থাকুন আমাদের অনলাইন কন্সাল্টেন্সি ও রুক'ইয়াহ হোম সার্ভিস ব্যবস্থা আছে সবসময়ের জন্য। ইনশা'আল্লাহ।

::: রুক'ইয়া হোম সার্ভিস শিডিউল এর জন্য যোগাযোগ করুন: 01918357573

🔥🔥
✨ #সাকিনা_লাইফ #রুকইয়া #রুকইয়াহ #রুকইয়া_চিকিৎসা
🕌 #ইসলামিক_চিকিৎসা #কুরআনের_শিফা #সুন্নাহ_ভিত্তিক #আল্লাহর_রহমত
⚠️ #জিনের_চিকিৎসা #যাদুর_চিকিৎসা #ব্ল্যাক_ম্যাজিক #বদনজর
💔 #বিয়ে_সমস্যা #সন্তান_সমস্যা #পারিবারিক_সমস্যা
💆‍♂️ #মানসিক_শান্তি #রোগমুক্তি #হিলিং #ইসলামিক_সেবা
📍
🚀

10/05/2026

সফর নিয়ে থাকছি কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম

#কক্সবাজার_টু_চট্টগ্রাম #চট্টগ্রাম_টু_কক্সবাজার #কক্সবাজার #চট্টগ্রাম #বাংলাদেশ #ভাইরাল #ট্রেন্ডিং

08/05/2026

জুমার নামাজ ছেড়ে দেওয়ার পরিণতি-

প্রতি সপ্তাহে একটা দিন আসে যেদিন আল্লাহ তায়ালা তাঁর বান্দাদের একসাথে ডাকেন। সেই ডাকে সাড়া দেওয়ার জন্য দোকান বন্ধ রাখতে হয়, কাজ থামাতে হয়, সব ছেড়ে মসজিদে যেতে হয়। এই ডাকটা আল্লাহর পক্ষ থেকে — আর এই ডাকে যে সাড়া দেয় না, তার পরিণতি নিয়ে নবীজি সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যা বলেছেন তা আমাদের অনেকেরই অজানা।

নবীজি সাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি অবহেলাবশত পরপর তিনটি জুমা ছেড়ে দেয়, আল্লাহ তার হৃদয়ে মোহর মেরে দেন।

(আবু দাউদ: ১০৫২, তিরমিযি: ৫০০)

হৃদয়ে মোহর মেরে দেওয়া মানে কী? মানে সেই হৃদয় আর সহজে সত্যকে গ্রহণ করতে পারে না। ভালো কথা শুনলেও ভেতরে নাড়া দেয় না, গুনাহ করলেও অনুতাপ হয় না, ধীরে ধীরে ঈমানের আলো নিভে আসতে থাকে। এই অবস্থা থেকে ফেরা কঠিন — অনেক সময় এত কঠিন যে মানুষ নিজেই বুঝতে পারে না কখন সে কতটা দূরে সরে গেছে।

আমাদের সমাজে জুমা ছেড়ে দেওয়াটা অনেকের কাছে স্বাভাবিক হয়ে গেছে। ব্যবসার চাপ আছে, অফিসের কাজ আছে, ঘুম থেকে উঠতে দেরি হয়েছে — হাজারটা কারণ। কিন্তু একটু ভাবুন, যে মানুষটা সপ্তাহের পর সপ্তাহ আল্লাহর ডাক উপেক্ষা করে যাচ্ছে, তার জীবনে বরকত থাকবে কীভাবে? রিজিকে বরকত নেই, সংসারে শান্তি নেই, মনে স্থিরতা নেই — এই সমস্যাগুলোর শিকড় অনেক সময় এখানেই।

জুমার নামাজ শুধু একটা ইবাদত না, এটা প্রতি সপ্তাহে আল্লাহর সাথে বান্দার সম্পর্ক নবায়ন করার সুযোগ। এই সুযোগ যে বারবার হাতছাড়া করে, সে আসলে নিজের অজান্তেই নিজের সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা করে ফেলছে। আজকের এই জুমা থেকেই নতুন করে শুরু করা উচিত — আল্লাহ তায়ালা তওবাকারীকে কখনো ফিরিয়ে দেন না।

08/05/2026

শিফার বাস্তবতা
— শায়খ খালিদ আল-হাবশি

ভূমিকা:
এটি চিকিৎসার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনাগুলোর একটি। কারণ শিফাই হলো চিকিৎসার মূল ভিত্তি এবং চূড়ান্ত লক্ষ্য। মানুষ এটির জন্যই চিকিৎসা খোঁজে, এর পেছনে ছোটাছুটি করে — এবং এটি অর্জন করতে গিয়ে হারাম ও শিরকে পড়ে যায়।

অত্যন্ত দুঃখজনক যে, বহু মানুষ শিফার সঠিক অর্থ বুঝতে ভুল করে। এমনকি আপনি দেখবেন — আল্লাহ কাউকে শিফা দিয়েছেন, অথচ সে নিজে এবং তার পরিবার বলছে: "এখনো সুস্থ হয়নি!" এই ভুলটি সবচেয়ে বেশি ঘটে তাদের মধ্যে যারা শিফার হাকীকত বোঝেননি।

আমরা প্রায়ই শুনি — নজর, হাসাদ, সিহর ও জিনের আছরে আক্রান্ত রোগীরা মাসের পর মাস, বছরের পর বছর রুকইয়াহ করেও সুস্থ হচ্ছেন না। এই কথা সাধারণত আসে হয় কোনো হাসাদকারীর কাছ থেকে, নয়তো এমন কোনো রোগীর পরিবার থেকে যার শিফার ইজাজত আল্লাহ এখনো দেননি, অথবা মানসিক সমস্যাগ্রস্ত কোনো রোগী থেকে, অথবা এমন কেউ যার আংশিক শিফা হয়েছে কিন্তু কিছুটা রোগ এখনো বাকি। এই বিষয়টি বিস্তারিত বোঝা দরকার।

শিফার প্রকৃত ধারণা কী?

অধিকাংশ মানুষ মনে করেন, শিফা মানে অবশ্যই ১০০% সম্পূর্ণ সুস্থতা — এটি সঠিক নয়। সম্পূর্ণ শিফা প্রতিটি রোগীর কাম্য বটে, কিন্তু এটি সবার জন্য হয় না। শিফা ১০০% হতে পারে, ৭০% হতে পারে, ৫০% হতে পারে, এমনকি ২০% পরিমাণ উন্নতিও শিফার অন্তর্ভুক্ত।

উদাহরণ ১ — পায়ের হাড় ভাঙা

কারো পায়ের হাড় ভেঙে গেলে চিকিৎসার পর —
- কারো পা আগের মতো পুরোপুরি ঠিক হয়ে যায়, কোনো পরিবর্তন থাকে না।
- কারো পায়ে সামান্য খোঁড়ামি থেকে যায়।
- কাউকে লাঠি নিয়ে চলতে হয়।

ফলাফল: তিনটি ক্ষেত্রেই শিফা হয়েছে — কিন্তু মাত্রায় ভিন্নতা আছে। প্রথমজন পূর্ণ শিফা পেয়েছেন, বাকি দুজন আংশিক।

উদাহরণ ২ — সিহর, জিনের আছর ও নজরের রোগী

- কারো সমস্ত লক্ষণ চলে যায় — ১০০% শিফা।
- কারো অনেক লক্ষণ চলে যায়।
- কারো কিছু লক্ষণে উন্নতি হয়।

ফলাফল: প্রতিটি ক্ষেত্রেই পূর্ণ বা আংশিক শিফা হয়েছে।

এই বিষয়ে রাসূলুল্লাহ ﷺ-এর শিক্ষা

রাসূলুল্লাহ ﷺ স্পষ্ট করেছেন, শিফা কখনো কখনো পূর্ণ হয়। তিনি নিজে এই দু'আ পড়তেন এবং রোগীকেও পড়তে বলতেন:

اللَّهُمَّ رَبَّ النَّاسِ مُذْهِبَ الْبَأْسِ اشْفِ أَنْتَ الشَّافِي لَا شَافِيَ إِلَّا أَنْتَ شِفَاءً لَا يُغَادِرُ سَقَمًا

"হে আল্লাহ, মানুষের রব, কষ্ট দূরকারী! তুমিই শিফা দাও — তুমিই শাফী, তুমি ছাড়া কোনো শাফী নেই। এমন শিফা দাও যা কোনো রোগ অবশিষ্ট না রাখে।"
(বুখারি ও মুসলিম)

"শিফাআন লা য়ুগাদিরু সাক্বামান"— এটি পূর্ণ শিফার দু'আ। কিন্তু এই পূর্ণ শিফা সবসময় পাওয়া যায় না।

প্রমাণ: স্বয়ং রাসূলুল্লাহ ﷺ খায়বারে ইহুদী নারী যাইনাবের বিষমিশ্রিত বকরির গোশত খাওয়ার পর সেই বিষের প্রভাবেই ইন্তেকাল করেছিলেন। তিনি বুঝতে পেরে রানটি ফেলে দিয়েছিলেন, কিন্তু বিষ শরীরে প্রবেশ করে গিয়েছিল। তিন বছর ধরে সেই বিষ কাজ করে এবং এটিই তাঁর মৃত্যুর কারণ হয়।

আয়েশা রা. বলেন, মৃত্যুশয্যায় রাসূল ﷺ বলেছিলেন:
"হে আয়েশা! খায়বারে যে খাবার খেয়েছিলাম তার ব্যথা এখনো অনুভব করছি। এই মুহূর্তে মনে হচ্ছে সেই বিষেই আমার মহাধমনী কেটে যাচ্ছে।" (বুখারি)

আরো প্রমাণ: উবাই ইবনু কা'ব রা.-কে জ্বর আজীবন ছাড়েনি — এমনকি তিনি জ্বরের মধ্যেই ইন্তেকাল করেছিলেন। তিনি নিজেই দু'আ করেছিলেন: "হে আল্লাহ, আমাকে এমন জ্বর দাও যা আমাকে তোমার পথে বের হওয়া থেকে না রাখে।" — ফলে আজীবন জ্বরে থেকেছেন।

সাহাবায়ে কেরাম রা. তায়ুন (প্লেগ) রোগে — যা জিনের আছরের একটি রূপ, রাসূল ﷺ বলেছেন "তায়ুন হলো জিন শত্রুদের কষ্ট" — তাঁরা নামাজ পড়তেন, রুকু করতেন, সিজদা করতেন, তবুও শিফা হয়নি। বরং শহীদ হিসেবে মৃত্যু হয়েছে। আবু উবাইদা ইবনুল জাররাহ, মু'আজ ইবনু জাবাল, ইয়াজিদ ইবনু আবি সুফিয়ান, ফযল ইবনু আব্বাস রা. সহ অনেক বড় সাহাবী তায়ুনে শহীদ হয়েছেন।

যে রোগের শিফা চাইছেন — সেটিই হয়তো আপনার আসল শিফার মাধ্যম

কেউ সিহর বা নজর বা জিনের আছরের কষ্ট নিয়ে শিফা চান, অথচ জানেন না — আল্লাহ এই মুসিবত দিয়েছেন তাঁকে আরো বড় রোগ থেকে সারিয়ে তুলতে।

উদাহরণ: জ্বর হলে মানুষ ভয় পান, তাপমাত্রা কমানোর চেষ্টা করেন। অথচ জ্বরে শিফা আছে। ইবনুল কায়্যিম রহ. বলেন:
"জ্বর অনেক সময় শরীরের এমন উপকার করে যা ওষুধেও সম্ভব নয়। একদিনের জ্বর অনেক জমে থাকা বিষাক্ত পদার্থ গলিয়ে দেয়, বন্ধ নালী খুলে দেয়... এবং হৃদয়কে তার ময়লা ও মরিচা থেকে পরিষ্কার করে।"

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানও বলে: বিংশ শতাব্দীর শুরু পর্যন্ত জ্বরকে চিকিৎসার উপায় হিসেবে ব্যবহার করা হতো — উপদংশ, চোখের রোগ, পক্ষাঘাত এবং আজকাল AIDS চিকিৎসায়ও জ্বর-সৃষ্টিকারী পদ্ধতির গবেষণা হয়েছে।

আল্লাহ তায়ালা বলেন:

وَلَقَدْ أَرْسَلْنَا إِلَى أُمَمٍ مِنْ قَبْلِكَ فَأَخَذْنَاهُمْ بِالْبَأْسَاءِ وَالضَّرَّاءِ لَعَلَّهُمْ يَتَضَرَّعُونَ
"আমি তোমার পূর্বের উম্মতদের কাছে রাসূল পাঠিয়েছিলাম, তারপর তাদের কষ্ট ও বিপদে ধরেছিলাম — যাতে তারা বিনীতভাবে আল্লাহর দিকে ফিরে আসে।" (সূরা আনআম: ৪২)

ظَهَرَ الْفَسَادُ فِي الْبَرِّ وَالْبَحْرِ بِمَا كَسَبَتْ أَيْدِي النَّاسِ لِيُذِيقَهُمْ بَعْضَ الَّذِي عَمِلُوا لَعَلَّهُمْ يَرْجِعُونَ
"মানুষের হাতের কামাইয়ের কারণে জলে-স্থলে ফাসাদ ছড়িয়ে পড়েছে — যাতে আল্লাহ তাদের কিছু কৃতকর্মের স্বাদ চেখাতে পারেন, হয়তো তারা ফিরে আসবে।" (সূরা রূম: ৪১)

কতো রোগী দীর্ঘদিন রুকইয়াহ প্রোগ্রামে থেকে সালাত, সূরা বাকারাহ তিলাওয়াত, কিয়ামুল লাইল, সিয়াম ও সাদাকাহ করেছেন — কিন্তু বুঝতে পারেননি যে প্রকৃত শিফা হলো আল্লাহর দিকে ফিরে আসা ও ইনাবাহ। আমরা তাদের জিজ্ঞেস করেছি: "আগে কি এভাবে ইবাদত করতেন?" উত্তর আসে: "না।" আবার জিজ্ঞেস করি: "শিফা পেলে কি এই ইবাদত চালিয়ে যাবেন?" উত্তর আসে: "পারব না।" — তাই এটিও আইম্মাগণ আগেই বলে গেছেন: কলবের শিফা দেহের শিফার চেয়ে অগ্রগণ্য।

উপসংহার:
চিকিৎসকরাই বলেন — কোনো অপারেশন বা ওষুধের শিফার হার ৫০% বা ২০% হতে পারে। ক্যান্সার রোগী অঙ্গ কেটে ফেলার পরও বলা হয় "সে সুস্থ হয়েছে" — যদিও বাকি জীবন অ্যান্টি-টিউমার ওষুধ খেতে হয়।

শিফার প্রকৃত ধারণা এটিই।

Address

জিরানী বাজার মাধবপুর গাজিপুর Dhaka
Gazipur
1346

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Sakina Life posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share

Category