17/07/2026
আশেকে রাসুলের হৃদয়ের আকুতি ও স্বপ্নের পরম প্রাপ্তি
ময়মনসিংহের ভালুকার নিবাসী আশেকে রাসুল পারভেজ ভাই একজন নিষ্ঠাবান সাধক। নিয়মিত নামাজ আদায় এবং তরিকতের আমলের মাধ্যমে তিনি নিজেকে আত্মশুদ্ধির পথে নিয়োজিত রেখেছেন। মিরপুর দরবার শরীফের সাথে তার আত্মিক সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর এবং তিনি নিয়মিত মিরপুর দরবার শরীফে আসা-যাওয়া করেন।
হৃদয় নিংড়ানো আবেদন
গত আশুরা সম্মেলনে পারভেজ ভাই শাইখুল আকবার, জামানার ইমাম ড. সৈয়দ সাঈদুর রহমান আল-মাহবুবী (মা.আ.) হুজুরের সাথে সাক্ষাৎ করেন। তখন তিনি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে শায়েখ কে বলেন, “শায়েখ, আপনার এই দরবার শরীফে এসে অগণিত মানুষ বিপদ-আপদ থেকে মুক্তি পাচ্ছে এবং রহমত লাভ করছে। আমার হৃদয়ের গভীর থেকে একটিই বাসনা—আমি যদি দয়াল নবীজির দিদার লাভ করতে পারতাম! আপনি যদি আমার জন্য আল্লাহর দরবারে একটু দোয়া করতেন, তবে মহান রাব্বুল আলামিন হয়তো আমার এই আশা কবুল করতেন।”শায়েখ বললেন ঠিক আছে নিয়মিত নামাজ ও তরিকার আমল করেন। মহান আল্লাহ যেন আপনার আশা কবুল করেন। স্বপ্নের মাধ্যমে পরম প্রাপ্তি
গত ১৪ জুলাই ২০২৬ তারিখে এশার নামাজ আদায় করে দুরুদ শরীফ পাঠ করতে করতে পারভেজ ভাই ঘুমিয়ে পড়েন। ঘুমের ঘোরে তিনি এক বিস্ময়কর আধ্যাত্মিক দৃশ্যের অবলোকন করেন। তিনি দেখেন, এক বিশাল মিছিলের অগ্রভাগে দয়াল নবীজি এবং ইমাম সাহেব চন্দ্রপুরী রহমাতুল্লাহি আলাইহি লক্ষ লক্ষ মানুষের কাফেলা নিয়ে মিরপুর দরবার শরীফে আগমন করেছেন।
দৃশ্যটি ছিল অত্যন্ত আলোকোজ্জ্বল—দয়াল নবীজি স্বয়ং শাইখুল আকবার জামানার ইমাম ড. সৈয়দ সাঈদুর রহমান আল-মাহবুবী (মা.জি.আ.) হুজুরের কুরসি মোবারকের পাশে উপস্থিত হয়েছেন। পারভেজ ভাই প্রত্যক্ষ করেন, দয়াল নবীজি এবং ইমাম সাহেব চন্দ্রপুরী (রহ.) শাইখের সাথে একাকার হয়ে গেছেন। এই দৃশ্য দেখার পর তিনি উপলব্ধি করেন যে, মিরপুর দরবার শরীফে দয়াল নবীজির আদর্শ পরিপূর্ণভাবে বিদ্যমান এবং মহান আল্লাহ তার দীর্ঘদিনের ব্যাকুল আশা কবুল করেছেন।
আত্মিক প্রশান্তি ও উপলব্ধি
এই স্বপ্ন দেখার পর থেকে দয়াল নবীজির চেহারা মোবারক তার মানসপটে প্রতিনিয়ত ভেসে উঠছে। তিনি পরম প্রশান্তি অনুভব করছেন। এই ঘটনাটি তিনি মিরপুর দরবার শরীফের মহাসচিব প্রফেসর ডক্টর সৈয়দ এ এফ এম বরকতে-এ- খোদা সাহেবের নিকট ফোনে কান্নাবিজড়িত কণ্ঠে বর্ণনা করেন।
তিনি উপলব্ধি করেন, মিরপুর দরবার শরীফে আগত মানুষজন শরীয়তের পাশাপাশি তরিকতের শিক্ষা ও সাধনার মাধ্যমে নিজেদের কলবকে আল্লাহর জিকিরে জিন্দা করতে সক্ষম হচ্ছেন। হৃদয়ের আয়না যখন জিকিরের নূরে পরিষ্কার হয়ে যায়, তখন অন্তরের চক্ষু খুলে যায়। আর তখনই মুমিন তার সাধনার স্তরে পৌঁছে দয়াল নবীজির দিদার লাভে ধন্য হয়।
রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "মান রানি ফাক্বাদ রা-আল হাক"—অর্থাৎ, "যে ব্যক্তি আমাকে দেখল, সে সত্যই আমাকে দেখল; কারণ শয়তান কখনো আমার সুরত ধারণ করতে পারে না।"
আজ মিরপুর দরবার শরীফের এই আধ্যাত্মিক পরিবেশে সাধনার মাধ্যমে পাপিষ্ঠ মানুষগুলো প্রকৃত ঈমানদার হিসেবে গড়ে উঠছে এবং নবীপ্রেমের এই সুধা পান করে ধন্য হচ্ছে।সত্য প্রচারের জন্য সকলেই লাইক, কমেন্ট, শেয়ার করবেন।
❤️❤️লেখক: মুফতি মো :বিল্লাল হোসেন রাব্বানী ❤️