04/02/2025
গাভী হিটে না আসার কারণ ও হিটে আনার উপায়( অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ)
ডেইরি খামারে এই সমস্যাটি (হিটে না আসা)একটি কমন সমস্যা।প্রতিদিন অনেক খামারি দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে জানতে চায় এই সমস্যা সমাধানের উপায়।আশা করি তাদের জন্য এই পোস্টটি একটি উপকারী পোস্ট হবে,আশা করছি অনেকের কাজে লাগবে।
গাভী হিটে না আসার কারণ ও হিটে আনার উপায় শীর্ষক আজকের আলোচনায় আপনাকে স্বাগতম। গাভী হিটে না আসার কারণ গুলো সম্পর্কে সঠিক ধারনা থাকলে আমরা সহজেই এই সমস্যা থেকে পরিত্রান পেতে পারি। গাভী হিটে আনার উপায় গুলো নিয়েও আজকে আলোচনা করবো।
গাভী/বকনা হিটে আসার সময়
একটি বকনা গরু সাধারনত ১৭-২৪ মাস অর্থাৎ ২ বছর বয়সে প্রথমবার হিটে আসে। গাভী গরু বাছুর প্রসবের ৪-৮ সপ্তাহের মধ্যেই হিটে আসে। গাভীর প্রথমবার বাছুর প্রসবের পর এসময় কিছুটা বৃদ্ধি পেতে পারে। গাভী যদি ৯০-১০০ দিনের মধ্যে আর বকনা যদি ২৪ মাসের মধ্যে হিটে না আসে তাহলে বুঝতে হবে গরুর প্রজনন স্বাস্থ্যে কোন সমস্যা হয়েছে।
গাভী হিটে না আসার কারণ
গাভী হিটে না আসার কারণ অনেকগুলো বিষয়ের সাথে যুক্ত। সামগ্রিকভাবে নিম্নোক্ত তিনটি বিষয় যুক্ত থাকে। যথাঃ
✓নিউট্রেশন সংক্রান্ত কারণ
✓রোগ ব্যাধি সংক্রান্ত কারণ
✓পরিবেশ সংক্রান্ত কারণ
#গাভী হিটে না আসার নিউট্রেশন সংক্রান্ত কারণ
বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে গাভী হিটে না আসা এবং বীজ না রাখার জন্য যত গুলো কারণ রয়েছে এর মধ্যে শতকরা ৮০ ভাগই হল নিউট্রেশনাল বা পুষ্টির অভাব জনিত কারণে। আমরা খাবারের গুনগত মান পরিক্ষা করিনা বা খাবারের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সঠিক ধারনাও নেই। এবং আমরা আমাদের ইচ্ছা মাফিক খাবার প্রদান করি। আমরা একবারও চিন্তা করিনা যে গাভীর জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টির যোগান হচ্ছে কিনা। গাভী বা বকনার শরীরে নিম্নোক্ত নিউট্রিয়েন্ট বা পুষ্টির অভাব এবং কখনো কখনো আধিক্য থাকলে গাভী হিটে আসবে না বা বীজ রাখবে না।
✓ক্যালসিয়াম
✓ফসফরাস
✓সেলিনিয়াম
✓আয়রন
✓ভিটামিন এডি৩ই
✓প্রোটিন
✓এনার্জি
#রোগ ব্যাধি সংক্রান্ত কারণ:
গাভী অধিকাংশ সময় রোগে আক্রান্ত থাকলে সে গাভী হিটে আসে না। কৃমি জনিত রোগ, ককসিডিওসিস বা আমাশয়, প্রোজনন অংগে ইনফেকশন ইত্যাদি রোগ অন্যতম।
# পরিবেশ সংক্রান্ত কারণ:
গাভীর দুধের উৎপাদন ও প্রজনন দুটোতেই পরিবেশের একটা গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রয়েছে। আলো-বাতাস কম পেলে গাভী হিটে আসেনা। একই ঘরে গাভী ও ষাঁড় পালন করলেও এই সমস্যা হয় গাভী গরুর আবাসস্থল আলো-বাতাসপূর্ণ ও আরামদায়ক হতে হবে। গাভীর হাটাচলার ব্যবস্থা থাকতে হবে। খামারের আশেপাশের পরিবেশ জীবাণুমুক্ত ও নির্মল হতে হবে।
@গাভী হিটে আনার উপায়:
গাভী হিটে আনতে প্রথমে দেখতে হবে পুষ্টিগত সমস্যা আছে কিনা। এরপর রোগ, বীজ ও পরিবেশগত বিষয় সমূহ বিবেচনা করতে হবে। গাভী গরু যদি ৮-৯ সপ্তাহেও হিটে না আসে বা গর্ভধারণ না করে তাহলে নিম্নোক্ত ব্যবস্থা গ্রহন করতে হবে।
প্রোটিন সাপ্লিমেন্ট:
উচ্চ প্রোটিন যুক্ত খাবার যেমন ফিস মিল, সয়াবিন মিল, সরিষার খৈল, নারিকেলের খৈল, তিলের খৈল, সূর্যমুখী খৈল অথবা বাজারে প্রাপ্ত প্রোটিন সাপলিমেন্ট খাবারে দিতে হবে। অতিরিক্ত সরিষার খৈল দেওয়া যাবে না এতে ইরোসিক এসিড থাকে।
মেটাবলিক এনার্জি:
আঁশ যুক্ত খাবার কমিয়ে উচ্চ এনার্জি যুক্ত খাদ্য সরবরাহ করতে হবে যাতে খাদ্যের মেটাবলিক এনার্জি বৃদ্ধি পায়। কোনো কোনো ক্ষেত্রে আঁশের পরিমাণ ১০% এ নামিয়ে আনতে হয়।
ক্যালসিযাম ও ফসফরাস /Ca + P
গাভীর শরীরের ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস এর অভাব পুরন করতে হবে। ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস এর একটি ভালো উৎস হলো ডিসিপি (ডাইক্যালসিয়াম ফসফেট) বা DCP। এছড়াও ক্যালসিয়াম, ফসফরাস ও ভিটামিম ডি৩ এর একটি ওরাল সাসপেনশন পাওয়া যায়।
ভিটামিন এ ডি ই:
ভিটামিন এ, ডি৩ ও ই এই তিনটি ভিটামিন একত্রে পাওডার, ওরাল সলুশন ও ইনজেকশন এই তিন ফর্মে বাজারে পাওয়া যায়। তবে ইনজেকশনের মাধ্যমে প্রয়োগ করলে দ্রুত ফলাফল পাওয়া যায়।
সেলেনিয়াম:
গাভী বা বকনার প্রজনন স্বাস্থ্যের জন্য অতি দরকারি একটি মিনারেলের নাম সেলিনিয়াম। বাজারে ভিটামিন-ই + সেলিনিয়াম একসাথে একটি ওরাল সিরাপ পাওয়া যায়। এটি খাওয়াতে হবে।
অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ান:
এরপরও গাভী বা বকনা হিটে না আসলে একজন অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ান দ্বারা গাভী পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে দেখতে হবে। গাভীর জরায়ুতে কোন প্রকার সমস্যা আছে কিনা, কোন প্রকার ভাইরাস বা ব্যকট্যারিয়া দ্বারা আক্রান্ত কিনা এবং জরায়ুতে চর্বি জমেছে কিনা এবং জরায়ু সঠিক স্থানে আছে কিনা।
প্রতিরোধের উপায়:
সমস্যা তৈরি হওয়ার আগে থেকেই আমাদের ব্যবস্থা নিতে হবে।
✓ গাভী বা বকনার দেহে যেনো কোনো ভিটামিন ও মিনারেলের অভাব না থাকে সেদিকে নজর রাখতে হবে।
✓গাভীর দেহে যেন প্রোটিন ও এনার্জি (শক্তি) এর অভাব না থাকে সেদিকে নজর রাখতে হবে।
✓খামারে যথেষ্ট আলো বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে।
✓গাভীকে রোগমুক্ত ও সম্পূর্ণ সুস্থ রাখতে হবে। সর্বোপরি গাভীকে পর্যাপ্ত কাঁচা ঘাস ও সঠিক মাত্রায় ভিটামিন, মিনারেল, এমাইনো এসিড, প্রোটিন ও মেটাবলিক এনার্জি সমৃদ্ধ দানাদার খাদ্য সরবরাহ করতে হবে।তবে মনে রাখবেন গরু তৃণভোজী প্রাণি, তাই গরুকে পর্যাপ্ত বিভিন্ন প্রকার কাঁচা ঘাসের ব্যবস্থা করুন তাহলে সব সমস্যা সহজেই সমাধান হবে।
সর্বোপরি একজন অভিজ্ঞ ভেটেরিনারিয়ান এর রুটিনমাফিক পরামর্শ নেয়া আবশ্যক।
(Collected and edited)