12/10/2025
মি: প্রজ্ঞা তাপস চাকমা পিটি তার আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ার নিয়ে এবং সন্তু লারমা স্যারকে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য অপপ্রচার করার বিষয়ে লিখতে বাধ্য হলাম।
প্রথমে বাস্তব জীবনের গল্প নিয়ে শুরু করলাম। আমি যখন ছোট্ট ছিলাম বাবা মায়ের স্বপ্ন ছিল আমি বড় হয়ে বিসিএস ক্যাডার, পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করে দেশের জনগণের সেবা করব।পরিবারের অর্থনৈতিক অবস্থা ও মোটামুটি ভালো ছিল। যখন ধীরে ধীরে বড় হতে শুরু করলাম। আগের মত বাবার ও অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপের দিকে যাচ্ছিল। এককথায়,নুন আনতে পান্তা ফুরিয়ে যায়। বাবার পক্ষে আমার আর ভাই বোনদের লেখাপড়া খরচ চালাতে আর পরিবারের ভরণপোষণ করতে খুব কষ্ট হচ্ছিল।বাবা ব্যাংক থেকে টাকা লোন নিল যাহাতে আমাদের এবং আমার ভাইবোনদের আর পরিবারের ভরণপোষণ করতে অসুবিধা না হয়।বাবার লোন ও দিনদিন বাড়তে থাকে আরও অনেকের কাছে বাবা লোনে জর্জরিত হলেন।কোনোরকমে আমি বিএ কমপ্লিট করি।আর পড়াশোনা করার ইচ্ছা আর বাবা মায়ের স্বপ্ন টাকার অভাবে দিনদিন স্বপ্নই স্বপ্নে রয়ে গেল।আমি পরিবারের হাল ধরার জন্য এবং আমার ভাইবোনদের খরচ বহনের জন্য,বাবার লোনের টাকা পরিশোধ করার জন্য একটা এনজিওতে জয়েন করি।আর সেই চাকরির টাকা দিয়ে সংসার চালায় এবং পরিবারের সদস্যদের ভরণপোষণ করছি। বাবা ও বৃদ্ধ হলেন।আমার ভবিষ্যৎ এবং বাবা মায়ের স্বপ্ন সেখানেই রয়ে গেলো। পরিস্থিতি অবস্থা সবসময়ই একরকম থাকেনা।
ঠিক তেমনি পার্বত্য চট্টগ্রামের পরিস্থিতি স্থান কাল পাত্রভেদে অবস্থা ও ভিন্ন।মানলাম জুম্মজাতির পিতা প্রয়াত এমএন লারমা স্যার স্বায়ত্তশাসন চেয়েছিলেন এবং আন্দোলন ও করে গেলেন জুম্মজাতিকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন। এখানে বুঝতে হবে সেসময়কার পরিস্থিতি অবস্থা আর বর্তমান পরিস্থিতি অবস্থা। তখনকার সময় সেটেলার বাঙালি বলতে নাই বললে ও চলে। সেনাবাহিনীর সংখ্যার দিকে দেখলেও খুব কম ছিল।১৯৯৭ সালে পার্বত্য চট্টগ্রামের স্থায়ী শান্তি নিরসনের জন্য, জুম্ম জনগনের অভিভাবক এবং জুম্ম জনগনের নেতৃত্ব প্রদানকারী হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির সভাপতি জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা ওরফে সম্তু লারমা স্যার ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ রাজা হেডম্যান,কার্বারীসহ এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের সাথে পার্বত্য চুক্তিতে উপনিত হয়। ১৯৯৭ সালের পার্বত্য চুক্তিতে উপনিত হওয়ার আগ পর্যন্ত পিসিজেএসএস এর পিসিপির সভাপতি ছিলেন প্রসিত বিকাশ খীসা।
এখন মূল কথায় আসি,১৯৯৬ সাল চুক্তিতে উপনিত হওয়ার আগে সন্তু স্যার প্রসিত বিকাশ খীসাকে বললেন আমাকে আরও ২/৩ শত পিসিপি কর্মী কি দিতে পারবেন প্রসিত বাবু?আমরা আরও যুদ্ধ দীর্ঘ করেই সায়ত্তশাসন ছিনিয়ে আনতাম।
উত্তরে প্রসিত খীসা বললেন: না স্যার আমার আর কোনো পিসিপি কর্মী নেই। যা ছিল সবই দিয়েছি।অর্থাৎ সেসময় প্রসিত খীসা সেনাবাহিনী আর গোয়েন্দাদের খপ্পরে পড়েছেন।অথচ সেসময় প্রসিত খীসার ৪/৫ শতাধিক কর্মী মজুদ ছিল।চুক্তির আগে থেকেই প্রসিত খীসার নেতা গিরি করার স্বপ্ন দেখতেন ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে সেনাবাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাদের সাথে এসি রুমে বসে।সেনাবাহিনী আর প্রসিত খীসা যা চিন্তা করলেন চুক্তির পরে ও তাই হলো।যা চিন্তা তাই কাজ।সেনাবাহিনী চাইছিলো জুম্মদের মধ্যে মারামারি জিইয়ে রাখা।জেএসএস এর আন্দোলন ভেঙ্গে দেয়া।ভাগ করো, শাসন করো ( Divided Rule) নীতিতে সংগঠনকে টুকরো টুকরো করা জুম্মদের দমন পীড়ন ও ধ্বংস করা।প্রসিত এবং সেনাবাহিনীর মধ্যে গোপনে একটা চুক্তি হয়। সেই গোপন চুক্তির সমঝোতা হলো সেনাবাহিনীরা প্রসিত বিকাশকে আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান বানানো স্বপ্ন দেখালেন। প্রসিতের নেতৃত্বে থাকা কর্মীদের ৫ লাখ টাকা আর একটা সরকারি চাকরি। সেজন্যই প্রসিত খীসা আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান পাবার আশায় জেএসএস মারা শুরু করেন। জুম্মদের মধ্যে মারামারিটা প্রথম ইউপিডিএফই শুরু করেছিলেন কিন্তু মনে রাখবেন। আজও জুম্মদের মধ্যে মারামারি চলমান শেষ হওয়ার কোনো ইয়ত্তা নেই।তাছাড়া পার্বত্য চুক্তি তো সন্তু স্যার একাই সিদ্ধান্ত নেন নি।সেখানে রাজা হেডম্যান, কার্বারী,সমাজের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ মিলে-মিশেই তো সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়। পিসিজেএসএস,সংস্কার, গণতান্ত্রিক চুক্তি মানলেও ইউপিডিএফ চুক্তি মানেনা কেনো?কোন দুঃখে?
প্রশ্ন করুন কেনো? পুনমারানা শাসন আর কতদিন লাগবে জনগণ জানতে চাই।
লেখক
অধিকার কর্মী
রাজ
Priyadarshi Chakma #পিটিসমর্থকগোষ্টি