03/07/2025
#আশুরার_রোযা_রাখলে_মাফ_হয়_অতীতের_এক_বছরের গুনাহ
আওয়ার ইসলাম
আগস্ট ১৫, ২০২১ ৪:৩২ অপরাহ্ণ
মুফতি মোস্তফা কামাল
- মহররমের ১০ তারিখকে আরবীতে আশুরা বলা হয়। আর আশুরার রোযা হলো, মহররমের ১০ তারিখের রোযা। এই রোযার রয়েছে অনেক গুরুত্ব ও ফজিলত।
রমজানের রোযা ফরজ হওয়ার পূর্বে আশুরার রোযা ফরজ ছিল। ২য় হিজরীতে রমজানের রোযা ফরজ হলে আশুরার রোযা নফল হয়ে যায়। তবে আশুরার রোযার ফজিলত হ্রাস পায়নি।
(সূত্র: বুখারী, হাদীস নং-২০০২)
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার রোযার অনেক গুরুত্ব দিতেন এবং তিনি সাহাবায়ে কেরামকে আশুরার রোযা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। শুধু মুসলমানই নয় তৎকালীন সময়ে ইহুদীরা পর্যন্ত আশুরার দিনে ব্যাপকভাবে রোযা পালন করতো। (সূত্র: বুখারী, হাদীস নং-২০০৪)
এক্ষেত্রে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আশুরার রোযার সাথে তার আগের কিংবা পরের আরো একদিন যুক্ত করে ২টি রোযা রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
(সূত্র: মুসনাদে আহমদ, হাদীস নং-২১৫৪)
সেই হিসেবে আমরা মহররমের ৯ ও ১০ অথবা ১০ ও ১১ দু‘টি রোযা রাখবো। অর্থাৎ আগামী ৫ ও ৬ জুলাই, শনি ও রবি অথবা ৬ ও ৭ জুলাই, রবি ও সোমবার। (সংযোজিত)
আশুরার রোযার ফজিলত
عَنْ أَبِي قَتَادَةَ ، أَنَّ النَّبِيَّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ : " صِيَامُ يَوْمِ عَاشُورَاءَ إِنِّي أَحْتَسِبُ عَلَى اللَّهِ أَنْ يُكَفِّرَ السَّنَةَ الَّتِي قَبْلَهُ "
অর্থ: হযরত আবু কাতাদা রাযি. থেকে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন, ‘আশূরা দিনের রোযার ব্যাপারে আমি আল্লাহর কাছে আশাবাদী যে, এর মাধ্যমে তিনি পূর্ববর্তী এক বছরের গোনাহ মাফ করে দিবেন।’
[সূত্র: তিরমিযি শরীফ, হাদিস নং-৭৫২,সহিহ মুসলিম, হাদীস নং-১১৬২]
শুধু আশুরার রোযা রাখা যাবে কি?
এব্যাপারে কথা হলো, ১০ই মহররমের রোযার সঙ্গে ৯ তারিখ বা ১১ তারিখের রোযা একত্র করা জরুরি নয়; বরং উত্তম এবং মুস্তাহাব।
কারণ রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে আশুরার রোযার ব্যাপারে যে ফজিলত বর্ণিত হয়েছে তা শুধু ১০ই মহররমের রোযা রাখার মাধ্যমেও অর্জিত হবে। তবে ইহুদিদের বিরোধিতা এবং তাদের সাথে বৈসাদৃশ্য সৃষ্টির লক্ষ্যে ৯/১১ তারিখে
আরেকটি রোযা রাখলে অতিরিক্ত ফজিলত পাওয়া যাবে নিঃসন্দেহে।
অতএব, যে ব্যক্তির আশুরার আগে বা পরে রোযা রাখার ক্ষমতা আছে সে যেন দুটো রোযাই পালন করে আর যার ক্ষমতা নেই বা অন্য কোনো ওজর আছে, সে যেন শুধু আশুরার রোযা রেখে অতীতের এক বছরের গোনাহের কাফফারা করে নেয়।
(সূত্র: ফাতহুল মুলহিম, খণ্ড ৩, পৃষ্ঠা- ১৪৬,ফাতাওয়ায়ে কাসেমিয়া, খণ্ড ১১, পৃষ্ঠা- ৫৯৬)
আল্লাহ রাব্বুল আলামীন আমাদেরকে আশুরার রোজা পালনের মাধ্যমে অতীতের এক বছরের গুনাহ মাফ করার তৌফিক দান করুন।
লেখক: মুফতি-জামিয়াতুল আস’আদ আল-ইসলামিয়া রামপুরা, ঢাকা।
খতীব: আটিপাড়া কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ, উত্তরখান, উত্তরা, ঢাকা।