17/09/2022
১ কেজি গরুর মাংসে ৫০ থেকে ১০০ গ্রাম যথেষ্ট। মাংসে ব্যবহার করলে অসাধারন একটা গন্ধ এবং হালকা ঝাল স্বাদের সৃষ্টি হয়।চুইঝালের সুঘ্রাণে খাবার হয়ে উঠে অতুলনীয় সুস্বাদু।
সব চুই কিন্তু এক নয়। জাত আছে। নির্ভর করে এর দাম, স্বাদে, গন্ধে।
ভারত থেকে কিছু চুই আসে। কিন্তু কোনটা আসল খুলনা-বাগেরহাট অঞ্চলের চুই তা বোঝার কয়েকটি উপায়, কোনগুলোর স্বাদ বেশি জানবেন এ ভাবে। এদিকে চুইঝাল বাণিজ্যিক চাষ হয় না। কিছু বাড়িতে যা কিছু লাগায় তা অনেকদিন হলে বিক্রি করে দেয়। দেশের মধ্যে বেশি চাষ হয় রংপুর আর সিলেট, চট্টগ্রামের পাহাড়ে। তবে স্বাদ বেশি খুলনা-বাগেরহাটের চুইঝালের।
দুটি আকারের চুই ডাল হাতে নিয়ে দেখবেন পার্থক্য।
খুলনা অঞ্চলের মাঝারি আকৃতির
যে চুইয়ের শরীরে বেশি শিকড় থাকবে সেটি খুলনা-বাগেরহাট অঞ্চলের। শিকড়গুলো হবে আবার একটু চিকন। রান্নার সময়ে খুব কম সময়ে আর সহজে গলে যাবে। স্বাদ ও ঝাঁঝ হবে লোভনীয়। গোড়ার যে অংশটুকু মাটির নিচে থাকে এর স্বাদ আবার বেশি। নরমও হয় দ্রুত। সরু, মাঝারি ও মোটা- সবগুলোতেই শিকড় বেশি থাকবে। এক গিরা থেকে আরেক গিরার ফাঁকও হবে ছোট। দাম মোটামুটি ভালো মানের কেজিপ্রতি ৬ থেকে ১২শ টাকা।
🤟রংপুরের চুইয়ে বাজার ভরা।) রংপুর থেকে যে চুই আসে তাতে শিকড় থাকে কম। আবার শিকড়গুলো একটু মোটা হয় বেশি। তুলনামূলক শক্ত ও স্বাদ, গন্ধ কম হয়। দাম কেজিপ্রতি ৩শ-৪শ টাকা হলেই পাওয়া যায়।
পাহাড়ের শিকড়হীন মোটা চুই
আরেক ধরনের চুই আসে পাহাড় থেকে।
পাহাড়ি চুইয়ের শিকড় থাকে না বললেই চলে। লম্বা ও অনেক মোটা হলেও তুলনামূলক শক্ত।
সিদ্ধ হতে দেরি হয়। নরম না হলে খেতে মজাও লাগে না।
উপকারি চুইঝাল-
* চুই গােছর ভেষজগুণ অসামান্য এবং বিস্তৃত। চুইলতার শিকড়, কাণ্ড, পাতা, ফুল ফল সব অংশই ভেষজগুণ সম্পন্ন এবং গুরুত্বপূর্ণ। অর্থাৎ পুরো গাছ উপকারি। মানব শরীরের বিভিন্ন রোগ নিবারনে এটি অনেক কার্যকর।
* গ্যাস নিবারণ,কোষ্ঠকাঠিন্য তাড়াতে,রুচি বাড়াতে,ক্ষুধামন্দা দূর করতে কার্যকর ঔষধি এটা। অর্থাৎ পাকস্থলী ও অন্ত্রের প্রদাহ সারাতে খেতে পারেন চই ঝাল।
* হিক্কার দমকে যায় যায় অবস্থা? একে নিয়ণ্ত্রণে আনতে চই ঝালের সঙ্গে মধু মিশিয়ে চিবুতে থাকুন। হেচঁকি কমে যাবে।
* সর্দির সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে মাত্র এক ইঞ্চি পরিমাণ চই ঝালের সঙ্গে আদা পিষে খেতে পারেন। সর্দি পালাবে।
* স্নায়ুবিক উত্তেজনা ও মানসিক অস্থিরতা প্রশমন করে ঘুম আনতে সহায়তা করে চই ঝাল।নিয়ম করে খেয়ে দেখুন,ঘুম বেড়ে যাবে।
* হাঁপানি,শ্বাসকষ্ট,কাশি,কফ,ডায়রিয়া,রক্তস্বল্পতা,
শারীরিক দু্র্বলতা কাটাতে অথবা শরীরের ব্যথা সারাতে খেয়ে যান চুইঝাল !
চুইঝাল পরিচিতি-
চুই লতা জাতীয় অর্থকারী ফসল হিসাবে চাষ করা যায়। চুই সাধারণত দুই প্রকার। একটির কাণ্ড আকারে বেশ মোটা, অন্যটির কাণ্ড চিকন। চুই গাছ ৮ থেকে ১০ মিটার পর্যন্ত- লম্বা হয়।
উৎপাদন পদ্ধতি
জমি ও মাটির -
দো-আঁশ ও বেলে দো-আঁশ মাটি এবং পানি নিষ্কাশনের সুবিধাযুক্ত ও ছায়াময় উঁচু জমিতে সাধারণত চুই চাষ করা হয়।
রোপনের সময়
বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ (এপ্রিল-মে) এবং আশ্বিন-কার্তিক (অক্টোবর-নভেম্বর) মাসে
ফসল সংগ্রহ-
চুই রোপণের ১ বছরের মাথায় খাওয়ার উপযোগী হয়। তবে ভাল ফলনের জন্য ৫/৬ বছরের গাছই উত্তম।
ফলন-
হেক্টর প্রতি প্রায় ২.০ থেকে ২.৫ মেঃ টন ফলন পাওয়া যায়। ৫/৬ বছরের একটি গাছ থেকে প্রায় ১০ থেকে ১৫ কেজি পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়।
ব্যবহার-
বড় মাছ, যে কোন মাংসের সাথে খাওয়া যায়। আঁশযুক্ত নরম কাণ্ডের স্বাদ ঝাল। কাঁচা কাণ্ডও অনেকে লবণ দিয়ে খেয়ে থাকেন। ছোলা ভাজি, আচার, হালিম, চটপটি, ঝালমুড়ি, চপ ও ভর্তা তৈরীতে চুইঝাল ব্যবহৃত হয়।
উপাদান-
চুই ঝালে দশমিক ৭ শতাংশ সুগন্ধী তেল রয়েছে। অ্যালকালয়েড ও পিপালারটিন আছে ৫ শতাংশ। পরিমাণ মত গ্লুকোজ, ফ্রুক্টোজ, গ্লাইকোসাইডস, মিউসিলেজ, সিজামিন, পিপলাসটেরল প্রভৃতি ও থাকে এতে। এরকাণ্ড, শিকড়, পাতা, ফুল, ফল, সব ভেষজ গুণ সম্পন্ন। শিকড়ে থাকে দশমিক ১৩ থেকে দশমিক ১৫ শতাংশ পিপারিন। এ সব উপাদান মানব দেহের জন্য খুব উপকারী।
অর্থনৈতিক চাহিদা-
নার্সারি শিল্পে চুইঝাল একটি মূল্যবান উপকরণ হিসেবে বিবেচনা করা যায়। পাহাড়ি বা দূর্গম এলাকায় চুই প্রাকৃতিক ভাবেই জন্মে।
বর্তমানে দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বিশেষ করে বৃহত্তর বরিশাল, খুলনা, ফরিদপুর অঞ্চলে চুইয়ের আবাদ এবং বাজার আছে। শুকনো এবং কাঁচা উভয় অবস্থায় চুই বিক্রি হয়। বর্তমানে প্রতি কেজি কাচা চুইঝাল লতা ৩০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। তবে শাখা ডাল থেকে শিকড়ের দাম একটু বেশি। একটি পরিবার মাত্র ২-৪ টি চুই গাছের চাষ করে নিজের পরিবারের চাহিদা মিটাতে পারেন। বাংলাদেশে মরিচের মত চুইয়ের চাষ করা সম্ভব। খুলনার চুই দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাইরে ও রপ্তানি হচ্ছে।