31/08/2026
অলমেল নিয়ে লেখাটি পড়ে দেখতে পারেন!
ছবিতে যুক্ত যে চিংড়ীগুলো দেখছেন, সেগুলো নতুন বাজারে আসা একটি প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত SPF অলমেল গলদা চিংড়ী, যেখানে মাছের কিছু ত্রুটি দেখা যাচ্ছে। উক্ত চিংড়ীগুলোর ত্রুটির সম্ভাব্য কারণ কী হতে পারে সে সম্পর্কে যা যা পরীক্ষা করা হয়েছে এবং পরীক্ষার ভিত্তিতে স্বাভাবিক পর্যবেক্ষণে আমাদের কাছে যা মনে হয়েছে তা নিচে উল্লেখ করা হলো।
প্রথমেই বলে রাখি! যুক্ত করা ছবিগুলো চিংড়ী চাষের পাঠশালা'র নিজস্ব প্রতিনিধির মাধ্যমে সরেজমিনে তোলা। পাশাপাশি, চাষকৃত জমি/প্রজেক্ট সরাসরি পর্যবেক্ষণ করার ভিত্তিতেই নিচের বিষয়গুলো উল্লেখ করা হচ্ছে।
🦐 যে জমি/প্রজেক্ট/ঘের থেকে ছবির চিংড়িগুলো স্যাম্পলিং করা হয়েছে, সেখানের তথ্য:
- মাছের বয়স: ৭০ দিন
- জায়গার পরিমাণ: ৮০ শতাংশ
- পোনা মজুত: ৭,৫০০ পিস
- সাদা মাছ: ৫০ পিস (ছোট সরপুঁটি)
- মাটির ধরন: দোআঁশ মাটি
- পানির লবণাক্ততা: ২–৩ PPT
- অ্যামোনিয়া: নেই
- পানির টোটাল হার্ডনেস: ১০০
- খাবার: ৩২% প্রোটিনসমৃদ্ধ, স্বনামধন্য একটি প্রতিষ্ঠানের ফিড
এই প্রজেক্টের বর্তমান পরিস্থিতি সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করে আমাদের কাছে মনে হয়েছে, সেখানকার মাটি ও পানিতে দৃশ্যমান কোনো উল্লেখযোগ্য সমস্যা নেই। তাছাড়াও জায়গার আয়তন অনুযায়ী চিংড়ীর মজুত ঘনত্বও স্বাভাবিক পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু উক্ত পুকুরে অধিকাংশ চিংড়ীর অ্যান্টেনা/দাঁড়ি কেটে যাওয়া এবং কিছু চিংড়ীর Shell-on Segment (মাথার উপরের খোলস) উল্টে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা গেছে! যে বিষয় নিয়ে অনেক চাষি ইতোমধ্যে বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে অভিযোগ করেছেন। তাছাড়া চিংড়ী চাষের পাঠশালা' র পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে তার সত্যতা মিলেছে এবং আমাদের কাছে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে- চিংড়ীগুলোর মধ্যে জন্মগত বা উৎপাদন পর্যায় থেকেই যে কোনো ধরনের ত্রুটি থাকতে পারে। তাই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান যদি পোনা/রেণু সরবরাহের আগে যথাযথভাবে SPF (Specific Pathogen Free) পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় মান নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করে চাষির কাছে পোনা সরবরাহ করেন তাহলে সম্ভবত এ ধরনের সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমানো যেত।
আমাদের দেশে যেকোনো ব্যবসার ক্ষেত্রেই মান নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। আর যখন কোনো পণ্যের চাহিদা সরবরাহের তুলনায় অনেক বেড়ে যায় তখন পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে পড়ে। অতি লাভের প্রত্যাশায় কিংবা চাহিদা বেশি থাকার জন্য যদি কোনো প্রতিষ্ঠান যথাযথ মান নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বাছাই প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে তাহলে তার সরাসরি ক্ষতির মুখে পড়েন সেই পণ্য ব্যবহারকারী— অর্থাৎ এই ক্ষেত্রে চাষি।
কিছু মানুষের জ্ঞাতার্থে বলতে চাই! দক্ষিণবঙ্গের চিংড়ী চাষের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের মধ্যে অধিকাংশ মানুষই প্রধান উপার্জনের মাধ্যম হিসেবে চিংড়ী চাষকে বেছে নিয়েছেন। তাছাড়াও আমাদের জানা ও মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী প্রায় ৮০% চিংড়ী চাষি বিভিন্ন NGO/সমিতি/মহাজনের কাছ থেকে উচ্চ সুদে ঋণ নিয়ে চিংড়ী চাষাবাদ করেন। তাই একজন চাষি যখন একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পোনা কিনে ঘেরে ছাড়েন তখন শুধু একজন চাষি পোনা কেনেন না—এর সঙ্গে তিনি তার সময়, শ্রম, বিনিয়োগ এবং পরিবারের ভবিষ্যতের প্রত্যাশাও যুক্ত করেন। তাই পোনা উৎপাদন ও সরবরাহের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের কাছে সকল চিংড়ী চাষির পক্ষ থেকে আমাদের বিনীত অনুরোধ— চাষির প্রত্যাশাকে সর্বচ্চ গুরুত্বে রাখুন।
বিঃদ্রঃ- এই পোস্টে নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানের নাম উল্লেখ করা হয়নি। তবে আশা করি, অনেকেই বিষয়টি সম্পর্কে ধারণা করতে পেরেছেন এবং এ বিষয়ে পূর্বেও জেনেছেন। আমাদের একটাই প্রত্যাশা— চাষি যেন তার কষ্টার্জিত অর্থ দিয়ে ভালো মানের পোনা পান এবং সুস্থ ও লাভজনক চিংড়ী চাষের সুযোগ পান। তাই পোস্টটি শেয়ার করে অলমেল গলদা চিংড়ীর রেণু উৎপাদনের সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের কাছে চাষিদের প্রত্যাশা ও বাস্তব সমস্যার কথাগুলো পৌঁছে দেওয়ার সুযোগ করে দিন! যাতে তারা ভবিষ্যতে পোনা উৎপাদনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের আবহাওয়া এবং অন্যান্য প্রতিবন্ধকতার বিষয় মাথায় রেখে পোনা উৎপাদন করেন।
ধন্যবাদ।