27/06/2024
এ বছর সাতক্ষীরার আম নিয়ে কাজ করার অভিজ্ঞতা......
মোট ৪ জন বাগানীর থেকে এ বছর আম নিয়ে কাজ করেছি।
১। নিজে বাগানে যেয়ে এক ভাইয়ের থেকে ৬ মণ আম এনেছি। যেমন কথা তেমন কাজ। আমি তার প্রতি সন্তুষ্ট এবং কৃতজ্ঞ, আলহামদুলিল্লাহ। ভাইয়ের প্রচুর প্রেসার থাকায় খুলনাতে বাসে করে আম পাঠাতে পারেনি বিধায় তার সাথে শেষ পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি।
২। নিজে বাগানে যেয়ে এক আপুর থেকে ৮ মণ আম আনলাম, সেটা ভালো হওয়ায় কুরিয়ারে করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কিছু পাঠালাম, খুলনাতে বাসে করে কিছু আম আনলাম। মোট আপুর থেকে প্রায় ২৪ মণ আম এনেছি। যেমন কথা তেমন কাজ। আমি খুবই খুশি আপুর সাথে কাজ করে। আপুর থেকে সব রকম সাহায্য সহযোগিতা পেয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ।
৩। এক আপুর থেকে নিজে বাগানে যেয়ে ৩ মণ আম এনেছি। যাওয়ার আগে আমের সাইজ শুনলাম, বললো ৪-৫ টায় কেজি, ৩ টাতেও কেজি হবে। বাগানে যেয়ে দেখলাম সাইজ ও ভালো। লাইভ, ভিডিও করলাম। ছবিও তুললাম। ফেরার বেলায় বাধলো বিপত্তি। যাওয়ার আগে যে দাম শুনে গিয়েছিলাম, যাওয়ার পর শুনি অন্য দাম৷ শুরুতেই ৫০০ টাকা মণ প্রতি বেশি চাইলো। অনেক কথা বলার পর ৩০০ বেশি চাইলো, শেষ মেষ মণ প্রতি ১০০ টাকা বেশি দিয়ে আম আনলাম। এটা বড় ব্যাপার না। কাচা মাল, দাম ওঠা নামা করে। ব্যাপার হলো সাইজ নিয়ে। উনি ৩-৫ টায় কেজি বললেও দিলেন গড়ে ৬ টায় কেজি। আমি রীতিমত হতাশ। তার সাথে কথা ঐ পর্যন্তই শেষ।
৪। ইমার্জেন্সি ১ মণ আমের অর্ডার থাকায় খুলনার এক আপুর থেকে ১ মণ আম আনালাম ৩০ কেজির টাকা এডভান্স পেমেন্ট করে সাথে ১০০ টাকা অটো ভাড়া দিয়ে। বাকি ১০ কেজির টাকা ঐদিন রাতে দেওয়ার কথা ছিলো। যাই হোক বিকাল ৪ টার দিকে আম হাতে পেলাম। একটু রেস্ট নিয়ে সন্ধ্যার দিকে প্যাকেজিং করতে বসে দেখলাম ১০ কেজি আম দাগী৷ রাত ৯ টার দিকে ওনাকে জানালাম। বললাম ১০ কেজি আম ভালো হয়নি, অনেক পরিমাণে দাগী আম, রিটার্ন নিতে। আমার কথা শুনে উনি বাহানা শুরু করলো, বলে ওনার হাজবেন্ডের কাছে শুনে জানাবে আম রিটার্ন নেওয়া যাবে কিনা, আমি নেওয়ার সময় কেন দেখে নেইনি। বলেনতো খুলনার সেলারদের থেকে আম নিলে দেখার দরকার আছে কি?? আর প্রায় ২০০ পিচ আম একটা একটা করে উল্টিয়ে পালটিয়ে দেখা যায় নাকি সাথে সাথে। যাই হোক পরের দিন সকাল ১০ টা নাগাদ জানালো তার হাজবেন্ডের সাথে আরো একজন পার্টনার আছে, তারা আম রিটার্ন নিবে না আমাকে পেমেন্ট পাঠাতে। শুরু হলো ঝামেলা, কথা কাটাকাটি। ১০ কেজি আম আর রিটার্ন নিলো না, আমিও ওটা কাউকে দিলাম না। দাগী আমের সমস্যা হলো আম ভালো ভাবে পাকার আগেই দাগ হওয়া যায়গা পচতে শুরু করে। কিছু আম নিজে খেলাম আর কিছু নস্ট হয়ে গেলো।
এটা নিয়ে সপ্তাহ খানিক অনেক ঝামেলার পর ঈদের আগের দিন তাকে আবার মেসেজ দিয়ে কিছু টাকা কম নিতে বললাম, সে আবারো গড়িমসি করায় পুরো টাকাটাই বিকাশে পেমেন্ট করে দিলাম। এরপর ঈদের দিন তাকে ব্লক করে দিলাম। এমন বোনের দরকার নেই আমার। তার ব্যবহারে আমি খুবই হতাশ৷
যাই হোক, অনেক রকম সুযোগ-সুবিধার পাশাপাশি এমন কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা প্রতি বছরই থাকে। এ থেকে শিক্ষা নিয়ে এগিয়ে যেতে হবে। ভালোদের গ্রহণ করার পাশাপাশি এমন খারাপ মানুষদের বর্জন করতে হবে। আগামীবছর আপনাদের যেনো ভালো আম খাওয়াতে পারি, সকলে আমার জন্য দোয়া করবেন।