07/02/2026
📺 সিরিয়ালের নাম: নক্ষত্রকন্যা
মূলভাবনা ও লেখক: HB AKASH
প্রোডাকশন: স্টোরি লাইট
প্রযোজনা: রেহান চ্যাটার্জি
এপিসোড ২:
অন্ধকারের রাজা
মন্দিরের চারপাশে বাতাস হঠাৎ থমকে গেল।
গাছের পাতা নড়ছে না, পাখির ডাক নেই, এমনকি রাতের পোকামাকড়ের শব্দও বন্ধ।
শুধু আকাশের বুক চিরে ভেসে আসছে সেই ভয়ংকর কণ্ঠ—
“নক্ষত্রকন্যা… আমি আসছি…”
রিমুর শরীর ঠকঠক করে কাঁপছিল। সে শক্ত করে আকাশের হাত ধরে ফেলল।
“ও কে?” সে ফিসফিস করে বলল।
গুরু অগস্ত্য ধীরে বললেন,
“সে-ই তমসুর… অন্ধকারের রাজা।”
নামটা শোনামাত্র বাতাস যেন আরও ঠান্ডা হয়ে গেল।
আকাশ দাঁত চেপে বলল,
“সে নিজে খুব কমই আসে। তার মানে… পরিস্থিতি ভয়াবহ।”
রিমু অস্ফুট স্বরে বলল,
“আমি কি… ওর জন্যই জন্মেছি?”
গুরু অগস্ত্য রিমুর চোখের দিকে তাকালেন।
“হ্যাঁ। আলো আর অন্ধকারের ভারসাম্য রক্ষার জন্য।”
হঠাৎ মন্দিরের মাঝখানে আঁকা প্রাচীন চিহ্নটা জ্বলতে শুরু করল।
নীল আলো ঘুরতে ঘুরতে একটা দরজার মতো আকার নিল।
আকাশ চমকে উঠল।
“এটা তো… রাজপথের দ্বার!”
গুরু অগস্ত্য বললেন,
“তমসুর আমাদের পৃথিবীতে পুরো শক্তিতে আসতে পারে না। কিন্তু সে তোমাদের নিজের রাজ্যে টেনে নিতে পারে।”
“কোথায়?” রিমু কাঁপা গলায় জিজ্ঞেস করল।
“অন্ধকার রাজ্যে।”
বলেই কিছু বোঝার আগেই—
মাটি ফেটে গেল।
নীল আলো তাদের তিনজনকে গিলে ফেলল।
অন্ধকারের রাজ্য
রিমুর চোখ খুলতেই সে চমকে উঠল।
চারপাশ লালচে কালো আকাশ, আগুনের নদী, ভাঙা পাহাড়, আর দূরে দূরে জ্বলন্ত কঙ্কাল গাছ।
আকাশ ভারী, নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে।
“এটা… স্বপ্ন?” রিমু ফিসফিস করল।
“না,” আকাশ বলল।
“তমসুরের রাজ্য।”
দূরে বিশাল কালো দুর্গ।
তার চূড়ায় আগুনের মতো জ্বলছে এক চোখ।
গুরু অগস্ত্য কপালে ভাঁজ ফেলে বললেন,
“সে আমাদের দেখছে।”
হঠাৎ মাটির নিচ থেকে বেরিয়ে এল অন্ধকার সৈন্যরা।
ডজনখানেক।
চারপাশ ঘিরে ফেলল।
রিমুর হাত আবার আলো ছড়াতে শুরু করল।
আকাশ তার সামনে দাঁড়াল।
“আমি যতক্ষণ বেঁচে আছি, তোমাকে ছুঁতে পারবে না।”
হঠাৎ চারপাশ কেঁপে উঠল।
দুর্গের দরজা খুলে গেল।
কালো ধোঁয়ার ভেতর থেকে ধীরে ধীরে বেরিয়ে এলো সে।
লম্বা, মানুষের মতো, কিন্তু চোখ নেই—দুটো জ্বলন্ত আগুনের গোলা।
গায়ে কালো বর্ম, মাথায় কাঁটার মুকুট।
তার কণ্ঠ যেন হাজার মানুষের একসাথে কথা—
“স্বাগতম… নক্ষত্রকন্যা।”
রিমুর পা জমে গেল।
তমসুর তার দিকে তাকিয়ে (যদি তাকানো বলা যায়) বলল,
“তোমার শক্তি আমার ছিল…
কিন্তু ভাগ্য আমাকে ঠকালো।”
রিমু সাহস করে বলল,
“তুমি কে?”
তমসুর হেসে উঠল।
আকাশ কেঁপে গেল।
“আমি সেই অন্ধকার, যার ভেতর থেকে আলো জন্মায়…
আমি তমসুর।”
গুরু অগস্ত্য এগিয়ে এলেন।
“তুমি ভবিষ্যদ্বাণী জানো। সে তোমার হবে না।”
তমসুর গর্জে উঠল।
“হবে। তার রক্ত দিয়ে আমি অমর হবো।”
হঠাৎ সে হাত তুলল।
অদৃশ্য শক্তি আকাশকে ছিটকে দূরে ছুড়ে ফেলল।
“আকাশ!” রিমু চিৎকার করল।
তমসুর রিমুর সামনে এসে দাঁড়াল।
এত কাছে যে রিমু তার শরীর থেকে বের হওয়া আগুনের গন্ধ পাচ্ছে।
“তুমি আমাকে ভয় পাও?” তমসুর জিজ্ঞেস করল।
রিমুর চোখে জল।
তবুও সে বলল,
“না… আমি তোমাকে থামাবো।”
তমসুর হেসে উঠল।
“তুমি এখনও জানো না তুমি কে…”
সে আঙুল তুলল।
রিমুর কপালে ছুঁয়ে দিল।
হঠাৎ—
রিমুর চোখের সামনে ভেসে উঠল দৃশ্য:
🔥 একটা রাজপ্রাসাদ
🔥 আগুনে পুড়ছে মানুষ
🔥 এক শিশুর কান্না
🔥 আর সেই শিশুর হাতে…
নক্ষত্রচিহ্ন
রিমু চিৎকার করল।
“এইটা কী?!”
তমসুর ফিসফিস করে বলল—
“তোমার অতীত…”
ঠিক তখন গুরু অগস্ত্য মন্ত্র পড়লেন।
নীল আলো বিস্ফোরণ।
রিমু, আকাশ আর গুরু আবার আলোয় ঢেকে গেল।
রিমুর জ্ঞান ফিরল মন্দিরে।
সে হাঁপাচ্ছে।
ঘামছে।
আকাশ মাটিতে পড়ে আছে—অজ্ঞান।
গুরু অগস্ত্য কাঁপা গলায় বললেন,
“সে তোমার অতীত দেখিয়েছে…”
“আমি কী দেখেছি?” রিমু কাঁদতে কাঁদতে বলল।
গুরু অগস্ত্য চোখ নামালেন।
“তুমি যা ভাবছো, তুমি তার চেয়েও অনেক বেশি…”
ঠিক তখন—
রিমুর হাতে থাকা নক্ষত্রচিহ্নটা কালো হয়ে উঠল এক মুহূর্তের জন্য।
রিমু সেটা খেয়াল করল।
তার চোখ বড় হয়ে গেল।
“গুরু… এটা কেন কালো হলো?”
গুরু অগস্ত্য ভয়ে তাকালেন।
ফিসফিস করে বললেন—
“ও তোমার ভেতরে অন্ধকার বপন করে দিয়েছে…”
রিমু স্তব্ধ।
এপিসোড ৩ শেষ
😱🔥
রেখে গেল ভয়ংকর প্রশ্ন:
রিমুর আসল অতীত কী?
তার ভেতরে কি অন্ধকার জন্মাচ্ছে?
আকাশ কি বেঁচে থাকবে?
তমসুরের আসল পরিকল্পনা কী?
🌌 চলবে…