27/07/2026
আমার বাসায় উত্তর পশ্চিম কর্ণারের বারান্দায় পাখির জন্য খাবার ও পানির ব্যাবস্থা রেখেছি! জাতের জাত পাখি সারাদিন আসে যায় খাবার খায়। পাখির কিচিরমিচির শব্দ অন্যরকম শান্তি দেয় মনে।
ঘটনা হচ্ছে,
বাসায় আমরা লাল চাউলের ভাত খাই। আবার ব্রাউন রাইসের ভাতও খাই। এই দুটো চাউল ন্যাচারাল হওয়াতে বেছে খেতে হয়। তো গতকালই দেখলাম পাশের বাসার ভাবীর সাথে গল্প করতে করতে বউয়ে চাউল বাছতেছে। মূলত কেউ বাসায় বেড়াতে আসলেই চা নাশতা খাইয়ে বউয়ে চাউল বাছতে বসে যায়৷
চাউল নিয়ে বাছতে বসে গল্প জুড়ে দিলে দেখা যায় যে বেড়াতে আসছে চাউল সেই বেছে শেষ করেছে। বউয়ে গল্প করেই যাচ্ছে যতক্ষণ না তার চাউল বাছা অন্তত শেষ হয়। বিষয়টা আমি বুঝেও চুপচাপ থাকি কারন টেকনিকটা ধরে দিলে দেখা গেল শাস্তি হিসেবে আমাকে বাছতে না হয়।
যাই হোক গত কাল ভাবীকে দিয়ে কৌশলে সে যে চাউল বাছিয়ে রেখেছে আমি সকাল সকাল সেই চাউল পাখিদের খেতে দিয়েছি। এরপর আমি আমার কাজে বাসা থেকে বের ফিরে আসলে বউ বলতেছে ফ্রেশ হয়ে টেবিলে রাখা পনিরটা কেটে খাও আর আমাকে কয়েকটা ছবি তুলে দিও। আমি কাটাকাটি সেরে রান্না বসাবো।
পনির কেটে ছবি তুলতে বারান্দায় গিয়ে মনে পড়লো সর্বনাশ! আমি তো সকাল বেলা বেছে রাখা সব চাউল পাখিরে খেতে দিছি। পরবর্তী মহাপ্রলয় কি আসতে পারে সেটা ভেবে পনিরের ছবি তুলতে ছিলাম। এখন ফোনের স্ক্রিনে তাকিয়ে দেখি যে ছবি তুলছি তা দেখে মনে হচ্ছে আমি পনির রৌদ্রে শুকাতে দিছি!
বুঝতে পারছি আপাতত বাসায় থাকা যাবে না! কোন রকম এক টুকরা পনির হাতে আর এক টুকরা পনির মুখে নিয়ে শার্ট গায়ে পড়তে পড়তে বাসা থেকে বেরিয়ে আসছি। বাছা চাউল খুজে না পেয়ে কতক্ষণ একা একা শব্দের টর্নেডো চালিয়ে থেমে যাবে। ততক্ষণে আমার গন্তব্য আপাতত এলাকায় মন্টুর চায়ের দোকান।
এই মন্টুকে আরেকদিন পরিচয় করায় দিবোনে। এইটা কিন্তু আরেক মজার চরিত্র... ততক্ষণে পনির অর্ডার দিতে থাকেন।