05/05/2026
হাসান সাহেব জীবনে অনেক নিয়ম মেনে চলেন।
ফজরের নামাজ পড়েন। অফিসে সময়মতো যান। মিথ্যা বলেন না।
আর পেয়ারা খাওয়ার সময় — বিচি কখনো গিলেন না।
এটা তার মায়ের শেখানো নিয়ম। ছোটবেলা থেকে শুনে আসছেন — "বিচি খাস না, অ্যাপেন্ডিক্স হবে।"
৩৫ বছর ধরে প্রতিটি বিচি যত্ন করে বের করেন। বউকেও শিখিয়েছেন। বাচ্চাদেরও।
পুরো পরিবার বিচিমুক্ত পেয়ারা খায়।
একদিন বড় ছেলে জীববিজ্ঞান বই থেকে মুখ তুলে বলল —
"আব্বু, পেয়ারার বিচিতে অ্যাপেন্ডিক্স হয় না।"
হাসান সাহেব পেয়ারা থেকে চোখ তুললেন।
"কী বললি?"
"বইয়ে পড়লাম। অ্যাপেন্ডিক্সের কারণ ব্যাকটেরিয়ার ইনফেকশন বা ব্লকেজ। বিচির সাথে এর কোনো প্রমাণিত সম্পর্ক নেই।"
হাসান সাহেব বললেন, "তোর বই ভুল।"
ছেলে চুপ করে গেল।
কিন্তু হাসান সাহেব সেদিন রাতে ঘুমাতে পারলেন না।
পরদিন অফিস থেকে ফেরার পথে ডাক্তারের চেম্বারে ঢুকলেন।
"ডাক্তার সাহেব, পেয়ারার বিচি খেলে কি অ্যাপেন্ডিক্স হয়?"
ডাক্তার সরাসরি বললেন —
"না। এটা সম্পূর্ণ ভুল ধারণা। পেয়ারার বিচি এতটাই ছোট যে সহজেই হজম হয় বা বেরিয়ে যায়। বরং বিচিতে আছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফাইবার এবং প্রয়োজনীয় ফ্যাটি অ্যাসিড। বিচি ফেলে দিলে এই পুষ্টি নষ্ট হয়।"
হাসান সাহেব একটু থামলেন। তারপর বললেন —
"আচ্ছা, আরেকটা কথা। আমার স্ত্রী বলেন রাতে পেয়ারা খেলে ঠান্ডা লাগে। এটা কি সত্যি?"
ডাক্তার একটু হাসলেন।
"পেয়ারা ঠান্ডা বা গরম কোনো খাবার না। রাতে খেলে ঠান্ডা লাগার কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ নেই। অনেকে ঠান্ডা পানিতে ধুয়ে ঠান্ডা পেয়ারা খান, তখন গলায় একটু অস্বস্তি হয় — সেটাকেই মানুষ ঠান্ডা লাগা বলে প্রজন্মের পর প্রজন্ম বিশ্বাস করে আসছে। পেয়ারার কোনো দোষ নেই।"
হাসান সাহেব মাথা নাড়লেন। তারপর আরেকটা প্রশ্ন করলেন —
"আমার শাশুড়ি বলেন ডায়াবেটিস রোগীরা পেয়ারা খেতে পারবে না, সুগার বেড়ে যাবে।"
এবার ডাক্তার একটু সোজা হয়ে বসলেন।
"একদম উল্টো। পেয়ারার গ্লাইসেমিক ইনডেক্স মাত্র ১২ — যা প্রায় সব ফলের মধ্যে সবচেয়ে কম। এত কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্সের কারণে রক্তে সুগার ধীরে ধীরে যায়, হুট করে বাড়ে না। বরং ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য পেয়ারা একটি আদর্শ ফল।"
হাসান সাহেব চেয়ারে হেলান দিলেন।
মাথায় হিসাব করছেন — বিচির অপরাধ নেই, রাতে খাওয়ার অপরাধ নেই, সুগার বাড়ানোর অপরাধ নেই।
তাহলে ৩৫ বছর ধরে পেয়ারাকে দোষ দিয়ে আসছেন কেন?
বাসায় ফিরলেন।
ডাইনিং টেবিলে বউ, শাশুড়ি, তিন বাচ্চা — সবাই বসে।
হাসান সাহেব ফ্রিজ থেকে পেয়ারা বের করলেন। কাটলেন।
বিচি বের করলেন না।
সবার দিকে তাকালেন।
"আজ থেকে নতুন নিয়ম। বিচিসহ খাবে।"
বউ বললেন, "অ্যাপেন্ডিক্স হবে না?"
"হবে না।"
শাশুড়ি বললেন, "রাতে খাচ্ছ কেন, ঠান্ডা লাগবে।"
"লাগবে না।"
ছেলে বলল, "আব্বু, আমি বলেছিলাম না?"
হাসান সাহেব তার দিকে তাকালেন।
"হ্যাঁ। তোর বই ঠিকই আছে।"
পেয়ারায় যা আছে তা জানলে আরো চমকে যাবেন —
একটা মাঝারি পেয়ারায় ২২৮ মিলিগ্রাম ভিটামিন C — চারটা কমলালেবুর সমান। এই গরমে রোদে পোড়া ত্বক সারায়, শরীরের ক্লান্তি কমায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
পেয়ারার ৮০ ভাগ পানি — গরমে শরীর হাইড্রেটেড রাখে।
ফাইবার হজম ঠিক রাখে, কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে।
লাইকোপেন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট স্তন ক্যান্সার, প্রোস্টেট ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে।
পটাশিয়াম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে।
পেয়ারার পাতার রস মাসিকের ব্যথা কমায় — ওষুধের বিকল্প হিসেবে।
কতটুকু খাবেন?
প্রতিদিন ১-২টি পেয়ারা, বিচিসহ। খাওয়ার আগে ভালো করে ধুয়ে নিন।
যাদের পেটের সমস্যা বা IBS আছে — একসাথে বেশি খাবেন না। কিডনি রোগীরা ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
পেয়ারা — যার বিরুদ্ধে এত মামলা, সব মামলাই মিথ্যা।
PushtiMela পুষ্টিমেলা