14/03/2024
EX গার্লফ্রেন্ড যখন ইংলিশ ম্যাম
পর্বঃ ৩য়
MST RIYA
ক্লাস করার পরে তিনজন মিলে ক্যান্টিনে গিয়ে নাস্তা করতেছি এমন সময় মেয়েটি মানে আমার ক্রাশ আসলো😜😜😜
এসে সোজায় আমার পাশে বসলো, আমার হাত পা কাঁপতে শুরু করে দিয়েছে।আসলে মেয়েদের প্রতি আমার এলার্জি আছে,, কাছে থাকলেই কেমন জানি ভয় ভয় লাগে🙃🙃🙃
যাইহোক, মেয়েটি কে আমার পাশে বসতে দেখে রাফি আর সিফাত অন্য টেবিলে বসলো।
আমার হাত কাঁপছে দেখে মেয়েটি বললঃ এই যে,মশাই কাপতেছো কেন???
আমিঃ কই নাতো,,,(সত্যি টা বললে মান সম্মান আর থাকবে না)
মেয়েটিঃ বাই দা ওয়ে,, তোমার নাম কি?
আমিঃ ইমরান মাহমুদ । আপনার?
মেয়েটিঃ সামিয়া জাহান।
আমিঃ আহা কি নামরে যেমন চেহারা তেমন নাম।আবার ক্রাশ খেলাম,,(বিড়বিড় করে)
সামিয়াঃ কিছু বললে।
আমিঃ কইইই না নাতো।
সামিয়াঃ তোমার নাম্বার দেও।
আমিঃহোয়াট,,, আমি কেন আপনার মতো ডাইনিকে নাম্বার দিতে যাবো। আমাকে কি ঐ রকম ছেলে মনে হয়,,।( ভাব নিয়ে)
সামিয়াঃ কি বললি,😠😠😠😠
আমিঃকইই কিছু না।এই নিন নাম্বার,০১৭৬৪৪৯****
( এহেরে ভাব নিতে যাইয়ে একটু বেশি রাগাইয়া ফেলেছি,,)
সামিয়াঃ আর শোন কোন মেয়ের সাথে কথা বলবি না এবং চোখ তুলে তাকাবি না।
আমিঃ ঠিক আছে আপু।
সামিয়াঃ আপু বলে ডাকবি না।বুঝলি??
আমিঃ তাহলে কি বলবো।
সামিয়াঃ নাম ধরে ডাকবি।
আমিঃ ঠিক আছে।
সামিয়া কে বিদায় দিয়ে রাফি দের টেবিলে দেখি ওরা দুজন নাই,,
আমি বিল দিতে চাইলে বলল, সামিয়া নাকি দিয়ে গেছে।
ক্যাম্পাসের বকুল গাছের নিচে দেখি ওরা দুজন বসে আছে।
ওদের কাছে যাতেই রাফি বললঃ মামা এতো দেরী হলো কেন?
আমি ওদের কে সব কিছু বললাম।
সিফাতঃ মামা সামিয়া আপি মনে হয় তোকে ভালোবাসে।
আমিঃ তাই যেন হয় মামা দোয়া কর।
ওদের সাথে কিছুক্ষণ আড্ডা দেওয়ার পর বাসায় আসলাম।
রুটিং অনুযায়ী আবার সন্ধ্যায় আম্মু ঘুম থেকে জাগিয়ে দিলো।
ফ্রেশ হয়ে নাস্তা করে একটু ঘুরাঘুরি করতেই আজান দিলো।
নামাজ পড়ে বাসায় এসে পড়তে বসলাম।রাতে ডিনার করে ঘুমাতে যাবো এমন সময় ফোনটা বেজে উঠলো।
দেখি অপরিচিত নাম্বার থেকে ফোন এসেছে। প্রথমে ধরলাম না।পরে আবার দিলো ধরলাম না।
আবার দিলো এবার ধরলাম,,,
আমিঃ আসসালামুয়ালাইকুম।কে বলতেছেন?
অপরিচিতঃ ওয়ালাইকুমুস সালাম। আমি সামিয়া।
আমিঃ এতো রাতে কি জন্য ফোন দিয়েছেন?
সামিয়াঃ কথা বলার জন্য।
আমিঃ আজব তো,
সামিয়াঃ ওসব বাদ দাও। ডিনার করেছো?
আমিঃ হ্যাঁ। আপনি করেছেন?
সামিয়াঃ হুমম।
এভাবে কিছুক্ষণ কথা বলে রেখে দিলাম।
পরের দিন ক্যাম্পাসে বসে তিনজন মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম এমন সময় একটা মেয়ে এসে বললো,,,,,
তিনজন মিলে আড্ডা দিচ্ছিলাম এমন সময় একটা মেয়ে এসে জিজ্ঞাসা করলোঃ ভাইয়া অনার্স ফার্স্ট ইয়ারের রুম কোনটি?
আমিঃ তুমি নতুন নাকি?
মেয়েটিঃ হ্যাঁ।
রাফিঃ আমরাও সেম ইয়ার।
মেয়েটিঃ তাহলে কি আমি আপনাদের বন্ধু হতে পারি।না মানে আমি এখানে নতুন তেমন কেউ পরিচিত নেই।
আমিঃ ঠিক আছে। কিন্তু তুই করে বলতে হবে।
মেয়েটিঃ আচ্ছা।
আমিঃ তোর নাম কি?
মেয়েটিঃ মিম। তোদের?
আমিঃ ইমরান মাহমুদ ।
রাফিঃ আমি রাফি।
সিফাতঃ আমি সিফাত।
মিমঃ ক্লাসে যাবি না।
আমিঃ হুমম চল।
ক্লাস শেষে বসে থেকে চারজন আড্ডা দিচ্ছিলাম তখন সামিয়া আমার দিকে রাগি ভাবে তাকিয়ে চলে গেল।
আমি তো ভয় পেয়ে গেলাম।
যাইহোক, আড্ডা দিয়ে বাসায় গেলাম। রাতে ঘুমানোর সময় ফেসবুক লগইন করলাম।
একটু পরে সামিয়া ফোন দিলো,,
আমিঃ আসসালামুয়ালাইকুম।আপু কেমন আছেন?
সামিয়াঃ ওয়ালাইকুমুস সালাম। ওই আমি তোর কোন কালের আপু লাগি। আমাকে আর আপু ডাকি না😡😡😡😡 ( একদম রেগে)
আমিঃ ঠিক আছে।কি করতেছেন?
সামিয়াঃ বয়ফ্রেন্ডের সাথে কথা বলতেছি (অস্পষ্ট কর)
আমিঃ কীছু বললেন?
সামিয়াঃ কিছু না। ডিনার করেছো?
আমিঃ হ্যাঁ। আপনি করেছেন?
সামিয়াঃ হ্যাঁ।
কথা বলার পর ঘুমিয়ে গেলাম। সকালে ঘুম থেকে উঠে কলেজে গেলাম।
দেখি ওরা তিনজন বসে আছে। আমিও মিমের পাশে বসলাম।
চারজন মিলে কথা বলতেছি আর হাসাহাসি করতেছি।
ঠিক তখনি,কোথা থেকে সামিয়া এসে আমার শার্টের কলার ধরে টেনে নির্জনে নিয়ে গেল। আমি স্পষ্ট দেখতে পেলাম রাগে সামিয়ার চোখ লাল হয়ে গেছে।
সামিয়াঃ বল তোর এতো কেন মেয়েদের সঙ্গে হেসে হেসে কথা বলতে হয়।কই আমার সাথে তো হেঁসে হেঁসে কথা বলিস না😠😠😠
আমিঃ আপনি আমার কে যে আপনার সাথে কথা বলতে হবে।
সামিয়ার মুখ নিমিষেই মলিন হয়ে গেল।
সামিয়াঃ তুমি কি কিছুই বোঝ না।( করুন সুরে)
আমিঃ না বললে কী ভাবে বুঝবো।
সামিয়াঃ দেখো, আমি তোমাকে আমি স্পষ্ট ভাবে বলতেছি, তোমাকে অন্য কোন মেয়ের পাশে দেখলে আমার সহ্য হয়না। তোমাকে অন্য মেয়ের পাশে দেখলে আমার মনে হারানোর ভয় থাকে। এসবের কারণ কি জানো? কারণ টা হলো, আমি তোমাকে ভালবাসি। ( এক নিঃশ্বাসে)
আমিঃ এতো দেখছি মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি 😏😏😏।,(মনে মনে)
আমিঃ কবে থেকে আমাকে ভালবাসেন?
সামিয়াঃ মনে আছে, একদিন তুমি একটা এতিম খানায় গিয়েছিলে বাচ্চাদের খাবার আর পোশাক দিতে। আমিও সেখানে গিয়েছিলাম।
তোমার এই কাজ আমার খুবই ভালো লাগে।তারপর ম্যানেজারের কাছে থেকে জানতে পারি তুমি এখানে নিয়মিত আসো।তখন থেকেই তোমাকে নিয়ে ভাবতে থাকি।
তার কয়েক দিন পরে তোমাকে দেখি, একটা ভিক্ষুকে রেস্টুরেন্টে নিয়ে যাইয়ে লাঞ্চ করাতে। তারপর থেকে তোমার প্রতি আমার ভাবনা কে আরো গভীর করে তুলেছে।আর আস্তে আস্তে এই ভাবনা টাই ভালোবাসা য় পরিণত হয়েছে।আর যখন জানতে পারলাম যে তুমি এই কলেজেই তুমি ভর্তি হয়েছো।তখন,,,
চলবে.....